। আবূ গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ উমামা (রাযিঃ) দামিশকের সিড়ির উপর (খারিজীদের) কতগুলো মুণ্ড পড়ে থাকতে দেখলেন। আবূ উমামা (রাযিঃ) বললেন, এগুলো জাহান্নামের কুকুর এবং আসমানের চামড়ার (ছাদের) নিচে নিকৃষ্টতম নিহত এরা। আর এরা যাদেরকে হত্যা করেছে তারা উত্তম লোক। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ) “সেদিন কিছু মুখ উজ্জল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে। যাদের মুখ কালো হবে তাদের বলা হবে, তোমরা ঈমান আনার পরও কি কুফর করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর”— (সূরা আ-লি 'ইমরান ১০৬)। আবূ গালিব (রাহঃ) বলেন, আমি আবূ উমামাহ (রাযিঃ)-কে বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এটা শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি যদি এটা এক, দুই, তিন, চার, এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তাহলে তোমাদের নিকট তা বর্ণনা করতাম না। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৭৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবূ গালিবের নাম হাযাওওয়ার এবং আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাযিঃ)-এর নাম সুদাই ইবনু আজলান, তিনি বাহিলা গোত্রের নেতা।
। বাহয ইবনু হাকীম (রহঃ) পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উন্মাত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে"- (সূরা আল-ইমরান ১১০) আয়াত প্রসঙ্গে বলতে শুনেছেনঃ অবশ্যই তোমরাই দুনিয়াতে সত্তর (৭০) সংখ্যা পূর্ণকারী দল। তোমরাই আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বোত্তম ও মর্যাদা সম্পন্ন। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৮৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মাত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে” আয়াতের উল্লেখ করেননি।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙ্গে যায়। তার চেহারা যখম হয়, এমনকি কপালে যখম হওয়ার কারণে মুখমণ্ডলে রক্ত ঝড়ে পড়ে। তখন তিনি বললেনঃ কিভাবে ঐ জাতি সফলকাম হবে, যারা তাদের নবীর সাথে এহেন আচরণ করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার পথে আহবান করেছেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই। কারণ তারা যালিম”— (সূরা আ-লি ইমরান ১২৮)। সহীহঃ মুসলিম (৫/১৭৯), বুখারী মু'আল্লাকরূপে (৭/৩৬৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (উহুদের দিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তার সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙ্গে যায়। তার কাধের উপর একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। ফলে তার মুখমণ্ডল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকলে তিনি তা মুছে ফেলছিলেন এবং বলছিলেনঃ সেই জাতি কিভাবে নাজাত পেতে পারে, যারা তাদের নবীর সাথে এহেন নির্মম আচরণ করে, অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার দিকে আহবান করছেন। তখনি বারকাতময় আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ (অনুবাদ) “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই। কারণ তারা যালিম”— (সূরা আ-লি ইমরান:১২৮)। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আমি আবদ ইবনু হুমাইদকে বলতে শুনেছি, এই হাদীস বর্ণনায় ইয়াযীদ ইবনু হারূন ভুলের শিকার হয়েছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “হে আল্লাহ! আবূ সুফইয়ানের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ আল-হারিস ইবনু হিশামের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যার প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন।” বর্ণনাকারী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই.....”— (সূরা আ-লি ইমরান ১২৮)। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদের তওবাু কুবুল করেন এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করে উত্তম মুসলিম হন। সহীহঃ বুখারী (৪০৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উমার ইবনু হামযা কর্তৃক সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটিকে গারীব গণ্য করা হয়। যুহরী ও সালিম হতে, তার পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী) এটি উমার ইবনু হামযাহ্ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হিসেবে অবহিত নন। তিনি এটি যুহরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হিসেবে অবহিত আছেন।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারজন ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদদু'আ করছিলেন। এ সম্পর্কেই বারকতাময় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই। কারণ তারা যালিম”— (সূরা আ-লি ইমরান:১২৮)। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করেছিলেন। হাসান সহীহঃ বুখারী (৪০৬৯, ৪০৭০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এটিকে নাফি (রহঃ) কর্তৃক ইবনু উমর (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব গণ্য করা হয়। