। ইউসুফ ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন হাসান (রাঃ) মুআবিআ (রাঃ)-এর নিকট বাই’আত গ্রহণের পর তার সামনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেনঃ আপনি (মুআবিয়ার নিকট বায়’আত গ্রহণ করে) মু'মিনদের চেহারা কলঙ্কিত করেছেন। এতে তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে অভিযুক্ত করো না। আল্লাহ তা'আলা তোমার প্রতি রহমত করুন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (স্বপ্নে) উমাইয়্যা বংশীয়দেরকে তার মিম্বারের উপর দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তার নিকট খারাপ লাগে। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ “আমি অবশ্যই তোমাকে কাওসার (ঝরণা) দান করেছি" (সূরাঃ আল-কাওসার- ১) অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ! আমি জান্নাতে তোমাকে কাওসার নামক ঝরণা দান করেছি। আরো অবতীর্ণ হয়ঃ “নিশ্চয় আমি এ কুরআন মহিমান্বিত রাতে অবতীর্ণ করেছি। আর মাহিমান্বিত রাত প্রসঙ্গে আপনি কি জানেন? মহিমান্বিত রাত হাজার মাস হতেও উত্তম" (সূরাঃ আল-কাঁদর- ১-৩)। হে মুহাম্মাদ! আপনার পরে বানী উমাইয়্যা অত মাস শাসন করবে। কাসিম (রাহঃ) বলেনঃ আমরা গণনা করে দেখেছি বানী উমাইয়্যাদের শাসনকাল ছিল পূর্ণ এক হাজার মাস’, এর এক দিন কম বা বেশি নয়। সনদ দুর্বল ও অস্থির, মতন মুনকার। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু কাসিম ইবনুল ফাযলের হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি। কথিত আছে যে, কাসিম ইবনুল ফাযল (রহঃ) ইউসুফ ইবনু মাযিনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কাসিম ইবনুল ফাযল আল-হুদ্দানী সিকাহ রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ও আবদুর রহমান ইবনু মাহদী তাকে বিশ্বাসযোগ্য বলেছেন। ইউসুফ ইবনু সা'দ অপরিচিত ব্যক্তি, আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই একই রকম শব্দে এ হাদীস বর্ণিত পেয়েছি।
। যির ইবনু হুবাইশ (রহঃ) বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাযি:) কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, সারা বছর যে লোক রাত জেগে ইবাদাত করবে সে কাদরের রাত লাভ করবে। উবাই (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা আবূ আবদুর রহমানকে মাফ করুন! নিশ্চয়ই তিনি জানেন যে, কাদরের রাত রমযানের শেষ দশ দিনে এবং তা সাতাশে রামযানের রাতেই। তবুও তার এ কথা বলার লক্ষ্য হল লোকেরা যেন (সাতাশ তারিখের) নির্ভর করে বসে না থাকে। তারপর কোন প্রকার ব্যতিক্রম না করেই উবাই (রাযিঃ) কসম করে বলেন, সাতাশের রাত কাদরের রাত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আবূল মুনযির! এ কথা আপনি কিসের পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন? তিনি বললেন, সেই আলামাত বা নিদর্শনের প্রেক্ষিতে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন। তা হলঃ ঐ দিন সকালে সূর্য এরূপভাবে উদিত হয় যে, তার মাঝে প্রখর রশ্মি থাকে না। হাসান সহীহঃ ৭৮৬ নং হাদীসেও পূর্বে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক লোক ইয়া খাইরাল বারিয়্যাহ্ (হে সৃষ্টির সেরা) বলে ডাকলে তিনি বললেনঃ সৃষ্টির সেরা হলেন ইবরাহীম (আঃ)। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৭/৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “সেই দিন দুনিয়া তার যাবতীয় সংবাদ ব্যক্ত করবে” (সূরাঃ আল-যিলযালঃ ৪)। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান দুনিয়ার সংবাদ কি? তারা বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার সংবাদ হল—তার বুকে প্রত্যেক নর-নারী যা কিছু করেছে সে তার সাক্ষ্য দিবে। সে (দুনিয়া) বলবে, সে তো অমুক অমুক দিন এই এই কাজ করেছে। এটাই হল যমীনের সংবাদ। সনদ দুর্বল, ২৫৪৬ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ।
। মুতাররিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। তিনি তখন (সূরা তাকাসুর) “তোমাদেরকে সম্পদের প্রাচুর্যের মোহ আল্লাহ তা'আলা হতে উদাসীন করে ফেলেছে”— (সূরা তাকাসুর ১) পাঠ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আদম সন্তান বলে, আমার মাল; আমার সম্পত্তি। কিন্তু যে জিনিস তুমি দান-খাইরাত করেছ (আল্লাহ তা'আলার খাতায়) তা জমা রেখেছ, যা খেয়ে শেষ করেছ কিংবা যা পরিধান করে পুরাতন করেছ, এগুলো ব্যতীত তোমার সম্পদ বলতে কিছু নেই। সহীহঃ মুসলিম, ২৩২৯ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমরা কবরের আযাব প্রসঙ্গে সংশয়ে ছিলাম। সেই প্রেক্ষাপটে সূরা আলহাকুমুত-তাকাসুর অবতীর্ণ হয়। সনদ দুর্বল আবূ কুরাইব কখনো আমর ইবনু আবূ কাইস হতে তিনি ইবনু আবী লাইলা হতে তিনি আল-মিনহাল হতে তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন। আমর ইবনু আবূ কাইস হলেন আর-রায়ী এবং আমর ইবনু আবূ কাইস আল-মালাঈ হলেন কূফার বাসিন্দা। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর ইবনুল আওওয়াম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হলঃ “তারপর তোমাদেরকে সেদিন অবশ্যই নি’আমাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে”— (সূরা তাকাসুর ৮)। সে সময় যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে কোন নি’আমাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে? আমাদের নিকট তো শুধুমাত্র দু'ধরনের জিনিস রয়েছে? খেজুর ও পানি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে (সম্পত্তি) তো অদূর ভবিষ্যতে অর্জিত হবে। হাদীসটির সানাদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন “তারপর তোমাদেরকে সেদিন নি'আমাত সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে”— (সূরা তাকাসুর ৮) আয়াত অবতীর্ণ হয় সে সময় লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে কোন সমস্ত নি’আমাত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হবে? আমাদের নিকট তো শুধু দুটি কালো জিনিস (খেজুর ও পানি) রয়েছে; আর সর্বদা দুশমন প্রস্তুত রয়েছে এবং আমাদের তরবারিগুলো আমাদের কাধে ঝুলন্ত রয়েছে? তিনি বললেনঃ এটা অদূর ভবিষ্যতে হবে। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় এটি হাসান। আবূ ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসের চাইতে মুহাম্মাদ ইবনু আমরের সূত্রে ইবনু উয়াইনাহ্ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি আমার দৃষ্টিতে বেশি বিশুদ্ধ। সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ (রহঃ) আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশের চেয়ে বেশি স্মরণশক্তি সম্পন্ন ও অনেক বিশুদ্ধ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট সর্বপ্রথম যে নি’আমাত প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সে প্রসঙ্গে তাকে বলা হবে, আমি তোমার শরীর কি সুস্থ রাখিনি এবং সুশীতল পানির মাধ্যমে তোমাকে তৃপ্ত করিনি? সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ৫৩৯), মিশকাত (হাঃ ৫১৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। আয-যাহহাক হলেন ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আরযাব। ইবনু আরযাব-কে ইবনু ‘আরযামও বলা হয়, আর ইবনু আরযামই অনেক বেশী সহীহ।
হাদিস 3359 — Jami At Tirmidhi 47:411
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ : ( إناَّ، أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ) أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " هُوَ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ " . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ نَهْرًا فِي الْجَنَّةِ حَافَتَاهُ قِبَابُ اللُّؤْلُؤِ قُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي قَدْ أَعْطَاكَهُ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “অবশ্যই আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি"- (সূরা কাওসার ১) আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কাওসার হল জান্নাতের একটি ঝর্ণা। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ জান্নাতে আমি এমন একটি প্রস্রবণ দেখলাম যার প্রত্যেক তীরে মুক্তার তাবু খাটানো রয়েছে। আমি বললামঃ হে জিবরীল! এটা কি? তিনি বললেনঃ এটা সেই “কাওসার” আল্লাহ তা'আলা যা আপনাকে দান করেছেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।