। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একখানা নতুন পোষাক পরেন এবং বলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য যিনি আমাকে পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি আমার লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছি এবং আমার জীবনকে সুসজ্জিত করেছি।” তারপর তিনি তার পুরাতন কাপড়টি দান করে দিলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পোশাক) পরে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমাকে পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি আমার লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছি এবং আমার জীবনকে (দৈহিক সৌষ্ঠব) সুসজ্জিত করেছি", তারপর নিজের পরার পুরানো বস্ত্র দান করে, সে জীবনে ও মরণে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয়ে, আল্লাহ তা'আলার হিফাজাতে এবং আল্লাহ্ তা'আলার সুরক্ষিত প্রাচীরে থাকে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৫৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আইউব (রাহঃ) উবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর হতে, তিনি আলী ইবনু ইয়ামীদ হতে, তিনি কাসিম হতে, তিনি আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গানীমাতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সাথে যায়নি এমন এক লোক বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গানীমাত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোন সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গানীমাত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাযের জামা'আতে হাযির হয়, (নামায শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ্ তা'আলার যিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গানীমাতসহ প্রত্যাবর্তনকারী। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৬৬), সহীহা (২৫৩১) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আর হাম্মাদ ইবনু আবূ হুমাইদ হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবূ হুমাইদ এবং তিনি হলেন আবূ ইবরাহীম আল-আনসারী আল-মাদীনী। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, একটি চুক্তিবদ্ধ গোলাম তার নিকটে এসে বলে, আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি। আমাকে আপনি সহযোগিতা করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব না যা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর (সাবীর) পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে তবে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম হতে বিরত রাখ বা দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ব্যতীত অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া হতে আমাকে আত্মনির্ভরশীল কর”। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/৪০), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১৪৩/৯৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি অসুস্থ (রোগাক্রান্ত) ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকটে এলেন এবং তখন আমি বলছিলামঃ “হে আল্লাহ! যদি আমার শেষ মুহূর্ত হাযির হয়ে থাকে তবে আমাকে দয়া কর, তাতে যদি দেরী থাকে তবে আমাকে উঠিয়ে দাও (সুস্থ কর), আর যদি বিপদের পরীক্ষায় ফেল তাহলে সবর দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কিভাবে বললে? তিনি তার কথার পুনরাবৃত্তি করে তাকে শুনান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পা দিয়ে তাকে আঘাত করেন এবং বলেনঃ “হে আল্লাহ! তাকে আরোগ্য দান কর, অথবা তাকে নিরাময় দান কর”। শুবার সন্দেহ (তার ঊর্ধ্বতন রাবী কোনটি বলেছেন)। আলী (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি ব্যথা অনুভব করি নাই। যঈফ, মিশকাত (৬০৯৮)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3565 — Jami At Tirmidhi 48:196
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَادَ مَرِيضًا قَالَ " اللَّهُمَّ أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ فَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন রোগীকে দেখতে গেলে বলতেনঃ “হে মানুষের প্রভু! তুমি রোগ দূর কর, তুমি সুস্থতা দান কর, তুমিই সুস্থতা দানকারী। তোমার আরোগ্যদান ব্যতীত কোন আরোগ্য নেই। তুমি এমনভাবে সুস্থতা দান কর যাতে কোন রোগই বাকি না থাকে"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিতরের নামাযে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার খুশির জন্য তোমার অখুশি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি, তোমার ক্ষমা ও অনুকম্পার জন্য তোমার শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তোমার সত্বা হতে তোমার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পরি না, তুমি তেমনি যেমন তুমি নিজের প্রশংসা করেছ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, আলী (রাযিঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি।
। মুসআব ইবনু সা'দ ও আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা প্রত্যেকে বলেন, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) নিম্নোক্ত বাক্যগুলো তার সন্তানদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে মক্তবে শিক্ষক শিশুদেরকে শিক্ষা দেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর এগুলো দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি ভীরুতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে কৃপণতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে অতি বার্ধক্যে পৌছার বয়স হতে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে দুনিয়ার ঝগড়া-বিবাদ ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই।” সহীহঃ বুখারী (২৮২২, ৬৩৬৯)। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ-দারিমী বলেন, এ হাদীসে আবূ ইসহাক আল-হামদানী (সনদে) কিছুটা গড়মিল করে ফেলেছেন। তিনি কখনো বলেন, আমর ইনু মাইমূন (রাহঃ)-উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে, আবার কখনো অপরের হতে রিওয়ায়াত করেন। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আইশা বিনতু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মহিলার ঘরে যান, যার সামনে ছিল খেজুরের অনেকগুলো বিচি অথবা নুড়ি পাথর, যার সাহায্যে সে তাসবীহ পাঠ করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়েও সহজ ও উত্তম পথ প্রসঙ্গে জানাবো না? “আল্লাহ মহাপবিত্র আকাশে তার সৃষ্টি জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ মহাপবিত্র দুনিয়াতে তার সৃষ্ট জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ তা'আলা মহাপবিত্র এতদুভয়ের মধ্যকার সৃষ্টির সমসংখ্যক, আল্লাহ তা'আলা মহাপবিত্র তিনি যে সকল প্রাণী সৃষ্টি করবেন তার সমসংখ্যক, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলা মহান, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা, অনুরূপ সংখ্যকবার আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কল্যাণ করার বা ক্ষতিসাধনের আর কোন শক্তি নেই”। মুনকার, আর রাদ্দু আলা আত-তাকীবিল হাছীস (২৩-৩২), মিশকাত (২৩১১), যঈফা (৮৩), আল কালিমুত তায়্যিব (১৩/৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং সা'দ (রাঃ)-এর হাদীস হিসেবে গারীব।
। যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা প্রতিদিন ভোরে উপনীত হলে একজন ঘোষক ডেকে বলেন, “সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ক্রটিমুক্ত আল্লাহ্ তা'আলা মহাপবিত্র ও মহিমাময়। যঈফ, যঈফা আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।