। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দণ্ডায়মান হতেন তখন কিসের মাধ্যমে নামায শুরু করতেন (তাকবীরে তাহরীমার পর এবং ফাতিহার আগে কি পাঠ করতেন)? তিনি বলেন, তিনি রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দাঁড়িয়ে তা আরম্ভ করে বলতেনঃ “হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমিই মীমাংসাকারী যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আদেশবলে আমাকে সঠিক পথের হিদায়াত দান কর, তুমিই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করে থাক”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৩৫৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার চেহারা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। "আমার নামায, আমার ইবাদাত (কুরবানী ও হাজ্জ), আমার প্রাণ ও আমার মৃত্যু জগতসমূহের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার জন্যই। তার কোন শরীক নেই এবং এ (ঘোষণা দেয়ার) জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিমদের দলভুক্ত"- (সূরা আন’আম ১৬২-৬৩)। হে আল্লাহ! তুমি রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তুমিই আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার দাস। আমার নিজের উপর আমি অত্যাচার করেছি, আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে ভাল চরিত্রের পথনির্দেশ কর, তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সবচেয়ে ভাল চরিত্রের দিকে পথনির্দেশ করতে পারে না। তুমি আমার হতে মন্দ চরিত্র দূর করে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে তা দূর করতে পারে না। তোমার উপরে আমি ঈমান এনেছি। তুমি কল্যাণময়, সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি”। তারপর যখন রুকূ’ দিতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার খুশির জন্যই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাড় এবং আমার স্নায়ু তোমার জন্যই ঝুকে পড়েছে। তিনি রুকু হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমার প্রভু! আকাশমণ্ডলী ও সম্পূর্ণ জগৎসমূহ এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছু পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা এবং তুমি যা আকাঙ্ক্ষা কর সেটাও পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা”। তিনি সিজদাতে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই সাজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আম্লাম, তোমার জন্যই ইসলাম কবুল করলাম। আমার মুখমণ্ডল তার জন্য সিজদা করল। যিনি আমার চেহারা সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে সুন্দর মুখমণ্ডল দান করেছেন এবং তা ভেদ করে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা কত মহান”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝখানের সময়ে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে যা কিছু আমি করেছি, তুমি তা ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই"। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ৭৩৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে তাহাজ্জুদ) নামাযে দণ্ডায়মান হতেন তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার মুখমণ্ডল তার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমণ্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” (সূরা আন’আম ৭৯)। "আমার নামায, আমার ইবাদাত (হাজ্জ ও কুরবানী), আমার প্রাণ, আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার জন্য। তার কোন অংশীদার নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”— (সূরা আন’আম ১৬২-১৬৩)। “হে আল্লাহ! তুমিই বাদশাহ, তুমি ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই, তুমিই আমার প্রভু, আমি তোমার দাস। আমার আত্মার প্রতি আমি যুলুম করেছি এবং আমি আমার কৃত অন্যায় স্বীকার করেছি। সুতরাং আমার সকল অপরাধ তুমি ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। কেননা তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সর্বোত্তম চরিত্রের রাস্তায় পরিচালিত করতে পারে না। আমাকে অপরাধ হতে তুমি ফিরিয়ে রাখ, কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে খারাপ পথ হতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তোমার সমীপে আমি উপস্থিত, সকল সৌভাগ্য ও মঙ্গল তোমার আয়ত্তাধীন। আর খারাপের কিছুই তোমার দিকে সম্পর্কিত করা যায় না। আমি তোমার জন্যই এবং তোমার নিকটেই আমার ফিরে আসা। তুমি মঙ্গলময় ও সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তিনি রুকূ’তে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। সুতরাং আমার কান, আমার চোখ, আমার সকল হাড় ও স্নায়ুগুলো তোমার জন্যই অবনমিত”। তিনি (রুকূ’ হতে) মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! তোমার জন্য সকল প্রশংসা-আকাশ, যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এ সকল পূর্ণ পরিমাণ”। তিনি সিজদাতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি সিজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমার চেহারা তার উদ্দেশে সিজদা করল, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তাকে সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং (তা ভেদ করে) তার কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা বারাকাতময়”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে সবশেষে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য যে গুনাহ করেছি, যে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছি এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে, যা কিছু আমি (অন্যায়-অপরাধ) করেছি সে সব তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই"। সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয নামাযে দাড়াতেন তখন তার হাত দুইখানি তার কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রুকূতে যাওয়া ইচ্ছা করতেন) তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তার নামাযে কোথাও তিনি তার দু'হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সিজদা্ সেরে (দুই রাকাআত শেষে) যখন উঠে দাড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তার দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তার দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। আমার নামায, আমার ইবাদাত, আমার প্রাণ ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশে। তার কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”— (সূরা আন’আম ১৬২-১৬৩)। “হে আল্লাহ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি"। তারপর তিনি কিরআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক ও আমার হাড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার ভয়ে ভীত"। তিনি রুকু হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন"। