। সুহাইব ইবনু সিনান আর-রুমী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায় করার পর নিঃশব্দে কিছু তিলাওয়াত করতেন। কারো মতে 'হামস্' অর্থ ‘ঠোট নাড়ানো। যেন তিনি কথা বলছেন। তাই তাকে প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আসরের নামায আদায় করার পর আপনি ঠোট নেড়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার একজন নবী তার উম্মাতের (সংখ্যাধিক্যের) জন্য অধিক খুশী হন। তাই তিনি মনে মনে বলেন, কারা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে! সে সময় আল্লাহ তা'আলা তার নিকট ওয়াহী পাঠানঃ তাদেরকে তুমি দুটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার দাওঃ হয় তাদের উপর আমি প্রতিশোধ নিব কিংবা শক্রবাহিনীকে তাদের উপর আধিপত্য দান করব। তারা প্রতিশোধ নেয়াকে এখতিয়ার করল। অতঃপর তাদের উপর আল্লাহ তা'আলা মৃত্যু চাপিয়ে দিলেন, ফলে এক দিনেই তাদের সত্তর হাজার লোক মারা গেল। সহীহঃ তাখরীজ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১২৫/৮৩)। বর্ণনাকারী বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ঘটনা উদ্ধৃত করতেন সে সময় এর সঙ্গে তিনি আরো একটি ঘটনা বলতেন। তিনি বলেন জনৈক বাদশার এক যাদুকর ছিল। বাদশাকে সে ভবিষ্যদ্বাণী শুনাত। যাদুকরটি লোকদেরকে বলল, আমাকে তোমরা একটি বুদ্ধিমান, সাবধানী ও ধিশক্তি সম্পন্ন বালক এনে দাও। আমি তাকে আমার জ্ঞান শিখিয়ে দিব। কারণ আমার মনে হচ্ছে যে, আমি মারা গেলে আমার এ বিদ্যা হতে তোমরা বঞ্চিত হবে। তোমাদের মাঝে এই জ্ঞান সম্পন্ন আর কেউ থাকবে না। তিনি বলেনঃ লোকেরা (যাদুকরের) কথামত একটি বুদ্ধিমান ছেলে খুঁজে বের করে এবং তাকে সেই যাদুকরের নিকট প্রত্যহ যাতায়াতের ও তার সাহচর্য লাভের আদেশ দেয়। ছেলেটি সেই যাদুকরের নিকট যাতায়াত করতে থাকে। ছেলেটির যাওয়া-আসার পথে একটি গীর্জায় এক পাদ্রী (রাহেব) অবস্থানরত ছিল। বর্ণনাকারী মা'মার বলেন, আমার বিশ্বাস সে সময় গীর্জার পাদ্রীগণ তাওহীদের বিশ্বাসী মুসলিম ছিলেন। সে এ পাদ্রীর কাছ দিয়ে যাতায়াতকালে তার নিকট (দীন প্রসঙ্গে) প্রশ্ন করত। অবশেষে সে বলল, আমি আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করি। তারপর পাদ্রীর নিকট ছেলেটি অবস্থান করতে শুরু করে এবং যাদুকরের নিকট বিলম্বে উপস্থিত হয়। যাদুকর ছেলের অভিভাবককে বলে পাঠায় যে আমার আশঙ্কা হয় সে আমার নিকট আসবে না। বালক পাদ্রীকে এ বিষয়টি অবহিত করলে তিনি তাকে বলেন, তুমি কোথায় ছিলে যাদুকর তোমাকে এ প্রশ্ন করলে তুমি বলবে, আমি বাড়ীতে ছিলাম। আর তোমাকে অভিভাবকরা প্রশ্ন করলে তুমি বলবে, আমি যাদুকরের নিকট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এভাবে বেশ কিছু দিন বালকটির কেটে গেল। একদিন সে এক বিরাট সংখ্যক লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের পথে একটি হিংস্র জন্তু বাধা হয়ে দাড়ায়। কেউ কেউ বললেন, ঐ জন্তুটি ছিল বাঘ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বালকটি একটি পাথর তুলে নিয়ে বলে, হে আল্লাহ! পাদ্রী যা বলে তা যদি সত্য হয় তাহলে আমি আপনার নিকট চাই যে, এ জন্তুটিকে আমি হত্যা করি। এ কথা বলে সে পাথরটি ছুড়ে মারল এবং জন্তুটি হত্যা করল। লোকেরা বলল, জন্তুটি কে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, এ বালকটি। লোকেরা বিমর্ষ হয়ে বলল, এমন জ্ঞান সে আয়ত্ত করেছে যা আর কারো নিকটে নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক অন্ধ লোক এ ঘটনা শুনতে পেয়ে তাকে বলল, যদি তুমি আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পার তবে তোমাকে আমি এই এই পরিমাণ সম্পদ দিব। বালকটি তাকে বলল, তোমার নিকট আমি তা চাই না। তবে যদি তোমার দৃষ্টিশক্তি তুমি ফিরিয়ে পাও তাহলে যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিবে তার উপর কি তুমি