। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা একে অপর হতে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত অথবা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার স্বাধীনতা বজায় থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, বসে থাকাবস্থায় ইবনু উমার (রাঃ) কোন জিনিস কিনলে (তা নির্ধারিত করার জন্য) উঠে দাড়িয়ে যেতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৮১), নাসা-ঈ আবূ হুরাইরা ও ই বনু আব্বাস (রাঃ) তেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। এই মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। তারা বলেন, একে অপর হতে আলাদা হওয়ার অর্থ হচ্ছেঃ সশরীরে আলাদা হওয়া, বাক্যালাপ বন্ধ করা নয়। অপর একদল আলিম বলেছেন, আলাদা হওয়ার অর্থ হচ্ছে কথাবার্তা বন্ধ হওয়া (অর্থাৎ চুক্তি অনুষ্ঠিত হলে এবং আলোচনার প্রসঙ্গ পরিবর্তিত হলে স্বাধীনতা বজায় থাকবে না)। কিন্তু প্রথম মতই অধিকতর সহীহ। কেননা, এ হাদীসের বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)। এজন্য তিনিই এ হাদীসের মর্ম বেশি ভাল বুঝতে পেরেছেন। তার প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক করতে চাইলে উঠে দাঁড়িয়ে যেতেন।
হাদিস 1246 — Jami At Tirmidhi 14:46
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا " . هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ وَحَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَسَمُرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَالُوا الْفُرْقَةُ بِالأَبْدَانِ لاَ بِالْكَلاَمِ . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا " . يَعْنِي الْفُرْقَةَ بِالْكَلاَمِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ لأَنَّ ابْنَ عُمَرَ هُوَ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَعْنَى مَا رَوَى وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوجِبَ الْبَيْعَ مَشَى لِيَجِبَ لَهُ . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ فِي فَرَسٍ بَعْدَ مَا تَبَايَعَا . وَكَانُوا فِي سَفِينَةٍ فَقَالَ لاَ أَرَاكُمَا افْتَرَقْتُمَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا " . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَغَيْرِهِمْ إِلَى أَنَّ الْفُرْقَةَ بِالْكَلاَمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ كَيْفَ أَرُدُّ هَذَا وَالْحَدِيثُ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَحِيحٌ . وَقَوَّى هَذَا الْمَذْهَبَ . وَمَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِلاَّ بَيْعَ الْخِيَارِ " . مَعْنَاهُ أَنْ يُخَيِّرَ الْبَائِعُ الْمُشْتَرِيَ بَعْدَ إِيجَابِ الْبَيْعِ فَإِذَا خَيَّرَهُ فَاخْتَارَ الْبَيْعَ فَلَيْسَ لَهُ خِيَارٌ بَعْدَ ذَلِكَ فِي فَسْخِ الْبَيْعِ وَإِنْ لَمْ يَتَفَرَّقَا . هَكَذَا فَسَّرَهُ الشَّافِعِيُّ وَغَيْرُهُ . وَمِمَّا يُقَوِّي قَوْلَ مَنْ يَقُولُ الْفُرْقَةُ بِالأَبْدَانِ لاَ بِالْكَلاَمِ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা একে অপর হতে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত উভয়ের জন্য (ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার) স্বাধীনতা বজায় থাকে। যদি তারা দুজনেই সততা অবলম্বন করে এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে তবে তাদের এই লেন-দেনে বারকাত হয়। যদি তারা মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে এবং দোষ-ত্রুটিগুলো গোপন করে রাখে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বারকাত তুলে নেয়া হয়। সহীহ, ইরওয়া (১২৮১), বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ এ হাদীসটি সহীহ। আবূ বারযা আসলামী (রাঃ) হতেও একইভাবে বর্ণিত আছে যে, নৌকায় বসে দুটি লোক একটি ঘোড়া কেনা-বেচা করল। এরপর দুজনের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হলে তারা আবূ বারযা (রাঃ)-এর নিকট এর সমাধান চায়। তখন তিনিও নৌকায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের দুজনকে একে অপর হতে আলাদা হতে দেখি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "ক্রেতা ও বিক্রেতা একে অপরে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত উভয়ের বেচা-কেনা বাতিল করার স্বাধীনতা বজায় থাকে৷” কূফার আলিমগণ বলেন, আলাদা হওয়ার অর্থ কথাবার্তা হতে আলাদা হওয়া। সুফিয়ান সাওরীরও এই মত। একইরকম মত ইমাম মালিক হতেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনুল মুবারাক বলেন, এ হাদীসের দলীল (সশরীরে পৃথক হওয়ার) আমি