حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، حَدَّثَنِي عَمَّارٌ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয়ষট্টি বছর বয়সে মারা যান (জন্ম ও মৃত্যুর বছর দুটিকে আলাদা দুটি বছর ধরে)। শাজ, (৩৪৫৬) নং হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয়ষট্টি বছর বয়সে মারা যান। শাজ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3652 — Jami At Tirmidhi 49:48
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَكَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ - يَعْنِي يُوحَى إِلَيْهِ وَتُوُفِّيَ وَهُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَدَغْفَلِ بْنِ حَنْظَلَةَ وَلاَ يَصِحُّ لِدَغْفَلٍ سَمَاعٌ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ رُؤْيَةٌ . وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ .
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় তের বছর বসবাস করেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ৩৬২১ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, আনাস ইবনু মালিক ও দাগফাল ইবনু হানযালাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। তবে দাগফালের প্রত্যক্ষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখা ও তার নিকট হতে হাদীস শোনার কথাটি যথার্থ নয়। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান এবং আমর ইবনু দীনারের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়াহ ইবনু আবী সুফইয়ান (রাযিঃ)-কে খুতবাহ দানকালে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং আবূ বাকর ও উমর (রাযিঃ)-ও। আর এখন আমার বয়সও তেষট্টি বছর। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৩১৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তেষট্টি বছর বয়সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত (৩১৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরীর ভাইয়ের ছেলে-যুহরী হতে, তিনি উরওয়াহ্ হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি প্রত্যেক বন্ধুর বন্ধুত্ব হতে অব্যাহতি গ্রহণ করছি। আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ কুহাফার ছেলে আবূ বাকর সিদ্দীককেই বন্ধু বানাতাম। তোমাদের এই সাথী আল্লাহ তা'আলার অন্তরঙ্গ বন্ধু। সহীহঃ যঈফাহ ৩০৩৪ নং হাদীসের অধীনে, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ, আবূ হুরাইরাহ, ইবনুয যুবাইর ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদের নেতা, আমাদের মাঝে সবচাইতে উত্তম, আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশি পছন্দনীয় ব্যক্তি। হাসানঃ মিশকাত (৬০১৮), বুখারী (৩৭৫৪) নং হাদীসে এর প্রথমাংশ উল্লেখ আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি সহীহ গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মাঝে তার কাছে কে সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন। তিনি বললেন, আবূ বাকর (রাযিঃ)। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? তিনি বললেন, উমর (রাযিঃ)। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? তিনি বললেন, আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? শাকীক (রহঃ) বলেন, এবার তিনি চুপ থাকলেন। সহীহঃ মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (জান্নাতে) সর্বোচ্চ সম্মাননায় আসীন লোকদেরকে অবশ্যই তাদের নীচের মর্যাদার লোকেরা দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আসমানের দিগন্তে উদিত তারকা দেখতে পাও। আবূ বাকর ও উমার তাদেরই দলভুক্ত, বরং আরো বেশি রহমত ও মর্যাদার অধিকারী। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস আতিয়াহ হতে আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর বরাতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 3659 — Jami At Tirmidhi 49:55
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي الْمُعَلَّى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ يَوْمًا فَقَالَ " إِنَّ رَجُلاً خَيَّرَهُ رَبُّهُ بَيْنَ أَنْ يَعِيشَ فِي الدُّنْيَا مَا شَاءَ أَنْ يَعِيشَ وَيَأْكُلَ فِي الدُّنْيَا مَا شَاءَ أَنْ يَأْكُلَ وَبَيْنَ لِقَاءِ رَبِّهِ فَاخْتَارَ لِقَاءَ رَبِّهِ " . قَالَ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَلاَ تَعْجَبُونَ مِنْ هَذَا الشَّيْخِ إِذْ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً صَالِحًا خَيَّرَهُ رَبُّهُ بَيْنَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ لِقَاءِ رَبِّهِ فَاخْتَارَ لِقَاءَ رَبِّهِ . قَالَ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَهُمْ بِمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ بَلْ نَفْدِيكَ بِآبَائِنَا وَأَمْوَالِنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ أَمَنَّ إِلَيْنَا فِي صُحْبَتِهِ وَذَاتِ يَدِهِ مِنِ ابْنِ أَبِي قُحَافَةَ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ خَلِيلاً وَلَكِنْ وُدٌّ وَإِخَاءُ إِيمَانٍ وُدٌّ وَإِخَاءُ إِيمَانٍ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ " وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ بِإِسْنَادٍ غَيْرِ هَذَا . وَمَعْنَى قَوْلِهِ أَمَنَّ إِلَيْنَا يَعْنِي أَمَنَّ عَلَيْنَا . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। আবূল মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা (ভাষণ) দেবার সময় বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তার এক বান্দাকে এই ইখতিয়ার দেন যে, সে যতদিন ইচ্ছা দুনিয়ায় জীবন যাপন করবে এবং দুনিয়ার নিয়ামাতরাজি যথেচ্ছা ভোগ করবে অথবা আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হবে। ঐ বান্দা আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হওয়াকেই ইখতিয়ার করেছে। রাবী বলেন, (এ কথা শুনে) আবূ বাকর (রাঃ) কেঁদে ফেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বলেন, তোমরা কি এ বৃদ্ধের কাণ্ড দেখে অবাক হবে না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল্লাহ্ তা'আলার এক পুণ্যবান বান্দা প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন, তাকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্য অর্জন, এ দু'টির যে কোন একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিয়েছেন তখন সে বান্দা তার রবের সান্নিধ্য অর্জনকেই ইখতিয়ার করেছেন (এতে কান্নার কি আছে)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তার তাৎপর্য বুঝার ব্যাপারে আবূ বাকর (রাঃ)-ই ছিলেন তাদের মধ্যে বেশি জ্ঞানী। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, বরং আমরা আমাদের পিতা-মাতা ও আমাদের ধন-সম্পদ আপনার জন্য উৎসর্গ করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে নিজের সাহচর্য ও নিজস্ব সম্পদ দিয়ে ইবনু আবূ কুহাফার চাইতে অধিক আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। যদি আমি আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে ইবনু আবূ কুহাফাকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু বড় বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে ঈমানের (বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব)। এ কথা তিনি দুই অথবা তিনবার বলেন। তোমরা জেনে রাখ! তোমাদের সাথী (মহানবী) আল্লাহ্ তা'আলার একনিষ্ঠ বন্ধু। সনদ দুর্বল এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।