। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা রাসূলের সাথে চুপি চুপি কথা বলার ইচ্ছা করলে তার পূর্বে সদাকা দেবে" (সূরাঃ আল-মুজাদালাহ-১২), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ এক দীনার নিদ্ধারণের ব্যাপারে তোমার কি মত? আমি বললাম, লোকদের সামর্থে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে অর্ধ দীনার? আমি বললাম, তাও তাদের সামর্থে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে কত নিৰ্দ্ধারণ করা যায়? আমি বললাম, এক বালির দানা পরিমাণ (সোনা)। তিনি বললেনঃ তুমি খুব কম নিৰ্দ্ধারণকারী। রাবী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলার পূর্বে সদাকা প্রদানকে কষ্টকর মনে কর” (সূরাঃ আল-মুজাদালাহ- ১৩)? আলী (রাঃ) বলেন, আমার কারণে আল্লাহ তা'আলা এই উন্মাতের জন্য বিধানটি হালকা (বাতিল) করেন। সনদ দুর্বল
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণের কাছে এসে বলল, “আস-সামু আলাইকুম” (তোমাদের মরণ হোক)। লোকেরা তার উত্তর দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে কী বলেছে তোমরা কি তা বুঝতে পেরেছ? তারা বলেন, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল ভালো জানেন। হে আল্লাহর নবী! সে সালাম দিয়েছে। তিনি বললেনঃ না, অথচ সে এই এই কথা বলেছে। আমার কাছে তাকে তোমরা ফিরিয়ে নিয়ে আস। অতঃপর তারা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছ আস-সামু আলাইকুম? সে বলল, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় বললেনঃ তোমাদেরকে আহলে কিতাবের কেউ সালাম করলে তোমরা বলবে, “আলাইকা মা কুলতা” (যা তুমি বলেছ তোমার উপর তা-ই বর্ষিত হোক)। তারপর এ আয়াত তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ), “যখন এরা তোমার কাছে আসে তখন তোমাকে এরূপ কথা দ্বারা অভিবাদন করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে অভিবাদন করেননি"- (সূরা মুজাদালাহ্ ৮)। সহীহঃ ইরওয়া (হাঃ ৫/১১৭), মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু নাযীরের আল-বুওয়াইরা নামক খেজুর বাগানটি অগ্নিসংযোগ করে পুড়ে ফেলেন এবং কেটে ফেলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং যেগুলো তাদের কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার আদেশানুসারেই এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন"- (সূরা হাশ্বর ৫)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮৪৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তার কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ" এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল-লীনাহ অর্থঃ খেজুর গাছ। “এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন" আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থাৎ মুসলিমরা তাদেরকে তাদের দুর্গগুলো হতে বহিষ্কার করে দেয়। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আরো বলেন, যখন তাদেরকে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার আদেশ দেয়া হয় সে সময় তাদের মনে ধারণা (সন্দেহ) হয়। মুসলিমরা বলেন, আমরা কিছু বৃক্ষ কেটে ফেলেছি এবং কিছু বৃক্ষ বহাল রেখেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা প্রশ্ন করবো যে, যে গাছগুলো আমরা কেটেছি তার কারণে আমাদেরকে সাওয়াব প্রদান করা হবে কি এবং যে বৃক্ষগুলো বহাল রেখেছি তার জন্য আমাদের কোন গুনাহ হবে কি? তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তাদের কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমেই”- (সূরা হাশূর ৫)। হাদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী হাফস ইবনু গিয়াস হতে, তিনি হাবীব ইবনু আবী আমরাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তার মধ্যে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান-হারূন ইবনু মু'আবিয়াহ হতে, তিনি হাফস ইবনু গিয়াস হতে, তিনি হাবীব ইবনু আবী আমরাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আমার কাছে শুনেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক রাতে আনসার লোকের এখানে একজন মেহমান আসে। তার কাছে তার ও তার সন্তানদের খাবার ছাড়া অতিরিক্ত খাবার ছিল না। তার সহধর্মিণীকে তিনি বলেন, বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আলো নিভিয়ে ফেল এবং তোমার কাছে যে খাবার রয়েছে তা মেহমানের সম্মুখে পরিবেশন কর। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ “আর নিজেদের উপর অন্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা অভাবপীড়িত হয়েও” –(সূরা হাশর ৯)। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৩২৭২), বুখারী ও মুসলিম আরও পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবূ তলিব-এর পুত্র ‘আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্দাদ ইবনুল আসওয়াদকে (চিঠি উদ্ধারের জন্য) পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে রাওযা খাখ’ নামক জায়গায় পৌছে যাও, সেখানে (মাক্কার লক্ষ্যে) গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা সরাসরি আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই রাওযা খাখ’ নামক জায়গায় গিয়ে পৌছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। আলী (রাযিঃ) বলেন, সে তার চুলের খোপা হতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মাক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনু আবী বালতা'আর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাদের প্রতি কোন রকম উপকার করতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদরের মুজাহিদদের প্রতি উকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ “তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি”। আলী (রাযিঃ) বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ “হে মু’মিনগণ! তোমরা আমার শক্র ও তোমাদের শক্রকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি....”। আমর (রহঃ) বলেন, আমি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফি'কে দেখেছি। তিনি আলী (রাযিঃ)-এর সচিব ছিলেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৮১), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উমার ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতেও একাধিক বর্ণনাকারী একই অর্থে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তাতে এ কথা রয়েছেঃ “তোমাকে পত্র বের করে দিতে হবে, তা না হলে তোমার বস্ত্র ত্যাগ করতে হবে"। এ হাদীসটি 'আবদুর রাহমান আস-সুলামীর সূত্রে ‘আলী (রাযিঃ) হতে একই রকম বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এ কথাগুলো উল্লেখ করেছেনঃ “তোমাকে অবশ্যই পত্রটি বের করে দিতে হবে, নতুবা তোমাকে আমরা উলঙ্গ করব।
হাদিস 3306 — Jami At Tirmidhi 47:358
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْتَحِنُ إِلاَّ بِالآيَةِ الَّتِي قَالَ اللَّهُ : (إذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ ) الآيَةَ . قَالَ مَعْمَرٌ فَأَخْبَرَنِي ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ إِلاَّ امْرَأَةً يَمْلِكُهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ) “হে নবী! মু'মিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই’আত করে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন শারীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না....."— (সূরা মুমতাহিনাহ ১২)। মামার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাউস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ (রাযিঃ) বলেন, মহিলাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করল, মা’রূফ’ বলতে কি বুঝায়, যাতে আপনার নাফরমানী করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা বিলাপ করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক সম্প্রদায়ের নারীরা আমার চাচার বিলাপে আমাকে সাহায্য করেছে। কাজেই তাদের প্রতিদান দেয়া আমারও কর্তব্য। আমার কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমত হলেন না। অতঃপর আমি পর্যায়ক্রমে তার নিকট অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে তাদের প্রতিদান দেয়ার অনুমতি দিলেন। আমি তাদের বিলাপের প্রতিদান দেয়ার পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন দিন বিলাপ করব না। কিন্তু আমি ব্যতীত অপর সব মহিলাই পরবর্তীতে বিলাপ করেছে। হাসানঃ তা’লীক আ'লা ইবনু মাজাহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উম্মু আতিয়াহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। "আবদ ইবনু হুমাইদ (রহঃ) বলেন, উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ (রাযিঃ)-এর নাম আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনুস সাকান।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, “তোমাদের নিকট মু'মিন নারীরা হিযরাত করে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা কর” (সূরাঃ আল-মুমতাহিনাহ- ১০) শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হলে তিনি তাকে আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি। যঈফ, বিচ্ছিন্ন, ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ (৮/১৭৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতক সংখ্যক সাহাবী একসাথে বসে নিজেদের মাঝে আলোচনা করতে গিয়ে বললাম যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয় তা জানতে পারলে সেই কাজটি করতে আমরা ব্ৰতী হতাম। সে সময় আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ): “আকাশ ও যামীনে বিদ্যমান সমস্ত কিছুই আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এরূপ কথা কেন বল যা কার্যকর করো না”— (সূরা সাফ ১-২)? আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করে আমাদেরকে শুনান। সনদ সহীহ। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেনঃ এ আয়াত আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) আমাদেরকে পাঠ করে শুনান। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, এ আয়াত আবূ সালামাহ্ (রহঃ) আমাদেরকে পাঠ করে শুনান। ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন, এ আয়াত আমাদেরকে আওযাঈ (রহঃ) পাঠ করে শুনান। 'আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইবনু কাসীর (রহঃ) আমাদেরকে এ আয়াতটি পাঠ করে শুনান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর কর্তৃক আওযাঈর সূত্রে রিওয়ায়াতের প্রসঙ্গে মতের অমিল আছে। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রহঃ) আওযাঈ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে, তিনি হিলাল ইবনু আবী মাইমূনাহ হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) কিংবা আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম এ হাদীসটি আওযাঈর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর বর্ণিত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।