حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ سُمِّيتُ بِهِ لَمْ يَشْهَدْ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبُرَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَوَّلُ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غِبْتُ عَنْهُ أَمَا وَاللَّهِ لَئِنْ أَرَانِيَ اللَّهُ مَشْهَدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ . قَالَ فَهَابَ أَنْ يَقُولَ غَيْرَهَا فَشَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ مِنَ الْعَامِ الْقَابِلِ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَمْرٍو أَيْنَ قَالَ وَاهًا لِرِيحِ الْجَنَّةِ أَجِدُهَا دُونَ أُحُدٍ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ فَوُجِدَ فِي جَسَدِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةٍ وَطَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ فَقَالَتْ عَمَّتِي الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ فَمَا عَرَفْتُ أَخِي إِلاَّ بِبَنَانِهِ . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةَُ : (رجالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনু নাযর- যার নামানুসারে আমার নাম রাখা হয়েছে- বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ব্যাপারটি তার নিকট অসহনীয় লাগছিল। তিনি বলেন, মুশরিকদের সাথে প্রথম যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন আমি তাতে অনুপস্থিত রইলাম। আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেন তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই দেখবেন আমি কি করি। এ কথা বলার সাথে সাথে তার ভয় হল যে, তিনি বিপরীতের কিছু বলেন কি না। পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে উহুদের যুদ্ধে শরীক হন। উহুদে যেতে পথিমধ্যে সা’দ ইবনু মুআয (রাযিঃ)-এর সাথে তার দেখা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, হে আবূ আমর! কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আহা! জান্নাতের ঘ্রাণের দিকে। আমি উহুদের দিকে তা অনুভব করছি। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তার শরীরে আশিরও বেশি জখম ছিল। এর মধ্যে কিছু ছিল তরবারির আঘাত, কিছু বর্শার আঘাত এবং কিছু তীরের আঘাত। আমার ফুফু রুবাই বিনতু নাযর (রাযিঃ) বলেন, জখমের কারণে আমি আমার ভাইকে চিনতে পারছিলাম না। শুধু তার আঙ্গুলের গোছা দেখেই তাকে চিনতে পেরেছি। তার সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ (অনুবাদ) “ঈমানদার ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি"- (সূরা আহযাব ২৩)। সহীহঃ মুসলিম (৬/৪৫-৪৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার চাচা বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি (চাচা) বলেন, এটাই ছিল প্রথম যুদ্ধ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেন। অথচ এই প্রথম যুদ্ধেই আমি অংশগ্রহণ করতে পারলাম না। আল্লাহ তা'আলা যদি ভবিষ্যতে মুশরিকদের বিরুদ্ধে আমাকে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন, তবে তিনি দেখবেন আমি কি করি। তারপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজয়ের সম্মুখীন হলে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! মুশরিকরা যে বিপদ নিয়ে এসেছে আমি তা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর মুসলিমরা যা করেছে সে প্রসঙ্গে তোমার নিকট ওজরখাহি করছি।" তারপর তিনি সামনে আগালেন। তার সঙ্গে সা'দ (রাযিঃ)-এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, হে ভাই! তুমি কি করছ, আমি তোমার সাথে আছি। (সা'দ বলেন) কিন্তু সে যা করল আমি তা করতে ব্যর্থ হলাম। তার দেহে আশির বেশি জখম পাওয়া গেল। এর কতগুলো ছিল তরবারির আঘাত, কতগুলো বর্শার আঘাত এবং কতগুলো তীরের আঘাত। আমরা বলাবলি করতাম যে, তার ও তার বন্ধুদের বিষয়ে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ (অনুবাদ) তাদের ভিতর কেউ কেউ ইচ্ছা পূর্ণ করেছে এবং কেউ সময় আসার অপেক্ষায় রয়েছে"- (সূরা আহযাব ২৩)। সহীহঃ বুখারী (২৮০৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর চাচার নাম আনাস ইবনু নাযর।
। মূসা ইবনু ত্বালহা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহ (রাযিঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে একটি সুসংবাদ শুনাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যারা নিজেদের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে, ত্বালহা (রাযিঃ) তাদের দলে। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১২৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রে মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস জেনেছি এবং এটি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 3203 — Jami At Tirmidhi 47:255
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُوسَى، وَعِيسَى، ابْنَىْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِمَا، طَلْحَةَ أَنَّ أَصْحَابَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لأَعْرَابِيٍّ جَاهِلٍ سَلْهُ عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ مَنْ هُوَ وَكَانُوا لاَ يَجْتَرِئُونَ عَلَى مَسْأَلَتِهِ يُوَقِّرُونَهُ وَيَهَابُونَهُ فَسَأَلَهُ الأَعْرَابِيُّ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ إِنِّي اطَّلَعْتُ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ وَعَلَىَّ ثِيَابٌ خُضْرٌ فَلَمَّا رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " . قَالَ الأَعْرَابِيُّ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مِمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ .
। তালহা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এক মূৰ্খ বেদুঈনকে বলল, তুমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন কর, “যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে" দ্বারা কাদের বুঝানো হয়েছে? সাহাবীগণ সরাসরি তার নিকট এ কথা প্রশ্ন করতে সাহস পাননি। তারা তাকে সম্মান ও সমীহ করতেন। বিদুঈন তার নিকট ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। সে আবারো তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেন। সে আবারো তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেন। তারপর আমি মসজিদের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। আমার পরনে ছিল সবুজ কাপড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়, যে মানৎ পূর্ণকারীদের বিষয়ে প্রশ্ন করেছে? বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই আমি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে এ লোক (ত্বালহা) তাদের একজন। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১/৩৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু ইউনুস ইবনু বুকাইরের সনদে এ হাদীস জেনেছি।
আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার সহধর্মিণীগণকে (তার স্ত্রীত্বে থাকার বা পার্থিব ভোগবিলাস গ্রহণ করার) এখতিয়ার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলে তিনি প্রথমে আমাকেই প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, হে ‘আয়িশাহ! তোমাকে একটি কথা বলতে চাচ্ছি। তুমি ধীরস্থিরভাবে উত্তর দিবে, তাড়াহুড়া করবে না এবং প্রয়োজনে তোমার বাবা-মার সাথেও শলা-পরামর্শ করবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি ভাল করেই জানতেন যে, আমার পিতামাতা কখনো আমাকে তার হতে পৃথক হওয়ার অনুমতি দিবেন না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তারপর তিনি বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে নবী! তোমার স্ত্রীদের বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা কর তবে এসো, আমি তোমাদের কিছু ভোগসামগ্ৰী দিয়ে ভদ্রভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করতে চাও, তবে তোমাদের ভিতর যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলা মহান পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন"- (সূরা আহযাব ২৮-২৯)। আমি বললাম, আমি কি বিষয়ে আমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ করব! আমি তো আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাতের জীবনই কামনা করি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি যে উত্তর দিয়েছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর স্ত্রীগণও একই রকম উত্তর দেন। সহীহঃ বুখারী (৪৭৮৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরী (রহঃ) উরওয়াহ (রাহঃ) হতে এবং তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেও এ হাদীস বর্ণিত আছে।
। উমার ইবনু আবী সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যিনিরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আশ্রয়ে লালিত পালিত হন। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর ঘরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা তো চান আহলে বাইত হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাবঃ ৩৩), তখন তিনি ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকলেন এবং তাদেরকে একটি কম্বলের ভিতর ঢেকে নিলেন। আলী (রাযিঃ) তার পিছনে ছিলেন। তিনি তাকেও কম্বলের ভিতর নিয়ে নিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত' (পরিবারের সদস্য)। তুমি তাদের ভিতর হতে অপরিচ্ছন্নতা দূর করে দাও এবং সম্পূর্ণরূপে পরিচ্ছন্ন করে দাও।” উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর নবী! আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেনঃ তুমি স্ব-স্থানে থাক এবং তুমি কল্যাণের মধ্যেই আছ। সহীহঃ রাওয়ূন নায়ীর (৯৭৬, ১১৯০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আমর ইবনু আবূ সালামাহ হতে আতার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছয় মাস পর্যন্ত এই চর্চা ছিল যে, তিনি ফজরের নামাযের জন্য ফাতিমা (রাঃ)-এর ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেনঃ “হে আহলে বাইত! তোমরা নামায কায়িম