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সিজদাতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে আমি সিজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সিজদা করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা কত বারাকাতময়"। তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা’বুদ, তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই"। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ৭২৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মতো ইমাম শাফিঈ ও আমাদের কিছু আলিম আমল করেন। ইমাম আহমাদ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করা প্রয়োজন মনে করেন না। কুফার অধিবাসী কিছু আলিম ও অপর আলিমগণ বলেন, এসব দু'আ নফল নামাযে পাঠ করবে, ফরয নামাযে নয়। আবূ ইসমাঈল আত-তিরমিয়ী (মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইউসুফ)-কে আমি বলতে শুনেছি, এ হাদীস আমি সুলাইমান ইবনু দাউদ আল-হাশিমীকে উল্লেখপূর্বক বলতে শুনেছি, এ হাদীস আমাদের কাছে যুহরী-সালিম হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত হাদীসের মতোই।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখি যে, আমি যেন একটি গাছের পেছনে নামায আদায় করছি। আমি সিজদা করলে আমার সিজদার মতো গাছটিও সিজদা করে। ঐ গাছটিকে আমি বলতে শুনলাম, “হে আল্লাহ! এ সাজদার বিনিময়ে আমার জন্য তোমার নিকট পুরষ্কার লিপিবদ্ধ কর, এর বিনিময়ে আমার একটি গুনাহ অপসারণ কর, আমার জন্য এটাকে পুঁজি হিসেবে জমা রাখ এবং এটাকে আমার পক্ষ হতে গ্রহণ কর, যেমন তুমি তোমার বান্দা দাউদ (আঃ) হতে গ্রহণ করেছিলে"। ইবনু জুরাইজ (রাহঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সিজদার আয়াত পাঠ করলেন এবং সিজদা করলেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তাকে সেই গাছের একই রকম দুআ আমি তিলাওয়াত করতে শুনলাম, যে প্রসঙ্গে আগে লোকটি তাকে জানিয়েছিল। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১০৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সনদসূত্রে জানতে পেরেছি। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত পাঠ করার পর সিজদাতে বলতেনঃ “সেই মহান সত্তার উদ্দেশে আমার মুখমণ্ডল সিজদা করল যিনি তাকে তৈরী করেছেন এবং নিজের প্রবল ক্ষমতায় তার মাঝে শোনার শক্তি ও দেখার শক্তি দান করেছেন"। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ১০৩৫), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১২৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘর হতে কেউ বাইরে রাওয়ানা হওয়াকালে যদি বলে, “আল্লাহ তা'আলার নামে, আল্লাহ তা'আলার উপরই আমি নির্ভর করলাম, আল্লাহ তা'আলার সাহায্য ব্যতীত বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই”, তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তা'আলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, (অনিষ্ট হতে) তুমি হিফাযাত অবলম্বন করেছ। আর তার হতে শাইতান দূরে সরে যায়। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৪৪৩), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৪), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৫৮/৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সূত্রেই অবগত হয়েছি।
। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হতে বাইরে রাওয়ানা হতেন তখন বলতেনঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে, আল্লাহ তা'আলার উপর আমি নির্ভর করলাম। হে আল্লাহ আমরা পদস্খলন হতে কিংবা পথভ্রষ্টতা হতে কিংবা যুলুম করা হতে কিংবা অত্যাচারিত হওয়া হতে কিংবা অজ্ঞতাবশত কারো প্রতি মন্দ আচরণ হতে বা আমাদের প্রতি কারো অজ্ঞতা প্রসূত আচরণ হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি' (রহঃ) বলেন, আমি মক্কায় পৌছালে আমার ভাই সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) আমার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তার বাবা হতে, তার দাদার সনদে আমার কাছে হাদীস রিওয়ায়াত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বাজারে প্রবেশ করে বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সকল ক্ষমতা তারই, সমস্ত প্রশংসা তার জন্য, তিনিই প্রাণ দান করেন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরজীবি, তিনি কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তার হাতেই মঙ্গল এবং তিনিই সবসময় প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতার অধিকার", তার জন্য আল্লাহ তা'আলা দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার দশ লক্ষ গুণ সম্মান বৃদ্ধি করেন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২২৩৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। এ হাদীস যুবাইর পরিবারের কোষাধ্যক্ষ আমর ইবনু দীনার সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সনদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাজারে গিয়ে বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, তিনিই সমস্ত কিছুর ক্ষমতার অধিকারী, সকল প্রশংসা তার তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন, তিনি চিরজীবি, তিনি কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তার হাতেই কল্যাণ, সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান,” আল্লাহ তা'আলা তার জন্য দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর তৈরি করেন। হাসানঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেনঃ এই আমর ইবনু দীনার বাসরার একজন আলিম। কিছু হাদীস বিশেষজ্ঞ তার সমালোচনা করেছেন। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম তায়িকী বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমার হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। এতে তিনি উমর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি।