। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আমরা রাতে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তা'আলার বিশ্বজাহানও রাতে উপনীত হল। সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই"। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা হয় তিনি আরো বলেছেনঃ “রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসাও তারই। সর্ববিষয়ে তিনি সর্বশক্তিমান। (হে আল্লাহ) তোমার নিকট আমি এ রাতের মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং এ রাতের পরে নিহিত মঙ্গল কামনা করি। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাইছি এ রাতের অমঙ্গল এবং এ রাতের পরে সমস্ত অমঙ্গল হতে। তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই অলসতা ও বার্ধক্যের অনিষ্ট হতে। আমি তোমার কাছে আরো আশ্রয় চাই (জাহান্নামের) আগুনের আযাব ও কবরের শাস্তি হতে।” তিনি ভোরে উপনীত হয়েও একই দুআ করতেনঃ “আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তা'আলার বিশ্বজাহানও ভোরে উপনীত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য...। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৮২) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ (রহঃ)-ও উক্ত সনদে ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন ভোরে উপনীত হয় তখন সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং তোমার নির্দেশেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার নির্দেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।” আর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হয় তখন যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! আমরা তোমার হুকুমেই সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই সকালে উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। আবার তোমার কাছেই পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে যেতে হবে"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছুর হুকুম দিন যা আমি সকালে ও বিকেলে উপনীত হয়ে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আকাশ ও যামীনের সৃষ্টিকর্তা, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আমি আমার শরীরের ক্ষতি হতে এবং শাইতানের ক্ষতি ও শিরকি কার্যকালাপ হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এই দু’আ সকালে, বিকেলে ও শয্যা গ্রহণকালে পাঠ করবে। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২), সহীহাহ (হাঃ ২৭৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ তোমাকে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ) আমি কি বলে দিব না? তা হলঃ “হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রভু, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমাকে তুমিই সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস। যথাসাধ্য তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকারে আমি দৃঢ় থাকব। আমি আমার কার্যকলাপের খারাপ পরিণতি হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি তোমার নি’আমাতের কথা স্বীকার করি। আমি আরও স্বীকার করি আমার গুনাহের কথা। কাজেই আমার গুনাহগুলো তুমি ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ সন্ধ্যাবেলায় এ কথাগুলো বললে, তারপর ভোর হওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। একইভাবে তোমাদের কেউ ভোরবেলায় তা বললে, তারপর সন্ধ্যার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্যও জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৭৪৭), বুখারী হাদীসটি “আমি কি তোমাকে বলে দিব না" অংশটুকু ব্যতীত অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ, ইবনু উমার, ইবনু মাসউদ, ইবনু আবূযা ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুল আযীয ইবনু আবী হাযিম হলেন আবূ হাযিম আয-যাহিদের ছেলে। এ হাদীসটি শাদদাদ ইবনু আওস হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু দুআ শিখিয়ে দিব না যা তুমি বিছানাগত হওয়ার সময় পাঠ করবে? তাহলে ঐ রাতে তোমার মৃত্যু হলে ফিতরাতের (ইসলামের) উপরই মৃত্যুবরণ করবে। আর তুমি (জীবিত থাকলে) ভোরে উপনীত হলে মঙ্গল লাভ করবে। তুমি বল, “হে আল্লাহ! নিজেকে আমি তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমি আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। আমার সকল বিষয় আমি তোমার উপর সমর্পণ করলাম, তোমার রহমতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় নিয়ে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করলাম। তোমার হতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন আশ্রয়স্থল নেই। যে কিতাব তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং যে নবী প্রেরণ করেছ তার উপর আমি ঈমান এনেছি।" আল-বারাআ (রাযিঃ) বলেন, আমি (বিনাবিয়্যিকা-এর স্থলে) বিরাসূলিকাল্লায়ী আরসালতা (তুমি যে রাসূল প্রেরণ করেছ) বললাম। সে সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে নিজের হাত দিয়ে খোঁচা মেরে বললেনঃ ‘ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লায়ী আরসালতা বল। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৪১/২৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। অন্যভাবেও আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। মানসূর ইবনুল মু'তামির-সাদ ইবনু উবাইদাহ হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এতে উদ্ধৃত্ত আছেঃ “যখন তুমি বিছানাগত হওয়ার ইচ্ছা করবে, সে সময় উযূ অবস্থায় বলবে"। এ অনুচ্ছেদে রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব হাদীস।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন বিছানায় ডান কাতে শুয়ে বলেঃ “হে আল্লাহ! আমি নিজেকে পুরোপুরিভাবে তোমার নিকট সমর্পন করলাম, আমার মুখমণ্ডল তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পন করলাম, আমার সকল বিষয় তোমার উপর ছেড়ে দিলাম, তোমার থেকে আশ্রয় নেয়ার স্থান তুমি ছাড়া আর কোথাও নেই, আমি তোমার কিতাব ও তোমার রাসূলের উপর ঈমান আনলাম", সে ঐ রাতে মারা গেলে জান্নাতে যাবে। সনদ দুর্বল। “তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম" হাদীসে বর্ণিত এই অংশটুকু সহীহ হাদীসের বিরোধী। সহীহ (৩৩৯৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর হাদীস হিসাবে উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
হাদিস 3396 — Jami At Tirmidhi 48:27
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا وَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানাগত হতেন তখন (ঘুমানোর জন্য) বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, (সৃষ্টির অনিষ্ট হতে) আমাদের রক্ষা করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন (বিছানায়)। কিন্তু অনেক লোক আছে যাদের কোন রক্ষাকারী নেই এবং আশ্রয়স্থলও নেই"। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোক (শোয়ার জন্য) বিছানাগত হয়ে তিনবার বলেঃ “আমি আল্লাহ আ'আলার নিকট মাফের আবেদন করি, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, এবং তার নিকট তাওবা করি", আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমতুল্য হয়ে থাকে, যদিও তা গাছের পাতার মত অসংখ্য হয়, যদিও তা টিলার বালিরাশির সমান হয়, যদিও তা দুনিয়ার দিনসমূহের সমসংখ্যক হয়। যঈফ, আল-কালিমুত তায়্যিব (৩৯), তা’লীকুর রাগীব (১/২১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উবাইদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আল-ওয়াসসাফীর রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, সে সময় তিনি নিজের (ডান) হাত মাথার নীচে রেখে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে একত্রিত করবে অথবা পুনজীবিত করবে সেদিন আমাকে তোমার আযাব হতে হিফাযাতে রেখ।" সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ২৭৫৪), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৩৭/৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ঘুমানোর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাতের উপর মাথা রাখতেন, তারপর বলতেনঃ “হে আমার প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে উত্থিত করবে, আমাকে সেদিন তোমার শাস্তি হতে নিরাপদে রেখ।" সহীহঃ সহীহাহ আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব। সাওরী (রহঃ) উপরোক্ত হাদীস আবূ ইসহাক হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যখানে অপর কোন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেননি। এ হাদীস শুবাহ (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ উবাইদাহ ও অপর লোক হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। ইসরাঈল (রহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ইসহাক আবূ উবাইদাহ হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।