। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন কুরাইশ মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে। তারা ভাগ্য প্রসঙ্গে বাদানুবাদ করছিল। সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) "যেদিন তাদেরকে উপুর করে জাহান্নামের দিকে টেনে নিযে যাওয়া হবে (আর বলা হবে), জাহান্নামের যন্ত্রণার স্বাদ গ্রহণ কর। প্রতিটি জিনিস আমরা নির্ধারিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছি"- (সূরা কামার ৪৮-৪৯)। সহীহ, ইবনু মাজাহ (হাঃ ৮৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের উদ্দেশে বের হলেন। তিনি তাদের সম্মুখে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সূরা আর-রহমান পাঠ করলেন কিন্তু তারা নিশ্চুপ রইলেন। তিনি বলেনঃ এ সূরাটি আমি জিনদের সঙ্গে সাক্ষাতের রাতে তাদের সম্মুখে পাঠ করেছি। তোমাদের তুলনায় তারা ভাল উত্তর দিয়েছে। যখনই আমি তিলাওয়াত করছি, “তোমরা জিন ও মানুষ নিজেদের প্রভুর কোন নিয়ামাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে" তখনই তারা বলেছে, “হে আমাদের রব! আমরা আপনার কোন নি’আমাতই অস্বীকার করছি না, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা"। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ২১৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ-এর সূত্রে জেনেছি। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, যে যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ সিরিয়া চলে গেছেন তিনি সে লোক নন যার মাধ্যমে ইরাকবাসী হাদীস রিওয়ায়াত করেন। মনে হয় তিনি স্বতন্ত্র লোক, লোকজন তার নামে বিভ্রাট করেছে, তার হতে লোকেরা মুনকার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, সিরিয়াবাসী যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ হতে মুনকার হাদীস রিওয়ায়াত করেন এবং ইরাকবাসী তার মাধ্যমে সহীহ হাদীসের পর্যায়ের হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহঃ বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার নেক বান্দাদের জন্য আমি এমন কিছু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চোখ কখনও প্রত্যক্ষ করেনি, কোন কান কখনও (তার বর্ণনা) শ্রবণ করেনি এবং মানুষের মন তার ধারণাও করতে পারে না। এ আয়াতটি তোমরা ইচ্ছা করলে পাঠ করতে পার (অনুবাদ) “তাদের জন্য নয়নমুগ্ধকর কি জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তা সবারই অজানা"- (সূরা সিজদা ১৭)। আর জান্নাতে এরূপ একটি গাছ আছে যার ছায়াতলে কোন আরোহী এক শত বছর চলতে থাকবে কিন্তু তা পার হতে পারবে না। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারঃ “আর সম্প্রসারিত ছায়া”— (সূরা ওয়াকি'আহ ৩০)। জান্নাতের এক চাবুক পরিমাণ জায়গা পৃথিবী ও তার মাঝখানে সব কিছুর চাইতে উত্তম। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারঃ “জাহান্নাম হতে যাকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছুই নয়” (সূরা ইমরান ১৮৫)। হাসান সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১৯৭৮), বুখারী "ইকরাউ” (তোমরা পাঠ কর) শব্দ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে কোন আরোহী যার ছায়াতলে শত বছর ধরে চলতে থাকলেও তা অতিক্রম করতে পারবে না। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারঃ “সম্প্রসারিত ছায়া ও প্রবাহিত পানি”— (সূরা ওয়াকি’আহ ৩০-৩১) সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৮১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস উদ্ধৃত আছে।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এ বাণীঃ “আর তোমরা মিথ্যা বলাকে তোমাদের উপজীব্য করে নিয়েছ" (সূরাঃ আল-ওয়াকিয়াহ- ৮২) প্রসঙ্গে বলেনঃ তোমাদের কৃতজ্ঞতা হল এই যে, তোমরা বলে থাকঃ অমুক অমুক তারকার উসীলায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইসরাঈলের সূত্রেই এ হাদীসটি মারফুরূপে জেনেছি। সুফিয়ান এ হাদীস আবদুল আলী হতে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফু হিসেবে নয়।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী, “আমি তাদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি" (সূরাঃ আল-ওয়াকিয়াহ-৩৫) প্রসঙ্গে বলেনঃ যে সব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানি পড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন তারা (জান্নাতে) বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু মূসা ইবনু উবাইদার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস মারফু হিসেবে জেনেছি। মূসা ইবনু উবাইদা ও ইয়াযীদ ইবনু আবান আর-রাকাশী উভয়ে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে সমালোচিত।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি জবাবে বলেনঃ সূরা হুদ, ওয়াকি'আহ, ওয়াল মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসাআলুন ও ওয়াইযাশ-শামসু কুববিরাত আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৯৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্ত সূত্রে অবগত হয়েছি। এ হাদীস আলী ইবনু সালিহ (রহঃ) আবূ ইসহাকু হতে, তিনি আবূ জুহাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীসের অংশবিশেষ আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ মাঈসারাহ হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণিত আছে। আর আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ আবূ ইসহাকু হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে শাইবানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ সনদে ইবনু "আব্বাস-এর উল্লেখ নেই।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ এক সাথে বসা ছিলেন। হঠাৎ তাদের উপর মেঘরাশি প্রকাশিত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রশ্ন করেনঃ তোমরা জান এটা কি? তারা বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা হল যমিনের পানিবাহী উট। আল্লাহ তা'আলা একে এমন জাতির দিকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যারা তার কৃতজ্ঞতাও আদায় করে না এবং তার কাছে মুনাজাতও করে না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের উপরে কি আছে তা জান? তারা বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন।তিনি বলেনঃ এটা হল সুউচ্চ আকাশ, সুরক্ষিত ছাদ এবং আটকানো তরঙ্গ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের এবং এর মাঝে কতটুকু ব্যবধান তা তোমাদের জানা আছে কি? তারা বললেন, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের ও এর মাঝে পাঁচ শত বছরের পথের ব্যবধান। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ এর উপরে কি আছে তা তোমরা জান কি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এর উপরে দুইটি আকাশ আছে যার মাঝে পাঁচ শত বছরের দূরত্ব, এমনকি তিনি সাতটি আকাশ গণনা করেন এবং বলেনঃ প্রতি দুটি আকাশের মাঝে পার্থক্য আকাশ ও যমিনের ব্যবধানের সমপরিমাণ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ এর উপরে কি আছে তা কি তোমরা জান? তারা বললেন আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এগুলোর উপরে আছে (আল্লাহর) আরশ। আরশ ও আকাশের মাঝের পার্থক্য দুই আকাশের মধ্যকার দূরত্বের সমান। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা কি জান তোমাদের নিচে কি আছে? তারা বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ উহা হল যমিন, তারপর আবার বললেন, তোমরা কি জান এর নিচে কি আছে? তারা বলল আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এর নিচে আরো এক ধাপ যমিন আছে এবং এতদুভয়ের মধ্যে পাঁচ শত বছরের দূরত্ব। তারপর সাত স্তর যমিন গুণে বলেনঃ প্রতি দুই স্তরের মাঝে পাঁচ শত বছরের দূরত্ব বর্তমান। তিনি আবার বললেনঃ সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা যদি একটি রশি নিম্নতম যমিনের দিকে ছেড়ে দাও তাহলে তা আল্লাহ তা'আলা পর্যন্ত গিয়ে পৌছবে। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ “তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই গুপ্ত। তিনিই সর্ববিষয়ে সর্বশেষ পরিজ্ঞাত" (সূরাঃ আল-হাদীদ- ৩) যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ, (৫৭৮) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আইউব, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত আছে যে, তারা বলেছেন, আল-হাসান আল-বাসরী (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে সরাসরি কিছু শুনেননি। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম উক্ত হাদীসের (আল্লাহ পর্যন্ত পৌছে) ব্যাখ্যায় বলেনঃ উক্ত রশি আল্লাহ তা'আলার জ্ঞান, তার নিদর্শনাবলী ও তার সার্বভৌম ক্ষমতা সর্বত্র বিস্তৃত। তিনি তার আরশে উপবিষ্ট, যেমন তিনি তার পাক কালামে বলেছেন।
। সালামাহ ইবনু সাখর আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি এমন এক পুরুষ, যাকে এত যৌনশক্তি দেয়া হয়েছে যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। রমাযান মাস এলে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যিহার করি, যাতে রমাযান মাসটা অতিক্রম হয়ে যায় এবং রাতে সহবাসের আশংকা হতে বেঁচে থাকতে পারি। একই ধারাবাহিকতায় আমার দিনগুলো (সঙ্গমহীন) অতিক্রম হবে এবং তাকে আমি ত্যাগও করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিন সে রাতের বেলা আমার সেবা করছিল, হঠাৎ তার কোন জিনিস আমার সম্মুখে উম্মুক্ত হয়ে গেলে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ি (সঙ্গম করি)। সকালে উপনিত হয়ে আমি আমার গোত্রের লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার বিষয়টি জানাই। আমি বললাম, আমাকে নিয়ে তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে চলো এবং আমার বিষয়টি তাকে জানাই। তারা বলল, না আল্লাহর কসম! আমরা তা করতে অপারগ। আমাদের মনে হচ্ছে যে, আমাদের প্রসঙ্গে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হবে কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করবেন আমাদের জন্য যা লজ্জার বিষয় হয়ে থাকবে। বরং তুমি একাই যাও এবং যা তোমার’ উপর্যুক্ত মনে হয় তাই কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম এবং তাকে আমার বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ। আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি আবার বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। আমি উপস্থিত। অতএব আল্লাহর বিধান আমার উপর কার্যকর করুন, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তিনি বললেনঃ একটি দাসী মুক্ত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার ঘাড়ের উপরাংশে আমার হাত দিয়ে আঘাত করে বললাম, না সেই সত্তার কসম, আপনাকে যিনি সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! তাকে ছাড়া আমি আর কিছুর মালিক নই। তিনি বললেনঃ তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে বিপদ আমার উপর এসেছে তা তো এ রোযার কারণেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাও। আমি বললাম, সেই সত্তার কসম, আপনাকে সত্যসহ যিনি পাঠিয়েছেন। আজ রাতে আমরাই অভুক্ত ছিলাম, আমাদের কাছে রাতের খাবার ছিল না। তিনি বললেনঃ যে লোক যুরাইক গোত্রের যাকাত আদায় করে, তার কাছে তুমি যাও এবং তাকে বল, তাহলে তোমাকে সে কিছু দিবে। তার এক ওয়াসাক এর মাধ্যমে তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে এবং বাকি যা থাকে তা তুমি ও তোমার পরিজনের জন্য খরচ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমি আমার গোত্রের কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং তাদেরকে বললাম, তোমাদের কাছে আমি পেয়েছি সংকীর্ণতা ও কুপরামর্শ, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেয়েছি প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য। তিনি তোমাদের যাকাত আমাকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব তা আমার কাছে তোমরা অর্পণ কর। অতএব তারা আমার কাছে তা অর্পণ করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২০৬২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ বলেন, আমার মতে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার সালামাহ্ ইবনু সাখর-এর কোন বর্ণনা শুনেননি। তিনি আরো বলেন, তার নাম সালামাহ ইবনু সাখর, তবে সালমান ইবনু সাখর নামেও পরিচিত। এ অনুচ্ছেদে সালাবাহ (রাযিঃ)-এর কন্যা ও আওস ইবনুস সামিত (রাযিঃ)-এর সহধর্মিণী খাওলাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে।