। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হব। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১২৭, ১২৮), রাওযুন নাযীর (হাঃ ৪৩২), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৩৩৬), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন, তা হতে কেবল একটি রহমত তার সৃষ্টিকুলের মাঝে রেখেছেন, তার মাধ্যমে তারা একে অপরের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করে। আর বাকি নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৯৩, ৪২৯৪), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে সালমান ও জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সুফিয়ান আল-বাজালী (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি মুমিন বান্দা অবগত থাকত যে, কি ভীষণ শাস্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে তৈরী রয়েছে তাহলে কেউই জান্নাতে প্রবেশের, কামনা করত না। আর যদি কাফির লোক অবগত থাকত যে, আল্লাহর কাছে কি অপরিসীম দয়া রয়েছে তাহলে কেউই জান্নাতে প্রবেশে আশাহত হত না। সহীহঃ সহীহাহ (১৬৩৪), বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। উক্ত হাদীস আমরা শুধুমাত্র 'আলা ইবনু আবদুর রহমান হতে তাঁর বাবার বরাতে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে অবগত হয়েছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন, সে সময় নিজের হাতে নিজের উপর অনিবার্য করে লিখে নিয়েছেনঃ আমরা রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৮৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, সে সময় এক লোক নামায আদায় করে দু'আ করছিল এবং সে তার দু'আয় বলছিলঃ “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই, তুমি পরম অনুগ্রহকারী, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অসীম ক্ষমতাবান ও মহাসম্মানিত।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো আল্লাহ তা'আলার নিকট সে কিসের মাধ্যমে দুআ করেছে? সে আল্লাহ তা'আলার নিকটে তার মহান নাম এর মাধ্যমে দু'আ করেছে। যে নামে দুআ করা হলে তিনি তা কবুল করেন এবং ঐ নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হলে তিনি দান করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি গারীব। আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার নাক ভূলুষ্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্তু সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে “কিংবা যে কোন একজন” কথাটুকুও আছে। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৯২৭), তা’লীকুর রাগীব (২/২৮৩), নবীর উপর দরূদ পাঠের ফাযীলাত (১৬), মুসলিম হাদীসের শেষ অংশ বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। রিবঈ ইবনু ইবরাহীম হলেন ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমের ভাই। তিনি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী এবং ইনি হলেন ইবনু উলাইয়্যাহ (তার মাতার নাম)। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, কোন লোক মাজলিসে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করলে, তারপর যতক্ষণ সে উক্ত মাজলিসে অবস্থান করবে, তা যথেষ্ট হবে।
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কৃপণ সেই লোক যার কাছে আমার আলোচনা করা হয় অথচ সে আমার উপর দরূদ পড়ে না। সহীহঃ মিশকাত (৯৩৩), সালাতের ফাযীলাত (১৪/৩১-৩৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে বরফ, শিশির ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা শীতল করে দাও। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে গুনাহ হতে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপে তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করেছে।" সহীহঃ মুসলিম (২/৭৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার জন্য দু'আর দরজা খুলে দেয়া হল, মূলত তার জন্য রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হল। আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে যা কিছু কামনা করা হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা তার নিকট বেশি প্রিয়। যঈফ, মিশকাত (২২৩৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৭২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ যে বিপদ-আপদ এসেছে আর যা (এখনও) আসেনি তাতে দু'আয় কল্যাণ হয়। অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দু’আকে আবশ্যিক করে নাও। হাসান, মিশকাত (২৫৩৯) তা’লীকুর রাগীব, (২/২৭২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি আমরা শুধু আবদুর রহমান ইবনু আবু বাকর আল কুরাইশীর সুত্রেই জেনেছি। তিনি আল মাক্কী ও আল-মুলাইকী হিসেবেও পরিচিত। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। কতক হাদীসবিদ তার স্মরণশক্তির কারণে তাকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইসরাঈল এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর হতে তিনি মূসা ইবনু উকবা হতে তিনি নাফি হতে তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ .... "আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে যা কিছু চাওয়া হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা তার নিকট বেশি প্রিয়”। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনু দীনার আল-কুকী হতে তিনি ইসহাক ইবনু মানসূর আল-কূফী হতে তিনি ইসরাঈল (রহঃ) সুত্রে।
। বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের নিত্য আচরণ ও প্রথা। রাতের ইবাদাত আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, পাপকর্মের প্রতিবন্ধক, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং দেহের রোগ দূরকারী। যঈফ, ইরওয়া (৪৫২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), মিশকাত (১২২৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গারীব। কেননা এ হাদীস আমরা শুধু বিলাল (রাঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে জেনেছি। সনদসূত্রের দিক হতে এটি সহীহ নয়। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, মুহাম্মাদ আল-কুরাশী হলেন মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আশ-শামী। ইবনু আবূ কাইস হলেন মুহাম্মাদ ইবনু হাসসান এবং তার হাদীস বাদ দেয়া হয়েছে। মুআবিয়া ইবনু সালিহ (রাহঃ) এ হাদীস রবীআ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি আবূ ইদরীস আল-খাওলানী হতে তিনি আবূ উমামা (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা উহা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়নগণের অভ্যাস, আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং পাপ কর্মের প্রতিবন্ধক" আবূ ঈসা বলেন, এই বর্ণনাটি ইদরীসের সূত্রে বিলালের বর্ণনা হতে অধিকতর সহীহ। হাসান, ইরওয়া (৪৫২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), মিশকাত