। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছে এবং তা হেফয রেখেছে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনেছে, তাকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন ব্যাক্তি সম্পর্কে তার শাফায়াত কবুল করবেন যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম অনিবার্য ছিল। অত্যন্ত দুর্বল, ইবনু মাজাহ (২১৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র সহীহ নয়। হাফস ইবনু সুলাইমান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
। আল-হারিস আল-আওয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক সময় আমি মসজিদে গিয়ে দেখি যে, কিছু লোক নানারকম আলাপ করছে। আমি আলী (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, লোকেরা নানারকম আলাপ করছে? তিনি প্রশ্ন করলেন, তারা কি তাই করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শোনা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ হুশিয়ার শীঘ্রই ফিতনা-ফাসাদ দেখা দিবে। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ ফিতনা হতে আত্মরক্ষার পন্থা কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব (কুরআন)। এতে আছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ ও পরবর্তীদের সংবাদ এবং তোমাদের মাঝে ফায়সালার বিধান। এটা (সত্য-মিথ্যার মধ্যে) সুস্পষ্ট বিভাজনকারী, কোন অর্থহীন ব্যাপার নয়। যে ব্যক্তি গর্ববশে এটা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তা'আলা তার গর্ব চূৰ্ণ করবেন। এটাকে বাদ দিয়ে যে হিদায়াত খোজ করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটা হল আল্লাহ্ তা'আলার মযবুত রশি, হিকমাত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সহজ-সরলপথ। তা অনুসরণ করলে মানুষের চিন্তাধারা বিপথগামী হয় না এবং এতে যবানও আড়ষ্ট হয় না। আলিমগণ এ থেকে তৃপ্ত হয় না (যতই পড়ে ততই ভালো লাগে), বারবার পড়লেও এটা পুরানো হয় না এবং এর সহস্য ও নিগৃঢ় তত্ত্বের শেষ নেই। এটা সেই গ্রন্থ যা শোনা মাত্রই জিনেরা বলে উঠলো, “আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনলাম যা সঠিক পথের সন্ধান দেয়। সুতরাং আমরা এতে ঈমান এনেছি" (সূরাঃ জ্বিন-১, ২)। যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী কথা বলে সে সত্য বলে এবং যে সে অনুসারে আমল করে সে প্রতিদান পায়। যে এর সাহায্যে ফায়সালা করে সে ইনসাফ করে এবং যে এর দিকে আহবান করে সে সঠিক পথ দেখায়। হে আওয়ার! তুমি এটা শক্তভাবে আকড়ে ধর। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২১৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র অজানা। আল-হারিসের রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে বিরূপ সমালোচনা আছে।
। উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে লোকই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২১১), বুখারী। 'আবদুর রাহমান বলেন, এ হাদীসই আমাকে এ স্থানে বসিয়ে রেখেছে। তিনি উসমান (রাযিঃ)-এর যুগ হতে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের যুগ পর্যন্ত কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উসমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে লোকই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বা উত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং তা অন্যকে শিখায়। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী প্রমুখ সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আলকামাহ্ ইবনু মারসাদ হতে, তিনি আবূ আবদুর রাহমান হতে, তিনি উসমান (রাযিঃ) হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সুত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান উক্ত হাদিসের সনদে সা'দ ইবনু উবাইদার উল্লেখ করেননি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান এ হাদীস সুফইয়ান ও শুবাহ হতে, তিনি আলকামাহ হতে, তিনি ইবনু মারসাদ হতে, তিনি সা'দ ইবনু উবাইদাহ হতে, তিনি আবূ 'আবদুর রাহমান হতে, তিনি উসমান (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-সুফইয়ান ও শুবাহুর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার উক্ত হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ উক্ত হাদীস সুফইয়ান ও শুবাহ-একাধিকবার আলকামাহ ইবনু মারসাদের সূত্রে-সা'দ ইবনু উবাইদাহ্ হতে তিনি আবূ আবদুর রহমান হতে, তিনি উসমান (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, সুফইয়ানের শাগরিদগণ এর সনদে "সুফইয়ান-সা'দ ইবনু উবাইদাহ হতে" এভাবে উল্লেখ করেননি এবং এটাই সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, শুবাহ এ হাদীসের সনদে সা'দ ইবনু উবাইদার নাম অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন। সুফইয়ানের রিওয়ায়াতই যেন অধিক সহীহ। আলী ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, আমার মতে শুবাহুর সমতুল্য কেউ নেই। কোন রিওয়ায়াতের বেলায় সুফইয়ানের সাথে তার মতের অমিল হলে সেই ক্ষেত্রে আমি সুফইয়ানের বক্তব্য গ্রহণ করি। আবূ ঈসা বলেন, আমি আবূ আম্মারকে ওয়াকীর সূত্রে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেন, শুবাহ বলেছেন, সুফইয়ান আমার চাইতে অনেক বেশী স্মৃতিশক্তির অধিকারী। সুফইয়ান কারো বরাতে আমার নিকট কিছু বর্ণনা করলে আমি সেই প্রসঙ্গে উক্ত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলে তিনি হুবহু তাই বলেন যা সুফইয়ান আমাকে বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে আলী ও সা'দ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 2909 — Jami At Tirmidhi 45:35
সহিহ Lighairihiসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ " . وَهَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে লোকই তোমাদের মধ্যে উত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা অন্যকে শিখায়। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীস শুধু আবদুর রাহমান ইবনু ইসহাকের রিওয়ায়াত হিসেবে ‘আলী (রাযিঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে জেনেছি।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাবের একটি হরফ যে ব্যক্তি পাঠ করবে তার জন্য এর সাওয়াব আছে। আর সাওয়াব হয় তার দশ গুণ হিসেবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। সহীহঃ তাখরীজুত তাহাবীয়াহ (১৩৯), মিশকাত (২১৩৭)। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত সনদ সূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রেও এই হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীস আবূল আহওয়াস (রাহঃ) ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাদের কিছু বর্ণনাকারী এটিকে মারফু হাদীস হিসেবে এবং কিছু বর্ণনাকারী মাওকুফ হাদীস হিসেবে অর্থাৎ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উক্ত সনদে গারীব। আমি কুতাইবা ইবনু সাঈদকে বলতে শুনেছি, আমি অবগত হয়েছি যে, মুহাম্মাদ ইবনু কাব আল-কুরাযী (রাহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। মুহাম্মাদ ইবনু কাব আল-কুরাযী (রহঃ)-এর উপনাম আবূ হামযা।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা বান্দার দুই রাকাআত নামাযে যেভাবে মনঃসংযোগ করেন এর চেয়ে কোন কিছুতেই এই প্রকার করেন না। বান্দা যতক্ষণ নামাযে নিয়োজিত থাকে ততক্ষণ তার মাথার উপর সাওয়াব বর্ষিত হতে থাকে। বান্দা কুরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলার যতটুকু নৈকট্য অর্জন করতে পারে অন্য কিছু দ্বারা তার এত নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। যঈফ, মিশকাত (১৩৩২), যঈফা (১৯৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বাকর ইবনু খুনাইসের সমালোচনা করেছেন এবং পরিশেষে তাকে পরিহার করেছেন। যাইদ ইবনু আরতাত হতে জুবাইর ইবনু নুফাইর বরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে এটি মুরসালরূপে বর্ণিত আছে।
। জুবাইর ইবনু নুফাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার প্রস্রবণ হতে নিঃসৃত জিনিস অর্থাৎ কুরআন মাজীদের তুলনায় শ্রেষ্ঠতর কোন কিছু নিয়ে তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিকটে ফিরে যেতে পারবে না। যঈফ, যঈফা
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) কুরআনের বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাক ও উপরে আরোহণ করতে থাক এবং দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে ঠিক সেরূপে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে থাক। যে আয়াতে তোমার পাঠ সমাপ্ত হবে সেখানেই তোমার স্থান। হাসান সহীহঃ মিশকাত (২১৩৪), তা’লীকুর রাগীব (২/২০৮), সহীহ আবূ দাউদ (১৩১৭), সহীহাহ (২২৪০)।