। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আমাকে বললেনঃ হে জাবির! কি ব্যাপার, আমি তোমাকে ভগ্নহৃদয় দেখছি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার আব্বা (উহুদের যুদ্ধে) শহীদ হয়েছেন এবং অসহায় পরিবার-পরিজন ও কর্জ রেখে গেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কিভাবে তোমার আব্বার সাথে মিলিত হয়েছেন আমি কি তোমাকে সেই সুসংবাদ দিব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কখনো কারো সাথে তার পর্দার অন্তরাল ব্যতীত (সরাসরি) কথা বলেননি কিন্তু তিনি তোমার বাবাকে জীবন দান করে তার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। তাকে তিনি বললেনঃ তুমি আমার নিকট (যা ইচ্ছা) চাও, আমি তোমাকে তা দান করব। সে বলল, হে প্ৰভু! আপনি আমাকে জীবনদান করুন, যাতে আমি আবার আপনার রাহে নিহত হতে পারি। বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ আমার পক্ষ থেকে আগে হতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে আছে যে, তারা আবার (দুনিয়ায়) ফিরে যাবে না। এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “যারা আল্লাহ তা'আলার পথে নিহত হয়েছে, তোমরা তাদেরকে মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা রিযিকপ্রাপ্ত”– (সূরা আ-লি ইমরান ১৬৯)। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৯০, ২৮০০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সনদসূত্রে হাসান গারীব। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল (রাহঃ) জাবির (রাযিঃ)-এর সূত্রে এ হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। এটিকে আমরা মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে জেনেছি। আলী ইবনু আবদুল্লাহ আল-মাদীনীসহ অপরাপর হাদীসবিদগণ মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে লোক তার সম্পদের যাকাত প্রদান করে না, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার (মালকে তার) ঘাড়ে বিষধর অজগর সাপরূপে স্থাপন করবেন। তারপর তিনি এই কথার সত্যতা প্রমাণে আল্লাহ তা'আলার কিতাবের এ আয়াত আমাদেরকে শুনান (অনুবাদ) “তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। না, এটা তাদের পক্ষে অকল্যাণকর। যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলার বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য। তোমরা যা কর আল্লাহ তা'আলা তা বিশেষভাবে অবহিত”– (সূরা আ-লি ইমরান ১৮০)। বর্ণনাকার কখনো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমর্থনে এ আয়াতাংশ পাঠ করেন (অনুবাদ) “যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ী হবে।” তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মধ্যেমে তার মুসলিম ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহ তা'আলার সাথে এরূপ অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট। এর সত্যতার সমর্থনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার কিতাবের এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের জন্য কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি তাকাবেন, আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন। তাদের জন্য রয়েছে উৎপীড়ক শাস্তি”— (সূরা আ-লি ইমরান ৭৭)। সহীহঃ মুশকিলাতুল ফাকর (৬০), তা’লীকুর রাগীব (১/৬৮) হাদীসের ২য় অংশ বুখারী (৭৪৪৫), মুসলিম (১/৮৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। “শুজা'আন আকরাআ” অর্থ সাপ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি চাবুক রাখার সমপরিমাণ জান্নাতের জায়গা সমগ্র পৃথিবী ও তার মধ্যকার সব কিছুর চাইতে উত্তম। তোমরা চাইলে এ আয়াত পাঠ করতে পারো (অনুবাদ) “(কিয়ামতের দিন) যাকে আগুন হতে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করানো হবে সেই সফলকাম। বস্তুত পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৮৫)। হাসানঃ সহীহাহ (১৯৮৭), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। হুমাইদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম তার দ্বাররক্ষীকে বললেন, হে আবূ রাফি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট যাও এবং তাকে বল, যে লোক তার প্রাপ্তীর জন্য খুশী হয় এবং কোন কাজ না করেও তার জন্য প্রশংসা কুড়াতে চায় সে শাস্তিযোগ্য হলে তো আমরা সকলেই শাস্তিযোগ্য হব। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, এ আয়াতের সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক, এ আয়াত তো কিতাবধারীদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তিলাওয়াত করেনঃ (অনুবাদ), “যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেনঃ তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এরপরও তারা তা অগ্রাহ্য করে এবং তুচ্ছ মূল্যে তা বিক্রয় করে। সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট"- (সূরা আ-লি ইমরান ১৮৭)। তিনি আরো তিলাওয়াত করেনঃ (অনুবাদ) “তুমি কখনো এরূপ ধারণা করো না যে, যেসব লোক স্বয়ং যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং স্বয়ং যা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, বরং তাদের জন্য রয়েছে মর্মস্তুদ শাস্তি"- (সূরা আ-লি 'ইমরান ১৮৮)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (আহলে কিতাব) নিকট কোন বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তা গোপন করে তার বিপরীত তথ্য তাকে অবহিত করে চলে যায়। তারা তাকে এ ধারণা দেয় যে, তিনি যে বিষয়ে তাদের নিকট জানতে চেয়েছেন তারা তাই তাকে জানিয়েছেন। বিনিময়ে তারা তার নিকট হতে প্রশংসা কামনা করে এবং তাদের কিতাব হতে তথ্য প্রদানের বিষয়টি ও তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানতে চাওয়ার বিষয়টিতে সত্য গোপন করে তারা আনন্দ বোধ করে। সহীহঃ বুখারী (৪৫৬৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েকজন মহিলা আওতাস যুদ্ধের দিন আমাদের হস্তগত হয়, যাদের স্বামীরা মুশরিকদের মধ্যে বর্তমান ছিল। তাই ঐ সব মহিলাকে আমাদের কিছু সংখ্যক লোক অপছন্দ করল। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ"- (সূরা আন-নিসা ২৪)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৮৭১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আওতাস যুদ্ধের দিন কয়েকজন বন্দী মহিলা আমাদের হাতে আসে যাদের স্বামীরা তাদের সম্প্রদায়ে বর্তমান ছিল। সাহাবীগণ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত সকল সধবা নারী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ"- (সূরা আন-নিসা ২৪)। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। সুফইয়ান সাওরী (রহঃ) এভাবে উসমান আল-বাত্তী হতে, তিনি আবূল খালীল হতে, তিনি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। অবশ্য এ হাদীসে আবূ আলকামার উল্লেখ নেই। কাতাদাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে হাম্মাম ব্যতীত অপর কেউ এ হাদীসের সনদে আবূ আলকামার উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আবূল খালীলের নাম সালিহ ইবনু আবূ মারইয়াম।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবীরা গুনাহ প্রসঙ্গে বলেনঃ তা হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার সাথে শারীক করা, বাবা-মার অবাধ্য হওয়া, নরহত্যা করা ও মিথ্যা বলা। সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (২৭৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। রাওহ ইবনু উবাদাহ (রহঃ) শুবাহ (রাহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদে (বর্ণনাকারীর নাম উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর-এর পরিবর্তে) আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর বলেছেন, তা সঠিক নয়।
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি সবচাইতে মারাত্মক কাবীরা গুনাহগুলো প্রসঙ্গে তোমাদেরকে অবহিত করবো না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদার স্থাপন, বাবা-মার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন, এবার উঠে সোজা হয়ে বসে বললেন; মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা কথা বলা। আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বারবার বলে যাচ্ছিলেন। এমনকি আমরা বললাম, আহা! তিনি যদি চুপ হতেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।