। সুওয়াইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন সাধারণ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতীর উদ্যানসমূহ, বিবিগণ, চাকরগণ এবং খাট-পালংকসমূহ কেউ দেখতে চাইলে তা তার জন্য হাজার বছরের রাস্তা। তাদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তার চেহারা দেখতে সৌভাগ্য লাভ করবেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেনঃ “কিছু মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল হবে এবং তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে" (সূরাঃ আল-কিয়ামাহ- ২২-২৩)। যঈফ, যঈফা (১৯৮৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। একাধিক বর্ণনাকারী ইসরাঈলের সূত্রে হাদীসটি একইভাবে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল মালিক ইবনু আবজার (রাহঃ) সুওয়াইর হতে তিনি (মুজাহিদ) ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে এটিকে তার কথা হিসেবে (মাওকুফ হিসেবে) বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসেবে নয়। আল-আশজাঈ (রাহঃ) সুফিয়ান হতে তিনি সুওয়াইর হতে তিনি মুজাহিদ হতে তিনি ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে তার কথারূপে বর্ণনা করেছেন এবং মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ঈসা বলেন, আমাদের জানামতে এ হাদীসের সনদে সুফিয়ান ব্যতীত অন্য কেউ মুজাহিদের উল্লেখ করেননি। সুওয়াইর-এর ডাক নাম আবূ জাহম। আবূ ফাখি তার নাম সাঈদ ইবনু ইলাকা।
হাদিস 3331 — Jami At Tirmidhi 47:383
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، هَذَا مَا عَرَضْنَا عَلَى هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُنْزِلَ : ( عبَسَ وَتَوَلَّى ) فِي ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْشِدْنِي وَعِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مِنْ عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْرِضُ عَنْهُ وَيُقْبِلُ عَلَى الآخَرِ وَيَقُولُ أَتَرَى بِمَا أَقُولُ بَأْسًا فَيُقَالُ لاَ . فَفِي هَذَا أُنْزِلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أُنْزِلََ : ( عبَسَ وَتَوَلَّى ) فِي ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “আবাসা ওয়া তাওয়াল্লা" সূরাটি অন্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে তিনি বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে দ্বীনের সঠিক পথ বলে দিন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাজলিসে মুশরিকদের এক নেতৃস্থানীয় লোক হাযির ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এড়িয়ে চলেন এবং উক্ত নেতার প্রতি মনোযোগ দেন। ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) বলেন, আপনি কি মনে করেন- আমি যা বলছি তা মন্দ? তিনি বলতে থাকেনঃ না। এ প্রসঙ্গে সূরাটি অবতীর্ণ হয়। হাদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তার বাবার সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, “আবাসাহ ওয়া তাওয়াল্লা" সূরাটি ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি এ সনদে আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন নগ্নপদে, নগ্ন শরীরে ও খাতনাহীন অবস্থায় উঠানো হবে। এক মহিলা আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তবে কি আমাদের একে অন্যের গুপ্তস্থান দেখতে পাবে! তিনি বললেন, হে অমুক! “সেদিন তাদের সবার এরূপ গুরুতর পরিণতি হবে যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যতিব্যস্ত রাখবে”— (সূরা আবাসা ৩৭)। হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি একাধিক সনদে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। এটি সাঈদ ইবনু জুবাইরও বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দৃশ্যাবলী যে লোক চাক্ষুষভাবে প্রত্যক্ষ করতে উৎসাহী সে যেন “ইযাশ-শামসু কুব্বিরাত”, “ইযাস্ সামাউন ফাত্বারাত” ও “ইযাস্ সামাউন শাককাত" এ তিনটি সূরা পাঠ করে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১০৮১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। হিশাম ইবনু ইউসুফ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ হাদীসটি উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে কিয়ামত দিবস অবলোকন করতে পছন্দ করে সে যেন “ইযাশ শামসু কুববিরাত" পাঠ করে। এ বর্ণনায় “ইযাস্ সামাউন ফাতারাত" এবং “ইযাস্ সামাউন শাকক্বাত” উল্লেখ করেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো চিহ্ন পড়ে। অতঃপর যখন সে গুনাহর কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তওবা করে তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর এভাবে কালো দাগে ঢেকে যায়। এটাই সেই মরিচা আল্লাহ তা'আলা যার বর্ণনা করেছেনঃ “কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের মনে জং (মরিচা) ধরিয়েছে”— (সূরা মুত্বাফফিফীন ১৪)। হাসানঃ আত-তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মতে এটি মারফু হাদীস (মহানবীর বাণী)। “সকল মানুষ যে দিন রাববুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবে”— (সূরা মুত্ত্বাফফিফীন ৬) আয়াতের বর্ণনা সম্পর্কে তিনি বলেনঃ লোকেরা (কিয়ামতের মায়দানে) সেদিন কানের লতিকা পর্যন্ত ঘামে ডুবন্ত অবস্থায় দণ্ডায়মান থাকবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, এটি ২৪২২ নং হাদীসের পুনরুল্লেখ।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন নিখুঁতভাবে যার হিসাব নেয়া হবে সে তো বিলীন হয়ে যাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা তো বলেছেনঃ “যাকে তার ‘আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ অতি সহজেই হবে”— (সূরা আল-ইনশিকাক ৭-৮)। তিনি বললেনঃ সে তো নামমাত্র হাযির করা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ২৪২৬ নং হাদীস পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুয়াইদ ইবনু নাসর 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি উসমান ইবনুল আসওয়াদ হতে, উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আবান প্রমুখ-‘আবদুল মুলাইকাহ হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 3338 — Jami At Tirmidhi 47:390
হাসান Sahihহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حُوسِبَ عُذِّبَ " . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হিসাব নেয়া হবে সে তো আযাবপ্রাপ্ত হবে। হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু কাতাদাহ্ হতে আনাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে হাদীসটি অবগত হয়েছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল ইয়াউমুল মাওউদ”— (সূরা বুরুজ ২) অর্থ- কিয়ামতের দিন; “আল-ইয়াউমুল মাশহুদ”— (সূরা হুদ ১০৩) অর্থঃ আরাফাতে (উপস্থিতির) দিন এবং “আশ-শাহিদ" (সূরা বুরুজ ৩) অর্থঃ জুমুআর দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ যে সমস্ত দিনে সূর্য উদিত হয় ও অস্ত যায় তার মাঝে জুমুআর দিনের তুলনায় বেশি ভাল কোন দিন নেই। এ দিনের মধ্যে এমন একটি সময় আছে, ঠিক সে সময় কোন মুমিন বান্দা আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করলে তার প্রার্থনা তিনি কবুল করেন এবং যে বস্তু (অনিষ্ট) হতে সে আশ্রয় প্রার্থনা করে তা হতে তিনি তাকে আশ্রয় দান করেন। হাসানঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ১৩৬২), সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১৫০২)। আলী ইবনু হুজর-কুররান ইবনু তাম্মাম আল আসাদী হতে, তিনি মুসা ইবনু উবাইদাহর সনদে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। মূসা ইবনু উবাইদাহ আর-রাবায়ীর উপনাম আবূ আবদুল আযীয। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান প্রমুখ তার স্মরণশক্তির দুর্বলতার সমালোচনা করেছেন। অবশ্য শু’বাহ, সুফইয়ান আস-সাওরী প্রমুখ ইমামগণ মূসা ইবনু উবাইদাহ হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস কেবল মূসা ইবনু উবাইদাহর সনদেই আমরা অবগত হয়েছি। হাদীসশাস্ত্রে মূসা ইবনু উবাইদাকে দুর্বল আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ প্রমুখ তাকে তার স্মৃতিশক্তির দিক হতে কমজোড় বলেছেন।