ঈমান আনবে? অন্ধ বলল, হ্যাঁ। তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ছেলেটি দু'আ করল এবং আল্লাহ তা'আলা তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। অন্ধ ব্যক্তিও ঈমান আনল। বিষয়টি বাদশার কানে গিয়ে পৌছলে সে তাদের ডেকে পাঠায়। তার নিকট তাদেরকে হাযির করা হলে সে বলল, তোমাদের প্রত্যেককে আমি এক এক নতুন পন্থায় হত্যা করব যে পন্থায় তার সঙ্গীকে হত্যা করব না। সে পাদ্রী ও অন্ধ লোকটিকে হত্যার হুকুম দিল এবং সে অনুযায়ী এদের একজনের মাথার উপর করাত চালিয়ে হত্যা করা হয় এবং অন্যজনকে আরেকভাবে হত্যা করা হয়। তারপর বালকটি প্রসঙ্গে বাদশা বলল, একে ঐ পর্বতে নিয়ে যাও এবং তার চূড়া হতে তাকে ফেলে দাও। অতঃপর তারা তাকে নিয়ে সেই পর্বতে গেল। যখন তারা পাহাড়ের সেই নির্দিষ্ট জায়গা হতে তাকে ফেলে দিতে প্রস্তুত হল তখন একে একে তারা সকলে পড়ে মারা গেল এবং বালকটি ব্যতীত কেউই বাকি থাকল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে ফিরে এলে বাদশা তাকে নিয়ে নদীতে ডুবিয়ে মারার জন্য লোকদেরকে হুকুম দিল। তারপর তাকে নদীতে নিয়ে যাওয়া হল। আল্লাহ তা'আলা বালকটির সাথী সকলকে ডুবিয়ে হত্যা করলেন এবং তাকে বাঁচিয়ে রাখলেন। পরবর্তীতে ছেলেটিই বাদশাকে বলল, আমাকে তুমি হত্যা করতে পারবে না। তবে আমাকে তুমি শূলে চড়িয়ে “এ বালকের প্রতিপালকের নামে” বলে তীর নিক্ষেপ করলেই কেবল আমাকে হত্যা করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার কথামত বাদশা হুকুম দিল এবং অতঃপর তাকে শূলে চড়িয়ে “এই বালকের প্রতিপালকের নামে" বলে তীর নিক্ষেপ করল, ছেলেটি তার হাত তার কান ও মাথার মাঝের জায়গায় স্থাপন করল এবং মারা গেল। লোকেরা বলল, এমন জ্ঞান বালকটি লাভ করেছে যা আর কেউই লাভ করতে পারেনি। কাজেই এই বালকের প্রতিপালকের উপর আমরাও ঈমান আনলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বাদশাকে বলা হল, আপনি তো তিন ব্যক্তির বিরোধিতায় ভয় পেয়ে গেলেন। এখন সারা দুনিয়াই তো আপনার বিরোধী হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে সময় বাদশা একটি সুদীর্ঘ গর্ত খুঁড়ে তাতে কাঠ দিয়ে আগুন ধরায়, তারপর লোকদেরকে একসঙ্গে বলে, “যে তার ধর্ম হতে ফিরে আসবে তাকে ছেড়ে দিব এবং যে ধর্ম হতে না ফিরবে তাকে আমি এ আগুনে নিক্ষেপ করব"। ঈমানদার লোকদেরকে সে আগুনের গর্তে নিপতিত করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “গর্তের অধিপতিরা ধ্বংস হয়েছে, যে গর্তে আগুন প্রজ্জ্বলিত ছিল। যখন ওরা ঐ গর্তের পাশে বসা ছিল, আর ওরা ঈমানদারদের সঙ্গে যা করছিল তা প্রত্যক্ষ করছিল। তারা তাদেরকে যুলম করেছিল কেবল এ কারণে যে, তারা মহাশক্তিমান ও প্রশংসিত আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান এনেছিল"- (সূরা বুরুজ ৪-৮)। বর্ণনাকারী বলেন, বালকটিকে দাফন করা হয়েছিল। রাবী বলেন, উল্লেখিত আছে যে, ঐ বালকের লাশ উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে তোলা হয়েছিল। মারা যাওয়ার সময় তার হাত যেভাবে তার কান ও মাথার মধ্যবর্তী জায়গায় রাখা ছিল সেভাবেই তাকে পাওয়া যায়। সহীহঃ মুসলিম (৮/২২৯-২৩১) আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
হাদিস 3341 — Jami At Tirmidhi 47:393
সহিহ Mutawatirসহিহ Mutawatirহাসান Sahihসহিহ Muslim
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই) বলে। এ কথা তারা মনে-প্রাণে স্বীকার করে নিলে তাদের জান-মাল আমার হতে নিরাপদ করে নিল। কিন্তু ইসলামের বিধান (অপরাধের জন্য) প্রযোজ্য থাকবে। আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহ তা'আলার উপর অর্পিত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “আপনি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র। আপনি তাদের কর্ম নিয়ন্ত্রক নন”— (সূরা গাশিয়াহ ২১-২২)। সহীহ মুতাওয়াতিরঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৭১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোড় ও বেজোড়" (সূরাঃ আল-ফাজর-৩) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেনঃ তা নামায, যার (রাকাআত সংখ্যা) কিছু জোড় এবং কিছু বেজোড়। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু কাতাদার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। খালিদ ইবনু কাইসও কাতাদা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সামূদ জাতির প্রতি প্রেরিত) উষ্ট্রী ও তার হত্যাকারী প্রসঙ্গে কথোকথন করতে শুনেছি। তিনি পাঠ করেনঃ “এদের মাঝে যে সবচেয়ে হতভাগ্য সে যখন তৎপর হল”— (সূরা আশ-শামস্ ১২)। তারপর তিনি বলেনঃ উষ্ট্রীকে খুন করতে সেই জাতির সর্বাধিক শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, বিদ্রোহী ও দুর্ভাগা লোক উঠেছিল, সে আবূ যাম'আহর মত প্রভাবশালী ও শক্তিধর ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি মহিলাদের প্রসঙ্গেও তাকে আলোচনা করতে শুনলাম। তিনি বলেনঃ এমন লোকও তোমাদের মাঝে আছে যে তার সহধর্মিনীকে দাসীর ন্যায় চাবুক মারে কিন্তু আবার ঐ দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়। এটা কতই না মন্দ ও জঘন্য বিষয়। অতঃপর বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেয়া প্রসঙ্গে উপদেশ প্রদান পূর্বক তিনি বলেনঃ নিজেই যে কাজ করে সে কাজে তোমাদের কারো কি হাসা উচিত? সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৯৮৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, বাকীতে একটি জানাযায় আমরা হাযির ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এসে বসলেন এবং তার সঙ্গে আমরাও বসলাম। তার সঙ্গে একটি কাঠ ছিল যা দিয়ে তিনি যামীন খুঁড়ছিলেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুলে বলেনঃ কোন সৃষ্টিই এরূপ নেই যার বাসস্থান লিখিত হয়নি। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমাদের সেই লেখার উপর আমরা কি নির্ভর করব না? যে আমাদের মাঝে ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত সে তো সৌভাগ্যসুলভ কাজই করবে, আর যে হতভাগ্যদের দলভুক্ত সে তো দুর্ভাগ্যের কর্মই করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বরং তোমরা আমল করতে থাক। কারণ যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেটাই তার জন্য সহজসুলভ করে দেয়া হয়েছে। যে লোক ভাগ্যবানদের দলভুক্ত তার জন্য সৌভাগ্যসুলভ আমলই সহজতর করা হয়েছে এবং যে লোক হতভাগ্যদের দলভুক্ত তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক কাজই সহজতর করা হয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা ভাল তা সঠিক মনে করে গ্রহণ করলে তার জন্য আমি সুগম করে দিব সহজ পথ। আর কেউ কৃপণতা করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা ভাল তা অস্বীকার করলে আমি তার জন্য সুগম করে দিব কঠোর পথ”- (সূরা লাইল ৫-১০)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ২১৩৬ নং হাদীস পূর্বে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3345 — Jami At Tirmidhi 47:397
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ جُنْدَبٍ الْبَجَلِيِّ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَارٍ فَدَمِيَتْ أُصْبُعُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَلْ أَنْتِ إِلاَّ إِصْبَعٌ دَمِيتِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيتِ " . قَالَ وَأَبْطَأَ عَلَيْهِ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ قَدْ وُدِّعَ مُحَمَّدٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ( ما وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ .
। জুনদাব আল-বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমি এক গুহার মাঝে ছিলাম। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙ্গুল হতে রক্তক্ষরণ হলে তিনি বলেনঃ তুই একটি আঙ্গুল মাত্র। তোর মাঝ হতে রক্ত বের হল। যা তোর উপর দিয়ে ঘটল তা আল্লাহ তা'আলার রাস্তাই। বর্ণনাকারী বলেন, জিবরীল (আঃ) কিছু দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট না এলে মুশরিকরা বলল, মুহাম্মাদ পরিত্যক্ত হয়েছে। সে সময় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তোমার প্রভু তোমাকে ত্যাগও করেননি বা তোমার প্রতি নাখোশও হননি"- (সূরা আয-যুহা ৩)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ ও সাওরী (রাহঃ) আল-আসওয়াদ ইবনু কুইস হতে রিওয়ায়াত করেছেন।
। মালিক ইবনু সাসা'আহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একদিন বাইতুল্লাহর নিকট আমি ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় অবস্থানরত ছিলাম। এমন সময় আমি এক বক্তাকে বলতে শুনলামঃ তিনজনের মধ্যে একজন। তারপর একখানা সোনার পেয়ালা আমার নিকট আনা হল যার মাঝে যমযমের পানি ছিল। তারপর আমার বক্ষদেশ তারা এই এই পর্যন্ত উম্মুক্ত বা বিদীর্ণ করে। কাতাদাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ)-কে বললাম, কোন পর্যন্ত তিনি বললেনঃ (তিনি বলেছেন) আমার পেটের নিম্নদেশ পর্যন্ত। অতঃপর আমার অন্তঃকরণ বের করে যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে আবার স্ব-স্থানে স্থাপন করা হয়। এরপর তা ঈমান ও হিকমত দ্বারা পরিপূর্ণ করা হয়। হাদীসে সুদীর্ঘ ঘটনা বিদ্যমান। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ওয়াত-তীন ওয়ায-যাইতুন পাঠ করে সে যেন “আলাইসাল্লাহু বিআহকামিল হাকিমীন” (আল্লাহ তা'আলা কি সকল বিচারকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন) পাঠের পর বলেঃ “বালা ওয়া আনা আলা যালিকা মিনাশ-শাহিদীন (হ্যা, অবশ্যই আমিও এ কথার সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত)। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (১৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি যে আরব বিদুইন আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন তার নাম অপরিচিত।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “আমিও শাস্তি প্রদানকারী ফেশেতাদেরকে আহবান করব”— (সূরা ‘আলাক ১৮) আয়াতের বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবূ জাহল বলল, যদি মুহাম্মাদকে আমি নামাযরত অবস্থায় পাই তবে তার ঘাড় পদদলিত করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তাই করতে সে প্রস্তুত হত তাহলে ফেরেশতারা তখনই তাকে আটক করত। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করছিলেন। আবূ জাহল তখন এসে বলল, আমি কি তোমাকে এ কাজ করতে বারণ করিনি, আমি তোমাকে এ কাজ করতে কি বারণ করিনি, আমি তোমাকে এ কাজ করতে কি বারণ করিনি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায সমাপ্ত করে তাকে ভৎসনা করলেন। আবূ জাহল বলল, তুমি নিশ্চয়ই জান যে, মক্কায় আমার তুলনায় বেশি সংখ্যক সমর্থক আর কারো নেই না)। সে সময় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “সে তার সহযোগীদের ডাকুক। আমি ডাকব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে”— (সূরা ‘আলাক ১৭-১৮)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! যদি আবূ জাহল তার সহযোগীদেরকে ডাকত, তাহলে আল্লাহ তা'আলার প্রহরীগণ (ফেরেশতাগণ) তাকে অবশ্যই প্রেপ্তার করত। হদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।