। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মি'রাজের রাতে) যখন আমি জান্নাতের মাঝে ভ্রমণ করতে করতে এক নহরের সম্মুখে পৌছে গেলাম, যার প্রত্যেক তীরে মুক্তার তাবু খাটানো রয়েছে, ফেরেশতাকে আমি প্রশ্ন করলাম, এটা কি? তিনি বললেন, এটা সেই কাওসার যা আল্লাহ তা'আলা আপনাকে দান করেছেন। অতঃপর জিবরীল তার হাত দিয়ে এর মাটি তোলেন। তা ছিল কস্তুরী। অতঃপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় তোলা হয়। তার নিকট আমি এক বিরাটকায় নূর প্রত্যক্ষ করলাম। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৬৫৮১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস আনাস (রাযিঃ) হতে একাধিকভাবে বর্ণিত আছে।
। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম কাওসার, যার প্রত্যেক তীর সোনার এবং যার পানি মুক্তা ও ইয়াকুতের উপর দিয়ে প্রবাহমান। এর যমীন কস্তুরীর তুলনায় অধিক সুগন্ধসম্পন্ন, এর পানি মধুর তুলনায় অধিক মিষ্ট এবং বরফের তুলনায় অধিক সাদা। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪৩৩৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের উপস্থিতিতে উমার (রাযিঃ) আমার নিকট অনেক বিষয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেন। তাকে আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) বলেন, আপনি তার নিকট প্রশ্ন করেন, অথচ আমাদেরও তার ন্যায় সন্তান-সন্ততি আছে। রাবী বলেন, "উমর (রাযিঃ) তাকে বললেন, তার নিকট প্রশ্ন করার কারণ আপনি জানেন। তারপর তিনি তাকে “যখন আল্লাহ তা'আলার সাহায্য ও বিজয় আসবে”— (সূরা নাসর ১) এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। আমি বললাম, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইন্তিকালের খবর যে বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা তাকে অবগত করেছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত সূরাটি তিলাওয়াত করলেন। তারপর উমর (রাযিঃ) তাকে বলেন, আল্লাহর শপথ! এর যে ব্যাখ্যা আপনি জানেন আমিও তাই জানি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯৬৯, ৪৯৭০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ সনদে মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি আবূ বিশর (রাহঃ) হতে উপরের হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাযিঃ) তাকে বলেন, আপনি এ ছেলের নিকট মাসআলাহ প্রশ্ন করেছেন, অথচ আমাদেরও এমন ছেলে রয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাফা পাহাড়ের উপর উঠে “ইয়া সাবাহা" (হে ভোরের বিপদ) বলে উচ্চকণ্ঠে ডাকলেন। ফলে কুরাইশ গোত্রের লোকেরা তার নিকট একত্রিত হয়। তিনি বললেনঃ তোমাদেরকে আমি এক কঠিন শাস্তির ভয় দেখাচ্ছি। তোমাদের কি মত, যদি আমি তোমাদেরকে বলি যে, সকাল বা সন্ধ্যায় শক্র বাহিনী তোমাদেরকে আক্রমণ করার জন্য আসছে, তাহলে আমাকে কি তোমরা বিশ্বাস করবে? সে সময় আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক! এজন্য কি তুমি আমাদেরকে একত্রিত করেছ? সে সময় আল্লাহ তা'আলা “তাব্বাত ইয়াদ আবী লাহাব" সূরা অবতীর্ণ করেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৯৭১, ৪৯৭২), মুসলিম (হাঃ ১/১৩৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, আমাদেরকে আপনার প্রভুর বংশ বৃত্তান্ত দিন। এরই জবাবে মহান আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ (“আপনি বলুন, তিনিই আল্লাহ” যিনি এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ তা'আলা কারো মুখাপেক্ষী নন)। আর সামাদ (অমুখাপেক্ষী) তিনিই, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি। কেননা যে কারো ঔরসজাত হবে সে মারা যাবে এবং তার উত্তরাধিকারীও হবে। অথচ আল্লাহ তা'আলা মৃত্যুবরণ করবেন না এবং তার উত্তরাধিকারীও কেউ নেই। “এবং তার সমান কেউ নেই।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার কোন সদৃশ ও সমকক্ষ নেই। “কোন কিছুই তার সদৃশ নয়।" (সূরা শূরা ১) “আর সামাদ তিনিই অংশ বাদে হাদীসটি হাসান, যিলালুল জান্নাহ।" তাহকীক সানী (হাঃ)
। আবূল আলিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দেবতাদের প্রসঙ্গে আলোচনা করলে তারা বললেঃ আপনি আপনার প্রভুর বংশধারা আমাদেরকে জানিয়ে দিন। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ সূরাটি নিয়ে আসেন...... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ সনদে উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। দুর্বল, প্রাগুক্ত সূত্রটি আবূ সাদের সনদ হতে বিশুদ্ধতর। আর আবূ সাদের নাম মুহাম্মাদ ইবনু মুইয়াসসার। আবূ জাফর-এর নাম ঈসা, আবূল আলিয়াহ-এর নাম রুফাই। তিনি কৃতদাস ছিলেন, একজন সাবিয়াহ মহিলা তাকে মুক্ত করেন।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ আল্লাহ তা'আলার নিকট এর ক্ষতি হতে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কেননা এটাই হল গাসিক (অন্ধকার) যখন তা গাঢ় হয়। হাসান সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৩৭২), মিশকাত (হাঃ ২৪৭৫)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন দুনিয়া সৃষ্টি করেন তখন তা দুলতে থাকে। তাই তিনি পর্বতমালা সৃষ্টি করে তাকে দুনিয়ার উপর স্থাপন করেন। ফলে দুনিয়া শান্ত হয়। পর্বতমালার শক্ত কাঠামোতে ফিরিশতাগণ বিস্মিত হয়ে বলেনঃ হে প্রতিপালক! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পর্বতমালা হতেও কঠিন কোন কিছু আছে কি? আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হ্যাঁ, লোহা। তারা বললেনঃ হে রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা হতেও শক্ত ও মজবুত কোন কিছু আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আগুন। তারা বললেনঃ হে প্রতিপালক "আগুন হতেও আপনার সৃষ্টির মধ্যে শক্তিমান ও কঠিন অন্য কিছু আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, পানি। তারা বললেনঃ প্ৰভু হে! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি হতেও শক্তিশালী কিছু আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, বায়ু। অবশেষে ফিরিশতাগণ বললেনঃ হে প্রতিপালক। বায়ু হতেও বেশি কঠিন ও শক্তিশালী আপনার সৃষ্টির মধ্যে কিছু আছে কি? আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ হ্যাঁ, সেই আদম-সন্তান, যে ডান হাতে দান-খাইরাত করলে তার বাম হাতের কাছে অজানা থাকে। যঈফ, মিশকাত (১৯২৩), তা’লীকুর রাগীব (২/৩১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস মারফু হিসেবে জেনেছি।