। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীরই আকাশবাসীদের মধ্য হতে দু’জন উযীর এবং যমিনবাসীদের মধ্য হতে দু'জন উযীর ছিল। আকাশবাসীদের মধ্য হতে আমার দু'জন উযীর হলেন জিবরীল ও মীকাঈল আলাইহিস সালাম এবং যমিনবাসীদের মধ্য হতে আমার দু'জন উযীর হলেন আবূ বাকর ও উমার। যঈফ, মিশকাত (৬০৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আর আবূল জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবনু আবূ আওফ। সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আবূল জাহহাফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন প্রিয় লোক। তালীদ ইবনু সুলাইমানের ডাক নাম আবূ ইদরীস, তিনি শীয়া মতালম্বী।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ! আবূ জাহল কিংবা উমার ইবনুল খাত্তাব- এই দু'জনের মাঝে তোমার নিকট যে বেশি প্রিয়, তার মাধ্যমে তুমি ইসলামকে মজবুত কর ও মর্যাদা দান কর”। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, ঐ দু'জনের মাঝে উমর (রাযিঃ)-ই আল্লাহ তা'আলার প্রিয় হিসেবে আবির্ভূত হন। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬০৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা উমার (রাযিঃ)-এর মুখে ও হৃদয়ে সত্যকে স্থাপন করেছেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, জনগণের সম্মুখে কখনো কোন প্রসঙ্গ আবির্ভূত হলে লোকজনও তা সম্পর্কে মন্তব্য ব্যক্ত করত এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও অভিমত ব্যক্ত করতেন। দেখা যেত, উমর (রাযিঃ)-এর অভিমত এর সমর্থনে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১০৮)। এ অনুচ্ছেদে আল-ফাযল ইবনু আব্বাস, আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব। খারিজাহ ইবনু আবদুল্লাহ আল-আনসারী হলেন ইবনু সুলাইমান ইবনু যাইদ ইবনু সাবিত। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
হাদিস 3683 — Jami At Tirmidhi 49:79
Very DaifVery Daifদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنِ النَّضْرِ أَبِي عُمَرَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ أَوْ بِعُمَرَ " . قَالَ فَأَصْبَحَ فَغَدَا عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُهُمْ فِي النَّضْرِ أَبِي عُمَرَ وَهُوَ يَرْوِي مَنَاكِيرَ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “হে আল্লাহ আবূ জাহল ইবনু হিশাম অথবা উমার ইবনুল খাত্তাবের মারফত ইসলামকে শক্তিশালী কর"। রাবী বলেনঃ পরের দিন সকালে উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কুবুল করেন। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত (৬০৩৬) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। কিছু মুহাদ্দীস আন-নাযর আবূ উমারের সমালোচনা করেছেন। তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উমর (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরেই হে সর্বোত্তম মানুষ। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আপনি আমার প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করলেন। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবশ্যই বলতে শুনেছিঃ উমারের চাইতে অধিক ভালো কোন লোকের উপর দিয়ে সূর্য উঠেনি। মাওযু, যঈফা (১৩৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীসের সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, আমি মনে করি না যে, এমন কোন ব্যক্তি আছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসেন অথচ আবূ বাকর ও উমর (রাযিঃ)-এর মর্যাদা খাটো করে দেখেন। সনদ সহীহ মাকতু'। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমার ইবনুল খাত্তাবই নবী হত। হাসানঃ সহীহাহু (৩২৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মিশরাহ ইবনু আ-হান বর্ণিত হাদীস হিসাবে এটি অবগত হয়েছি।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হয়েছে, তা হতে আমি পান করলাম এবং বাকি অংশটুকু উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কি ব্যাখ্যা করেন? তিনি বললেনঃ “জ্ঞান"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ২২৮৪ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মি'রাজের রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তাতে একখানা সোনার বালাখানা প্রত্যক্ষ করলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, এ বালাখানা কার? ফেরেশতারা বললেন, কুরাইশের এক যুবকের। আমি ধারণা করলাম, আমিই সেই যুবক। আমি প্রশ্ন করলামঃ কে সেই যুবক? ফেরেশতারা বললেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব। সহীহঃ সহীহাহ (১৪০৫, ১৪২৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, এক দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযিঃ)-কে ডেকে বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জান্নাতে কি কারণে আমার আগে আগে থাকছঃ যখনই আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি সে সময়ই আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। গত রাতেও আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি এবং আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। আমি স্বর্ণনির্মিত একটি বর্গাকার সুউচ্চ প্রাসাদের নিকট এসে বললামঃ এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতারা বললেন, এটা আরবের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমি একজন আরব। সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, কুরাইশ বংশের এক লোকের। আমি বললামঃ আমি কুরাইশ বংশীয়, অতএব এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মাতের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমিই মুহাম্মাদ, সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, উমার ইবনুল খাত্তাবের। তারপর বিলাল (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো আমি আযান দিলেই দুই রাকাআত নামায আদায় করি এবং কখনো আমার উযূ ছুটে গেলেই আমি উযূ করি এবং মনে করি আল্লাহ তা'আলার নামে দুই রাকাআত নামায আদায় করা আমার কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দু'টি কারণেই (তোমার এ মর্যাদা)। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (১/৯৯)। এ অনুচ্ছেদে জাবির, মুআয ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের মাঝে আমি সোনার তৈরী একখানা প্রাসাদ দেখে বললাম, এ প্রাসাদটি কার? বলা হল, উমার ইবনুল খাত্তাবের। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ “গত রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি", এর অর্থ “আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি”। কোন কোন হাদীসে এ রকমই বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নবীদের স্বপ্নও ওয়াহী।