। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধ হতে ফুরসত হলে তাকে বলা হল, আপনি কাফিলার উপর হামলা করুন। কারণ তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ নেই। রাবী বলেন, আব্বাস (রাঃ) তখন কাফির কয়েদীদের সাথে আটক থাকা অবস্থায় বলেন, এটা উচিত নয়। কারণ আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে দুই দলের মধ্যে যে কোন একটির উপর বিজয়দানের প্রতিশ্রুতি করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা আপনার সাথে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তা তো তিনি আপনাকে দান করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আপনি সঠিক বলেছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (বদর যুদ্ধের দিন) মুশরিকদের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃষ্টিপাত করলেন। তারা (সংখ্যায়) ছিল এক হাজার। আর তার সাথীরা ছিলেন তিন শত দশজনের কিছু বেশি। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে মুখ করে দুই হাত তুলে তার প্রভুর নিকট দু'আ করতে লাগলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার সাথে যে ওয়াদাহ করেছিলে তা পূর্ণ কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তা দান কর যার ওয়াদাহ্ তুমি করেছ। হে আল্লাহ! যদি কতিপয় মুসলিমের এ ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস করে দাও তাহলে যমিনে তোমার ইবাদাত অনুষ্ঠিত হবে না”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে এমনভাবে তার প্রভুর নিকট ফারিয়াদ করেন, তার উভয় কাঁধ হতে তার চাদর গড়িয়ে পড়ে গেল। তখন আবূ বকর (রাযিঃ) তার কাছে এসে চাদরটি উঠিয়ে তার কাধে তুলে দিলেন এবং তার পেছন দিক হতে তাকে চেপে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী। আপনার প্রভুর সমীপে আপনার যথেষ্ট পরিমাণ ফরিয়াদ করা হয়েছে। আপনার সাথে আল্লাহ তা'আলা যে ওয়াদাহ করেছেন তা অবশ্যই তিনি পূর্ণ করবেন। এ প্রসঙ্গে বারকাতময় আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “স্মরণ কর যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন, আমি তোমাদেরকে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব" (সূরা আল-আনফাল ৯)। অতএব আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের পাঠিয়ে তাদেরকে সাহায্য করেন। হাসানঃ মুসলিম (৫/১৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। উমার (রাযিঃ)-এর এ হাদীস বিষয়ে ইকরিমা ইবনু আম্মার-আবূ যুমাইল (রাহঃ) সূত্র ব্যতীত আমাদের কিছু জানা নেই। আবূ যুমাইলের নাম সিমাক আল-হানাফী। বর্ণনাকারী (তিরমিয়ী) বলেন, এটা বদর যুদ্ধের সময়কার ঘটনা।
। আবূ বুরদা ইবনু আবূ মূসা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মাতের জন্য আমার উপর দু'টি আমান বা সুরক্ষার উপায় অবতীর্ণ করেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে হাযির থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ তা'আলা এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনারত অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দিবেন” (সূরাঃ আল-আনফাল- ৩৩)। আমি যখন চলে যাব তখন কিয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার উপায়টি রেখে যাব। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমকে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ’ বলা হয়।
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “তোমরা যথাসাধ্য তাদের মুকাবিলার জন্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে.....”(সূরা আল-আনফাল ৬০)। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখ, শক্তি হল তীর নিক্ষেপ। তিনি তিন তিনবার এ কথা বললেন। তিনি আরো বললেনঃ জেনে রেখ, আল্লাহ তা'আলা খুব শীঘ্রই দুনিয়াতে তোমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং তোমাদেরকে নিজেদের ব্যয়ভার সংকুলানের চিন্তা হতে মুক্ত করে দেয়া হবে। সুতরাং তীরন্দাজির অনুশীলন হতে তোমাদের কেউ যেন কাতর হয়ে না পড়ে। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৮১৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উসামা ইবনু যাইদ আল-লাইসী হতে সালিহ ইবনু কাইসান সূত্রে কোন কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। উকবাহ ইবনু আমির হতে আবূ উসামা এবং আরো অনেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী’র রিওয়ায়াতটি অনেক বেশি সহীহ। সালিহ ইবনু কাইসান (রহঃ) উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ)-এর সাক্ষাৎ পাননি। তবে তিনি ইবনু উমর (রহঃ)-এর সাক্ষাত পেয়েছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন। বদরের যুদ্ধের দিন যুদ্ধবন্দীদের আনা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে তোমাদের কি মত? তারপর রাবী এ হাদীসে একটি বিরাট ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুক্তিপণ আদায় বা শিরচ্ছেদ করা ছাড়া এদের মুক্তির বিকল্প কোন পথ নেই। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তবে সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। যেহেতু আমি তাকে ইসলাম প্রসঙ্গে আলোচনা করতে শুনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় নীরব থাকলেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, ঐ দিনের মত এরকম মারত্মক অবস্থা আমার আর কোন দিন ছিল না। ঐ দিন প্রতি মুহুর্তে আমার মনে হচ্ছিল, আমার মাথার উপর বুঝি আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হবে। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, এদিকে উমার (রাঃ)-এর উক্তি মুতাবেক কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “কোন নবীর জন্য উচিত নয় দেশে ব্যাপক হারে প্রতিপক্ষকে পরাজিত না করা পর্যন্ত আটক রাখা....... " (সূরাঃ আল-আনফাল- ৬৭)। যঈফ, ১৭৬৭ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবূ উবাইদা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা হতে হাদীস শুনেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী কোন উম্মাতের লোকদের জন্য গানীমাতের সম্পদ বৈধ ছিল না। আকাশ হতে আগুন অবতীর্ণ হত এবং তা পুড়িয়ে ফেলত। বর্ণনাকারী সুলাইমান আল-আমাশ বলেন, আজকের দিনে এ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ব্যতীত আর কে বলতে পারে? বাদর যুদ্ধ সংঘটিত হলে লোকেরা গানীমাতের মাল ব্যবহারে লিপ্ত হন, অথচ গানীমাতের মাল তখন পর্যন্ত তাদের জন্য বৈধ ঘোষিত হয়নি। তখন আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলার পূর্ব-বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তজ্জন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি আপতিত হত"- (সূরা আনফাল ৬৮)। সহীহঃ সহীহাহ (২১৫৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আ'মাশের হাদীস হিসেবে গারীব।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-কে বললাম, শত আয়াতের চাইতে ক্ষুদ্রতম সূরা আল-আনফালকে শত আয়াত সম্বলিত সূরা বারাআতের পূর্বে স্থাপন করতে কিসে আপনাদেরকে উদ্বুদ্ধ করল? যার ফলে আপনারা এই দুটি সূরাকে একত্রে মিলিয়ে দিলেন, অথচ উভয়ের মাঝখানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বাক্যটি লিখেননি এবং এটিকে সপ্ত দীর্ঘ সূরার মধ্যে রেখে দিয়েছেন। আপনাদের এরূপ করার কারণ কি? উসমান (রাযিঃ) বললেন, একই সময়কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অনেকগুলো সূরা অবতীর্ণ হত। অতএব তার উপর কোন আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি লেখকদের কাউকে ডেকে বলতেন, এ আয়াতগুলো অমুক সূরায় যোগ কর যাতে এই এই বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। অতএব তার উপর আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি বলতেন, ঐ সূরাতে এ আয়াতটি শামিল কর যাতে এই এই বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। সূরা আল-আনফাল ছিল মাদীনায় অবতীর্ণ প্রাথমিক সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর বারাআত ছিল (নাযিলের দিক হতে) কুরআনের শেষ দিকের সূরা। সূরা বারাআতের আলোচ্য বিষয় সূরা আল-আনফালের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। তাই আমার ধারণা হল, এটি (বারাআত) তার অন্তর্ভুক্ত। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন। অথচ তিনি আমাদের স্পষ্ট করে বলে যাননি যে, এ সূরা (বারাআত) আনফালের অন্তর্ভুক্ত কি না। তাই আমি উভয় সূরাকে একত্রে মিলিয়ে দিয়েছি এবং সূরাদুটাের মাঝখানে বিসমিল্লাহির রাহমাননির রাহীম বাক্যও লিখিনি, আর এটিকে সপ্ত দীর্ঘ সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীস শুধু ‘আওফ হতে, তিনি ইয়াযীদ আল-ফারিসী হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেই জেনেছি। ইয়াযীদ আল-ফারেসী বসরাবাসী তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত। আর ইয়াযীদ ইবনু আবান আর-রাকাশীও বাসরাবাসী তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি পূর্বোক্ত জনের চাইতে কনিষ্ঠ। ইয়াযীদ আর-রাকাশী (রাহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বাবা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও তার গুণগান বর্ণনা করলেন, ওয়াজ-নাসীহাত করলেন ও উপদেশ দিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি কোন দিনটির মর্যাদা বর্ণনা করছি, আমি কোন দিনটির মর্যাদা বর্ণনা করছি, আমি কোন দিনটির মর্যাদা ঘোষণা করছি? বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! হজ্জের মহান দিনের। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-মাল ও তোমাদের ইজ্জত-সম্মানে হস্তক্ষেপ তোমাদের উপর হারাম, যেরূপ তোমাদের এ দিনে এ শহরে ও এ মাসে হারাম। জেনে রেখ! অপরাধীই অপরাধ কর্মের জন্য দায়ী ও দোষী। ছেলের অপরাধের জন্য বাবা এবং বাবার অপরাধের জন্য ছেলে অপরাধী নয়। জেনে রেখ! এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। কাজেই এক মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের ঐ জিনিসই হালাল যা সে স্বেচ্ছায় তার জন্য হালাল করে (দান করে)। জেনে রেখ! জাহিলী যুগের প্রাপ্য সকল প্রকার সূদ বাতিল ঘোষণা করা হল। তবে তোমাদের মূলধন ফেরত পাবে। তোমরা কারো প্রতি যুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও যুলুম করা হবে না। আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিবের সূদের সকল পাওনা বাতিল করা হল। জেনে রেখ! জাহিলিয়াতের সকল প্রকার রক্তের দাবি বাতিল করা হল। জাহিলিয়াতের সর্বপ্রথম যার রক্ত আমি বাতিল ঘোষণা করছি সে হচ্ছে হারিস ইবনু আবদুল মুতালিবের রক্ত। সে শিশু অবস্থায় বনু লাইস গোত্রে দুধ পানরত অবস্থায় হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। শোন! আমি তোমাদেরকে নারীদের সাথে ভালো ব্যবহারের উপদেশ দিচ্ছি। তারা তোমাদের নিকট বন্দীর মত যুক্ত। তাদের উপর তোমাদের কোন কর্তৃত্ব নেই, যদি না তারা কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে। যদি তারা তাই করে তাহলে তোমরা তাদের বিছানা পৃথক করে দাও এবং একান্ত প্রয়োজন হলে হালকাভাবে আঘাত কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের প্রতি বাড়াবাড়ির পথ অন্বেষণ কর না। জেনে রেখ! তোমাদের যেরূপ অধিকার রয়েছে তোমাদের স্ত্রীদের উপর, তোমাদের স্ত্রীদেরও তদ্রুপ অধিকার রয়েছে তোমাদের উপর (কাজেই উভয়ের প্রতি উভয়ের অধিকার আদায় করা কর্তব্য)। তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা তোমাদের অপছন্দনীয় লোককে তোমাদের বিছানায় স্থান দিবে না এবং তোমাদের অপছন্দনীয় লোককে তোমাদের ঘরে যাতায়াতের অনুমতি দিবে না। আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তোমরা (যথাসম্ভব) তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও আহারের সুব্যবস্থা করবে। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৫১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি শাবীব ইবনু গারক্বাদাহ হতে আবূল আহওয়াস (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজ্জের মহান দিন প্রসঙ্গে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ কুরবানীর দিন। সহীহঃ (৯৫৭) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজ্জের মহান দিন হচ্ছে কুরবানীর দিন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদিসের চাইতে এটি অনেক বেশি সহীহ। কেননা এ হাদীস বিভিন্ন সূত্রে আবূ ইসহাক-আল হারিস হতে, তিনি আলী (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে মাওকুফভাবে বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্র ব্যতীত অন্য কেউ এটিকে মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। শু'বাহ এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মুররাহ হতে, তিনি আল-হারিস হতে তিনি আলী হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।