। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বাকরকে হুকুম দাও তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারনে লোকদেরকে কিরাআত শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমার (রাযিঃ)-কে হুকুম দিন তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি পুনরায় বললেনঃ আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এবার আমি হাফসাহ (রাযিঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, আবূ বাকর (রাযিঃ) তার স্থানে দাড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারণে লোকদেরকে (তার কিরাআত) শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমার (রাযিঃ)-কে বলুন তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। হাফসাহ (রাযিঃ) তাই করলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমারই তো ইউসুফ (আঃ)-এর জন্য সমস্যা সৃষ্টিকারী সঙ্গী (যার ফলে তিনি জেলে যেতে বাধ্য হন)। আবূ বাকরকেই লোকদের নামায আদায় করানোর হুকুম দাও। সে সময় হাফসাহ (রাযিঃ) আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে বললেন, কখনো আমি তোমার নিকট হতে মঙ্গল পাইনি। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২৩২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ মূসা, ইবনু আব্বাস, সালিম ইবনু উবাইদ ও 'আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 3673 — Jami At Tirmidhi 49:69
Very DaifVery Daifদাঈফ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مَيْمُونٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَنْبَغِي لِقَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَؤُمَّهُمْ غَيْرُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে আবূ বাকর হাযির থাকতে তাদের ইমামতি করা অন্য কারো জন্য কাম্য নয়। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (৪৮২০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একই মালের এক জোড়া আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় খরচ করে তাকে জান্নাতে ডাকা হবে, হে আল্লাহ তা'আলার বান্দা! এটাই উত্তম জায়গা। সুতরাং যে লোক নামাযী, তাকে নামাযের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক মুজাহিদ তাকে জিহাদের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক দানশীল তাকে দান-খাইরাতের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক রোযাদার তাকে রোযার বিশেষ দ্বার (রাইয়্যান) হতে আহবান করা হবে। সে সময় আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! কোন লোককে সকল দরজা হতে ডাকার তো দরকার নেই। তা সত্ত্বেও কোন লোককে কি এসবগুলো দরজা হতে আহবান করা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি আপনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৮৭৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। যাইদ ইবনু আসলাম (রহঃ) কর্তৃক তার পিতা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের যুদ্ধের প্রাক্কালে) আমাদেরকে দান-খাইরাত করার হুকুম করেন। সৌভাগ্যক্রমে ঐ সময় আমার সম্পদও ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম, যদি আমি কোন দিন আবূ বকর (রাযিঃ)-কে ডিঙ্গাতে পারি তাহলে আজই সেই সুযোগ। উমার (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার পরিবার -পরিজনদের জন্য তুমি কি বাকি রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) তার সমস্ত মাল নিয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ বাকর! তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য তুমি কি বাকি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, তাদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূলকেই রেখে এসেছি। আমি (মনে মনে) বললাম, কখনও আমি কোন প্রসঙ্গে আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে ডিঙ্গাতে পারব না। হাসানঃ মিশকাত (৬০২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জুবাইর ইবনু মুত্বইম (রাযিঃ) বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার সঙ্গে কোন প্রসঙ্গে কথা বলল। তিনি তাকে কিছু করার ব্যাপারে হুকুম দেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আচ্ছা আমি (আবার এসে) আপনাকে যদি না পাই? তিনি বললেনঃ যদি তুমি আমাকে না পাও তবে আবূ বাকরের কাছে এসো। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এই সূত্রে গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন এক লোক একটি গরুর পিঠে আরোহিত থাকা অবস্থায় গরুটি বলল, আমাকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃষিকাজের জন্য। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি, আবূ বাকর ও উমর (রাঃ)-এই বিষয়টির উপর দৃঢ় আস্থা স্থাপন করলাম। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, তারা দু'জন সেদিন জনতার মাঝে হাযির ছিলেন না। সহীহঃ ইরওয়াহ (২৪৭), বুখারী ও মুসলিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শু’বাহ (রাহঃ) হতে উপর্যুক্ত সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকরের দ্বার ছাড়া আর সমস্ত দ্বার বন্ধ করে দেয়ার হুকুম দেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, দেখুন হাদীস নং ৩৬৬০। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবূ বাকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলে তিনি বললেনঃ আপনি জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তিপ্রাপ্ত আল্লাহর বান্দা (আত্বীকুল্লাহ)। সেদিন হতে তিনি আতীক নামে ভূষিত হন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ৬০২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী মাআন হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদের উল্লেখ করেছেন।