حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَالِحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلاَّ كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعْنَى قَوْلِهِ تِرَةً يَعْنِي حَسْرَةً وَنَدَامَةً . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْعَرَبِيَّةِ: التِّرَةُ هُوَ الثَّأْرُ
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে সমস্ত লোক কোন দরবারে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা'আলার যিকর করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তা'আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। তিরাতুন অর্থঃ আক্ষেপ, আফসোস। কোন কোন আরবী ভাষায় পারদর্শীগণ বলেছেন, এর অর্থ প্রতিশোধ। ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব হাফস্ ইবনু উমার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ ইসহাকু বলেন, আমি আবূ মুসলিম আল-আগার-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা উভয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, অতঃপর উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি (আল্লাহ তা'আলার কাছে) কোন কিছু দুআ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার পরিপ্রেক্ষিতে তার হতে কোন অকল্যাণ প্রতিহত করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য প্রার্থনা না করে। হাসানঃ মিশকাত (হাঃ ২২৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ ও উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 3382 — Jami At Tirmidhi 48:13
হাসানহাসানহাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَطِيَّةَ اللَّيْثِيُّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكُرَبِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বিপদাপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ লাভ করতে চায় সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দের সময় বেশি পরিমাণে দুআ করে। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ৫৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহঃ-কে আমি বলতে শুনেছিঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" অতি উত্তম যিকর এবং "আলহামদু লিল্লাহ" অধিক উত্তম দুআ। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮০০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধু মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে অবগত হয়েছি। আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ মূসা ইবনু ইবরাহিম হতে হাদীসটি রিওয়য়াত করেছেন।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিটি সময়েই আল্লাহ তা'আলার যিকর করতেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া ইবনু আবী যাইদার সনদে অবগত হয়েছি। আল-বাহীর নাম ‘আবদুল্লাহ।
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখপূর্বক কারো জন্য দু'আ করলে প্রথমে তার নিজের জন্য দুআ করতেন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, গারীব সহীহ। আবূ কাতানের নাম আমর ইবনুল হাঈসাম।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করার সময় যখন তার উভয় হাত উঠাতেন, তিনি তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল মর্দন না করা পর্যন্ত নামাতেন না। যঈফ, মিশকাত (২২৪৫), ইরওয়া (৪৩৩) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় আছেঃ তার মুখমণ্ডলে না মোছা পর্যন্ত হাত দু’খানা তিনি সরিয়ে নিতেন না। আবূ ঈসা বলেন; এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাম্মদ ইবনু ঈসার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি একাকী। উপরন্ত তিনি অতিঅল্প সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী। লোকেরা তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হানজালা ইবনু আবূ সুফিয়ান আল-জুমাহী একজন বিশ্বস্ত রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির দু'আই কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলতে থাকে, দু’আ তো করলাম অথচ আমার দুআ কবুল হয়নি। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৩৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ উবাইদের নাম সাদ, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আযহারের মুক্ত খাদিম। তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)-এর খাদিম বলেও কথিত। আবদুর রহমান ইবনু আযহার হলেন আবদুর রহমান ইবনু আওফের চাচাত ভাই। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোন বান্দা এ দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে কোন কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে নাঃ “বিসমিল্লা-হিল্লায়ী লা ইয়াযুররু মা'আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরযি, ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম”। (অর্থঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে” যার নামের বারাকাতে আকাশ ও মাটির কোন কিছুই কোন অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।”) আবান (রহঃ)-এর শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। (উক্ত হাদীস রিওয়ায়াতকালে) এক লোক (অধঃস্তন বর্ণনাকারী) তার দিকে তাকাতে থাকলে তিনি তাকে বলেন, তুমি কি প্রত্যক্ষ করছো? শোন! আমি তোমার কাছে যে হাদীস রিওয়ায়াত করেছি তা অবিকল বর্ণনা করেছি। তবে আমি যেদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছি সেদিন ঐ দু'আটি পাঠ করিনি এবং আল্লাহ তা'আলা ভাগ্যের লিখন আমার উপর কার্যকর করেছেন। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলে, 'আল্লাহ তা'আলা আমার রব, ইসলাম আমার দীন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রাসূল হওয়ায় আমি সর্বান্তকরণে পরিতৃপ্ত আছি", তাকে পরিতৃপ্ত করা আল্লাহ্ তা'আলার করণীয় হয়ে যায়। যঈফ, নাকদুল কিত্তানী (৩৩৩৪) আল-কালিমুত-তায়্যিব (২৪), যঈফা (৫০২০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।