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুবও ইবনু আজলানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। আসমা ইবনুল হাকাম আল-ফাযারী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি এমন লোক ছিলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন হাদীস শুনলে আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় আমি তার দ্বারা প্রভূত উপকৃত হতাম। আর আমার নিকট তার কোন সাহাবী হাদীস বর্ণনা করলে আমি তাকে শপথ করতে বলতাম। আমার কথায় তিনি শপথ করলে, আমি তার সত্যতা স্বীকার করতাম। অতএব আবূ বাকর (রাযিঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন। বলা বাহুল্য, আবূ বাকর (রাযিঃ) সত্য কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন লোক যদি গুনাহ করার পর পবিত্রতা অর্জন করে নামায আদায় করে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে তাকে আল্লাহ তা'আল। অবশ্যই ক্ষমা করে দেন। তারপর তিনি এ আয়াত পড়েন (অনুবাদ) “যাদের অবস্থা এমন যে, তারা কখনো অশ্লীল কর্ম করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে পরে আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (তাদেরকে ক্ষমা করা হয়)। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কে গুনাহ মাফ করতে পারে? আর তারা যা করে ফেলেছে জ্ঞাতসারে তার পুনরাবৃত্তি করে না”— (সূরা আলি ইমরান-১৩৫)। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৩৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উসমান ইবনুল মুগীরাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে শুবাহ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। মিস'আর ও সুফইয়ানও উসমান ইবনুল মুগীরার সূত্রে এটি রিওয়ায়াত করেছেন, তবে মারফু হিসেবে নয়। কিছু বর্ণনাকারী এই হাদীসটি মিস’আর হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর কিছু বর্ণনাকারী মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুফইয়ান সাওরী তা উসমান ইবনুল মুগীরাহ হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীস ব্যতীত আসমা ইবনুল হাকাম কর্তৃক বর্ণিত আর কোন হাদীস আমাদের জানা নেই।
। আনাস (রাযিঃ) হতে আবূ তালহা (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন আমি মাথা তুলে তাকিয়ে দেখলাম, সকলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নিজ নিজ ঢালের নিচে ঢলে পড়েছেন। আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর তাৎপর্য তাইঃ “দুঃখ-কষ্টের পর আবার আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তন্দ্রারূপে প্রশান্তি দান করলেন”-(সূরা আ-লি ইমরান ১৫৪) সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদ ইবনু হুমাইদ-রাওহ ইবনু উবাদাহ্ হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূয যুবাইর (রহঃ) হতেও উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবূ তালহা (রাযিঃ) বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন যুদ্ধের কাতারে আমরা তন্দ্রাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। তিনি বলেন, আমিও সেদিন তন্দ্রাচ্ছন্ন লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ফলে বারবার আমার তরবারি আমার হাত হতে পড়ে যাচ্ছিল আর আমি তা তুলে নিচ্ছিলাম। আবার পড়ে যাচ্ছিল আবার তুলে নিচ্ছিলাম। অপর দলটি ছিল মুনাফিকদের। তাদের নিজ জানের চিন্তা ব্যতীত আর কোন চিন্তাই ছিল না। এরা ছিল সবচেয়ে কাপুরুষ ও ভীরু এবং সত্যের সাহায্য ত্যাগকারী। সহীহঃ বুখারী (৪০৮৬, ৪৫৬২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আবী উমার-সুফইয়ান হতে তিনি আতা ইবনু আস সাইব হতে তিনি আবূ উবাইদা হতে এই সূত্রে ইবনু মাসউদ হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে আরও অতিরিক্ত আছে "আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সালাম পৌছাবে আর তাকে জানাবে আমরা সন্তুষ্ট এবং আমাদের প্রতিও সন্তুষ্ট। সনদ দুর্বল
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, “অন্যায়ভাবে কোন বস্তু আত্মসাৎ করা কোন নবীর কাজ হতে পারে না”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৬১) আয়াত বাদর যুদ্ধকালে হারিয়ে যাওয়া একটি লাল চাদর প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। কেউ কেউ বলল যে, হয়ত তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গেই বারকাতময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ “খিয়ানাত (আত্মসাৎ) করা কোন নবীর কাজ হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি খিয়ানাত করবে, কিয়ামতের দিন সে তার খিয়ানাতসহ হাযির হবে। তারপর প্রত্যেক ব্যক্তিই তার কৃতকর্মের পুরাপুরি প্রতিফল লাভ করবে। কারো প্রতি যুলুম করা হবে না”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৬১)। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৮৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুস সালাম ইবনু হারব (রহঃ) খুসাইফির সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ খুসাইফ হতে, তিনি মিকসাম হতে এই সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তাতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি।