। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” বললে সে সময় তার প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেনঃ আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমিই মহান। আর যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু” (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক), তখন বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি এক। যখন বান্দা বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই), তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, আমি এক, আমার কোন অংশীদার নেই। যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু” (আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা’বুদ নেই, তারই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তার), তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই। যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্” (আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই), তক্ষনি আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, আমি ছাড়া (আমার সহযোগিতা ব্যতীত) অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেনঃ যে লোক রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করল, তারপর মৃত্যুবরণ করল, জাহান্নামের আগুন তাকে ভক্ষণ করবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি শুবাহ (রহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি আল-আগারর আবূ মুসলিম হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উক্ত হাদীসের মতই রিওয়ায়াত করেছেন। তবে হাদীসটি শুবাহ (রাহঃ) মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেননি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রের মতই বর্ণনা করেছেন।
উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন বিপদগ্রস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, তিনি যে বিপদে তোমাকে জড়িত করেছেন তা হতে আমাকে হিফাযাতে রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করেছেন", সে তার মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত উক্ত অনিষ্ট হতে হিফাযাতে থাকবে। তা যে কোন বিপদই হোক না কেন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৯২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। যুবাইর (রাযিঃ)-পরিবারের কোষাধ্যক্ষ আমর ইবনু দীনার বসরার অধিবাসী শাইখ (হাদীসবেত্তা), কিন্তু তিনি হাদীস শাস্ত্রে তেমন মজবুত নন। তিনি এককভাবে সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে কিছু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রাহঃ) হতেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন কেউ কোন বিপদগ্রস্ত লোক প্রত্যক্ষ করবে তখন সে মনে মনে তা হতে আল্লাহ তা'আলার নিকটে আশ্রয় চাইবে, যেন বিপদগ্ৰস্ত লোকটি তা শুনতে না পায়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন রোগাক্রান্ত বা বিপদগ্ৰস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, যিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন, তা হতে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করেছেন", সে উক্ত ব্যাধিতে কক্ষনো আক্রান্ত হবে না। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ২৭৩৭)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মাজলিসে বসে প্রয়োজন ছাড়া অনেক কথাবার্তা বলেছে, সে উক্ত মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে যদি বলেঃ ‘‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।’’ - “হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই, তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”, তাহলে উক্ত মাজলিসে তার যে অপরাধ হয়েছিল তা ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৪৩৩)। এ অনুচ্ছেদে আবূ বারযাহ ও আয়িশাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদে সুহাইলের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি অবগত হয়েছি।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রতিটি মাজলিসে হিসাব করে দেখা গেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে এক শতবার বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার তাওবা গ্রহণ কর। কারণ তুমিই তওবা কবুলকারী, ক্ষমাকারী”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮১৪)। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আবী উমার সুফইয়ান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সূক্বাহ হতে এই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদকালে এই দুআ পাঠ করতেনঃ “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু (মহান) ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবীর প্রভু এবং মহা মর্যাদাবান আরশের প্রভু"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮৩), বুখারী ও মুসলিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইবনু আবী আদী হতে, তিনি হিমাশ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি আবূল আলিয়াহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আলী (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ভয়াবহ বিপদে পড়লে আকাশের দিকে নিজ মাথা তুলে বলতেনঃ মহান আল্লাহ খুবই পবিত্র”। আর যখন তিনি আকুতি সহকারে দু’আ করতেন তখন বলতেনঃ “হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী”। অত্যন্ত দুর্বল, আলকালিমুত তায়্যিব (১১৯/৭৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। খাওলা বিনতুল হাকীম আস-সুলামিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি কোন জায়গায় অবতরণ করে বলে, “আমি আল্লাহ তা'আলার সম্পূর্ণ বাক্যের আশ্রয় প্রার্থনা করি তার সকল সৃষ্টির ক্ষতি হতে", সে উক্ত জায়গা ত্যাগ করা পর্যন্ত কোন কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৫৪৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এ হাদীস মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) ইয়াকুব ইবনুল আশাজ্জের সনদে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু আজলান হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এ হাদীস ইয়াকুব ইবনুল আশাজ্জের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) খাওলাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণনা করেছেন। ইবনু আজলানের বর্ণনার চাইতে লাইসের বর্ণনা অনেক বেশি বিশুদ্ধ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হতেন, সে সময় প্রথমে সওয়ারীতে আরোহণ করতেন, তারপর নিজের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন। অধঃস্তন বর্ণনাকারী শুবাহ আঙ্গুল উঁচু করে ইশারা করে দেখিয়েছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে প্ৰভু! সফরে তুমি আমার সঙ্গী এবং আমার (অনুপস্থিতিতে) আমার পরিবার-পরিজনের (আমার) প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! মঙ্গল সহকারে তুমি আমাদের সঙ্গী হও এবং তোমার জামানতে আমাদেরকে ফিরাও। হে আল্লাহ! মাটিকে (সফরের দীর্ঘ পথ) আমাদের জন্য সংকুচিত করে দাও এবং সফর আমাদের জন্য সহজ কর। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি সফরের ক্লান্তি হতে এবং ফিরে আসার দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমি ইবনু আবী আদী-এর হাদীস হিসেবেই জানতাম। অতঃপর তা আমার নিকট সুয়াইদ ইবনু নাসর-আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি শু’বাহ (রাহঃ) হতে এই সনদে উক্ত মর্মের মত বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। আমরা শুধু ইবনু আবী আদী হতে শুবাহর সনদে এ হাদীস অবগত হয়েছি।
। আবদুল্লাহ ইবনুস সারজিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রাওয়ানা হতেন, সে সময় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি সফরে আমার সঙ্গী এবং আমার (অনুপস্থিতিতে) আমার পরিবার-পরিজনের তুমিই (আমার) স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! আমাদের সফরে তুমি আমাদের সাথী হও এবং আমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য আমাদের প্রতিনিধি হও। হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমরা সফরের ক্লান্তি, ফিরে আসার ব্যর্থতা, প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা, নির্যাতিতের অভিশাপ এবং পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পত্তির প্রতি কু-দৃষ্টি হতে তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করি”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। অন্য এক বর্ণনায় “আল-কাওন”-এর স্থলে “আল-কাওর" এসেছে (অর্থ একই)। অর্থাৎ ঈমান হতে কুফরের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হতে আশ্রয় চাই অথবা আনুগত্যের পরিবর্তে গুনাহের দিকে প্রত্যাবর্তন। এটাকে ভাল হতে খারাপের দিকে প্রত্যাবর্তন করা বুঝায়।