। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে নববীর) মিম্বারে বসে বললেনঃ আল্লাহ তার এক বান্দাকে দুনিয়ার ভোগবিলাস ও আল্লাহ তা'আলার কাছে রক্ষিত ভোগবিলাস এ দুইয়ের মাঝে যে কোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দান করলে ঐ বান্দা আল্লাহ তা'আলার কাছে রক্ষিত ভোগবিলাসকে এখতিয়ার করেছেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমাদের বাবা-মা উৎসর্গিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা (তার কথায়) বিস্মিত হলাম এবং লোকেরা বলল, এই বৃদ্ধ লোকের প্রতি খেয়াল কর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দা প্রসঙ্গে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাকে আল্লাহ তা'আলা এখতিয়ার দিয়েছেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়ার ভোগ সামগ্ৰীও দান করতে পারেন কিংবা তিনি ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলার নিকট তাকে রক্ষিত ভোগসামগ্ৰীও দান করতে পারেন। অথচ এই লোক বলছেন, আপনার জন্য আমাদের বাবা-মাকে উৎসর্গ করলাম! সেই এখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদের মাঝে, তার প্রসঙ্গে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকদের মাঝে স্বীয় মাল ও সাহচর্য দিয়ে আমার প্রতি সবচাইতে উপকার (কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ) করেছেন আবূ বকর। আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবূ বাকরকেই একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই যথেষ্ট। মসজিদে আবূ বাকরের দ্বার (বা জানালা) ছাড়া আর কোন দ্বার (বা জানালা) বাকি থাকবে না। সহীহঃ বুখারী (৩৬৫৪), মুসলিম (৭/১০৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর ছাড়া আর কারো যে কোন ধরনের দয়া আমার উপর ছিল আমি তার প্রতিদান দিয়েছি। আমার উপর তার যে দয়া রয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে তার প্রতিদান দিবেন। আর আমাকে কারো সম্পদ এতটা উপকৃত করেনি, যতটা আবু বাকরের সম্পদ আমাকে উপকৃত করেছে। আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গভাবে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকরকেই একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। অবগত হও! তোমাদের এই সাথী আল্লাহ তা'আলার অন্তরঙ্গ বন্ধু। যঈফঃ তবে “কারো সম্পদ আমাকে এতটা উপকার করেনি....” শেষ পর্যন্ত সহীহঃ তাখরাজু মুশকিলাতিল ফাকর (১৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার পরে আবূ বাকর ও উমারের অনুসরণ করবে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৭)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী-আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি রিবাঈর আযাদকৃত গোলাম হতে তিনি, রিব’ঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। আহমাদ ইবনু মানী' প্রমুখ-সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসে সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ নিজ শাইখের নাম গোপন (তাদলীস) করেছেন। অতএব কখনও তিনি বর্ণনা করেছেন যাইদা-মালিক ইবনু উমাইর হতে, আবার কখনো যাইদার নাম উল্লেখ করেননি। ইবরাহীম ইবনু সা'দ এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি রিব’ঈর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস হতে, তিনি রিব’ঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি সালিম আল-আন উমী রিবাঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 3663 — Jami At Tirmidhi 49:59
সহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي الْعَلاَءِ الْمُرَادِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ هَرِمٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، رضى الله عنه قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنِّي لاَ أَدْرِي مَا بَقَائِي فِيكُمْ فَاقْتَدُوا بِاللَّذَيْنِ مِنْ بَعْدِي " . وَأَشَارَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ .
। হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আমরা অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে আমি আর কত দিন বেঁচে থাকব তা আমার জানা নেই। অতএব তোমরা আমার অবর্তমানে দু'জন লোকের অনুসরণ করবে- এ কথা বলে তিনি আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ)-এর দিকে ইশারা করলেন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ) প্রসঙ্গে বলেছেনঃ এরা দু’জন নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর জান্নাতের সকল বয়স্কদের নেতা হবেন। সহীহঃ দেখুন পরবর্তী হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। সে সময় আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ) আবির্ভূত হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরা দুজন জান্নাতে নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর (সৰ্বকালের) পূর্ণ বয়স্কদের নেতা হবেন। হে ‘আলী! এটা তাদেরকে জানাবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আল-ওয়ালীদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুয়াক্কিরী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। ‘আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ) আলী (রাযিঃ) হতে কিছু শুনেননি। এ হাদীস অবশ্য আলী (রাযিঃ) হতে অন্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর ও উমার নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর সমস্ত বয়স্ক জান্নাতবাসীর নেতা হবেন। হে ‘আলী! তাদের দু’জনকে জানাইও না। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন, আমি সেই লোক নই কি যে সর্বাগ্রে ইসলাম কবুল করেছে? আমি কি এমন কাজের অধিকারী নই? সহীহঃ আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (১৯-২০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস কতিপয় বর্ণনাকারী শুবাহ হতে, তিনি জুরাইরী হতে, তিনি আবূ নাযরাহ-এর সনদে উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন। এটাই বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি জুরাইরী হতে, তিনি আবূ নাযরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন ... উক্ত মর্মে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন এবং এতে তিনি আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এটাই অধিক সহীহ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের আবূ বাকর ও উমারসহ বসা অবস্থায় তাদের নিকট আসতেন। কিন্তু আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। অথচ তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকাতেন এবং তিনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকাতেন। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন এবং তিনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৫৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাকাম ইবনু আতিয়্যার সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। কোন কোন হাদীস বিশারদ হাকাম ইবনু আতিয়্যার সমালোচনা করেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমর (রাঃ)-এর হাত ধরা অবস্থায় বেরিয়ে এসে মসজিদে ঢুকেন। তাদের একজন ছিলেন তার ডান পাশে এবং অপরজন ছিলেন তার বাম পাশে। তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমরা এভাবে (হাত ধরা অবস্থায়) উঠবো। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৯৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু মাসলামা হাদীসবিশেষজ্ঞদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। এ হাদীসটি নাফি হতে ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রেও ভিন্নরূপে বর্ণিত হয়েছে।