কর। আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছা করেন, তোমাদের নবীর ঘরের লোকদের মধ্য হতে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে আবূল হামরাআ, মাকিল ইবনু ইয়াসার ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তাহলে এই অংশ গোপন করতেনঃ “স্মরণ কর, যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা (ইসলাম গ্রহণ করার) অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার উপর (দাসত্বমুক্ত করে) অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছেন, তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখ এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আপনি আপনার মনের মধ্যে যে কথা লুকিয়েছেন, তা আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। আপনি লোকভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আপনার পক্ষে অধিকতর সংগত। পরে যাইদ যখন তার (যাইনাবের) সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে (যাইনাবকে) আপনার নিকট বিয়ে দিলাম, যেন মুমিনদের পালিত ছেলেরা নিজ স্ত্রীর সাথে বিবাহ সূত্র ছিন্ন করলে সেই সব নারীদের বিবাহ করায় মু'মিন লোকদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ কার্যকারী হয়েই থাকে" (সূরাঃ আল-আহযাব-৩৭)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে (যাইনাবকে) বিয়ে করলেন তখন লোকেরা বলতে লাগল, তিনি নিজের ছেলের বিবিকে বিয়ে করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষ লোকদের মধ্যে কারো পিতা নন, বরং আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী" (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৪০)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পালিত পুত্র বানিয়েছিলেন। তিনি (যাইদ) তখন বালক ছিলেন। তিনি তার কাছে থাকলেন এবং ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলেন। তাকে যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলে ডাকা হত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “পালিত ছেলেদেরকে তোমরা তাদের পিতার সাথে সম্পর্ক সূত্রে ডাকো, এটা আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে বেশি ন্যায়সংগত। আর তোমরা যদি তাদের পিতার পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দীনী ভাই এবং সাখী" (সূরাঃ আল-আহযাব- ৫) অর্থাৎ অমুক অমুকের বন্ধু এবং অমুক অমুকের ভাই। এটাই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বেশি ন্যায়সংগত কথা অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে বেশি ন্যায়ানুগ কথা। সনদ অত্যন্ত দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। অন্য এক সূত্রে এ হাদীস আইশা (রাঃ) হতে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন। আইশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন, তবে এই আয়াত গোপন করতেনঃ যখন তুমি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলে, যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা এবং তুমি অনুগ্রহ করেছিলে..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এ সূত্রে হাদীসটি বিস্তারিত আকারে বর্ণিত হয়নি। এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াযযাহ হতে।
হাদিস 3208 — Jami At Tirmidhi 47:260
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَوْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَاتِمًا شَيْئًا مِنَ الْوَحْىِ لَكَتَمَ هَذِهِ الآيَةَِ : ( إذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ ) الآيَةَ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপনকারী হতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি এ আয়াত গোপন করতেন (অনুবাদ): “যখন তুমি সে লোককে বলেছিলে যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা এবং তুমি দয়া করেছিলে....."— (সূরা আহযাব ৩৭) শেষ পর্যন্ত। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা যাইদ ইবনু হারিসাহ না ডেকে বরং যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ ডাকতাম। অবশেষে নাযিল হলঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার পরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহ তা'আলার নিকট বেশি ন্যায়সঙ্গত”– (সূরা আহযাব ৫)। সহীহঃ বুখারী (৪৭৮২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।