। খারিজা ইবনু হুযাফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা একটি নামায দিয়ে তোমাদের সাহায্য করেছেন। এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম তা হল বিতরের নামায। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য এটা ইশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন —সহীহ। “এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম” এই অংশ বাদে। ইবনু মাজাহ– (১১৬৮)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, বুরাইদা ও আবু বাসরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ খারিজা ইবনু হুযাফার হাদীসটি গারীব। কেননা এটা আমরা শুধুমাত্র ইয়াযীদ ইবনু আবু হাবীবের সূত্রেই জেনেছি। কিছু মুহাদ্দিস এ হাদীস সম্পর্কে সন্দেহে পড়েছেন এবং আবদুল্লাহ ইবনু রাশিদ আয-যাওফীকে আয-যুরাকী বলে উল্লেখ করেছেন, তা ঠিক নয়। আবু বাসরাহ আল গিফারীর নাম হুমাইল ইবনু বাসরাহ। কোন কোন ব্যক্তি তার নাম জামীল বলেও উল্লেখ করেছেন। তা সঠিক নয়। আরেক আবু বাসরাহ গিফারী রয়েছেন যিনি আবু যার গিফারী থেকে হাদীস বর্ণনা করেও তিনি আবু যারের ভাইপো।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বিতরের নামায তোমাদের ফরয নামাযসমূহের মত অত্যাবশ্যকীয় (ফরয) নামায নয়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ নামায) তোমাদের জন্য সুন্নাতরূপে প্রবর্তন করেছেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ (মুমিনগণ)! তোমরা বিতর আদায় কর। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৬৯)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, ইবনু মাসউদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ‘আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান।
। সুফিয়ান সাওরী ও অন্যান্যরা আবু ইসহাক হতে, তিনি আসিম ইবনু যামরাহ হতে, তিনি ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আলী) বলেছেন, বিতরের নামায ফরয নামাযের মত জরুরী নামায নয়। বরং এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামায। —সহীহ। সহীহুত তারগীব- (৫৯০)। এ হাদীসটি পূর্ববতী আবু বাকার ইবনু আয়্যাশের হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ। মানসূর ইবনু মু'তামিরও এ হাদীসটি আবু ইসহাক হতে আবু বাকার ইবনু আয়্যাশের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিতর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, তিনি রাতের সকল ভাগেই বিতর আদায় করেছেন, হয় রাতের প্রথম ভাগে অথবা মধ্যভাগে অথবা শেষ ভাগে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিতর ভোর রাত পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৫৮), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুসাইনের নাম উসমান ইবনু আসিম আল-আসাদী এ অনুচ্ছেদে আলী, জাবির, আবু মাসউদ আনসারী ও আবু কাতাদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু "ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল আলিম শেষ রাতেই বিতর আদায় করা পছন্দ করেছেন।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের নামাযের সংখ্যা ছিল তের রাকাআত। এর মধ্যে পাঁচ রাকাআত তিনি বিতর আদায় করতেন। এ পাঁচ রাক'আত আদায় শেষ করেই তিনি বসতেন। মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি উঠে হালকা দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২০৯, ১২১০), সালাতুত তারাবীহ, মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা বিতর নামায পাঁচ রাকাআত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এর কোন রাকাআতেই বসবে না, সর্বশেষ রাকাআতে বসবে। আবু ঈসা বলেনঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বা সাত রাকাআত বিতর পড়তেন” এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুসআব আল-মাদীনীকে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, তিনি কিভাবে নয় বা পড়ার পর সালাম ফিরাতেন এবং শেষে এক রাকাআত বিতর পড়তেন।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাক’আত বিতরের নামায আদায় করতেন। তিনি এতে মুফাসসাল সূরাসমূহের নয়টি সুরা পাঠ করতেন, প্রতি রাকাআতে তিনটি করে সূরা পাঠ করতেন, এর মধ্যে সর্বশেষ সূরা ছিল “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ”। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত (১২৮১) এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন, আইশা, ইবনু আব্বাস, আবূ আইউব, আবদুর রহমান ইবনু আবযা উবাই ইবনু কা'ব প্রমুখ সাহাবী হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা তিন রাক‘আত বিতর আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, তুমি চাইলে বিতরের নামায পাঁচ, তিন বা এক রাক’আতও আদায় করতে পার। তিনি আরো বলেছেন, আমি তিন রাকাআত বিতর পড়া পছন্দ করি। ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীগণের অভিমতও ইহাই। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেছেন, তারা (নিজেরা) পাঁচ রাকাআতও আদায় করতেন, তিন রাকাআতও আদায় করতেন এবং এক রাকাআতও আদায় করতেন। তারা এর প্রতিটিকেই উত্তম মনে করেছেন।
। আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আমি কি সকালের দুই রাকাআত (সুন্নাত) দীর্ঘ করতে পারি? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামায দুই দুই রাকাআত করে আদায় করতেন এবং এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। অতঃপর দুই রাকাআত (সুন্নাত) আদায় করতেন এমনভাবে যে, তখনও তার কানে আযানের শব্দ আসত অর্থাৎ তিনি সংক্ষিপ্ত করতেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৪৪, ১৩১৮), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ্, জাবির, ফযল ইবনু আব্বাস, আবু আইয়ুব ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী ও তাবিঈ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, দুই রাক’আত আদায় করে সালাম ফিরাবে, পরে এক রাকাআত বিতর আদায় করবে। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ কথা বলেছেন।