কিভাবে খণ্ডন করতে পারি? অথচ এ হাদীস সহীহ সনদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যা এই মতকেই মজবুত করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ স্বাধীনতামূলক ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ হলঃ ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে তা বাতিলের স্বাধীনতা প্রদান করে কিন্তু ক্রেতা তারপরও তা ক্রয় ঠিক রাখে, তারপর উভয়ে পৃথক না হলেও ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার স্বাধীনতা আর থাকে না। এ হাদীসের ব্যাখ্যা ইমাম শাফিঈ ও অন্যান্যরা এরূপই করেছেন। কিন্তু ইবনু উমারের হাদীস দ্বারা সশরীরে পৃথক হওয়ার মতটি প্রমাণিত হয়।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে একে অপর হতে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য (ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যানে) স্বাধীনতা বজায় থাকে, কিন্তু স্বাধীনতামূলক বেচা-কেনা হলে (আলাদা হওয়ার পরও স্বাধীনতা বজায় থাকে)। দুজনের মধ্যে যে কোন একজন ক্রয় বা বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করতে পারে, এই ভয়ে তাড়াতাড়ি আলাদা হওয়াও বৈধ নয়। হাসান সহীহ, ইরওয়া (১৩১১) এ হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ কোন জিনিস বিক্রয়ের পর ক্রেতা বা বিক্রেতা তা ফেরত দিতে বা নিতে পারে-এই ভয়ে তাড়াতাড়ি করে আলাদা হওয়া উচিত নয়। যদি কথার দ্বারা পৃথক হওয়া নির্ধারিত হত এবং বিক্রয়ের পর স্বাধীনতা না থাকত, তাহলে “ক্রয়-বিক্রয় বাতিলের ভয়ে তাড়াতাড়ি আলাদা হয়ে যাওয়া বৈধ নয়।” এ হাদীসের কোন অর্থই হত না।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা ক্রয়-বিক্রয়ের পর দুজনেই একে অপরের সন্তুষ্টি ছাড়া আলাদা হবে না। - হাসান সহীহ, ইরওয়া (৫/১২৫, ১২৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গরীব বলেছেন।
হাদিস 1249 — Jami At Tirmidhi 14:49
হাসানহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الشَّيْبَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَيَّرَ أَعْرَابِيًّا بَعْدَ الْبَيْعِ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুইনকে বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পরেও তা বাতিলের স্বাধীনতা প্রদান করেছিলেন। হাসান, বেচা-কেনার হাদীস
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এক ব্যক্তি খুবই দুর্বল ছিল। সে ক্রয়-বিক্রয় করত (কিন্তু ঠকে যেত)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তার পরিবারের লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে ক্রয়-বিক্রয় হতে বিরত থাকতে বলুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করলেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ক্রয়-বিক্রয় হতে বিরত থাকার কাজটি আমার ধৈর্যের উদ্ধে। তিনি বললেনঃ যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে তখন বলবে, নগদ লেন-দেন হবে এবং যেন প্রতারণা না করা হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৫৪), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তারা বলেন, দুর্বল জ্ঞানের অধিকারী লোক স্বাধীন হলেও তাকে ক্রয়-বিক্রয় হতে বিরত রাখা উচিত। এই মত ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের। অন্য একদল আলিমের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন লোকের উপর (আর্থিক লেন-দেনে) প্রতিবন্ধকতা (হাজর) আরোপ করা উচিত নয়।
হাদিস 1251 — Jami At Tirmidhi 14:51
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اشْتَرَى مُصَرَّاةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذَا حَلَبَهَا إِنْ شَاءَ رَدَّهَا وَرَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ تَمْرٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَرَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (দুধ জমা করে) স্তন ফুলানো পশু যদি কোন ব্যক্তি কিনে তবে তার জন্য (ক্রয় বাতিল করার) স্বাধীনতা আছে। সে চাইলে দুধ দোহনের পর তা ফেরত দিতে পারবে। তবে তাকে এর সাথে এক সা খেজুরও দিতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৩৯), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাঃ) এবং আরও একজন সাহাবী হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্তনে দুধ জমা করে রাখা পশুকে যদি কোন লোক কিনে তবে সে (ক্রয় বাতিলের জন্য) তিন দিনের স্বাধীনতা পাবে। সে তা ফেরত দিলে এর সাথে গম ব্যতীত এক সা' খাদ্যদ্রব্যও প্রদান করবে। সহীহ, প্রাগুক্ত, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমাদের সার্থীদের মতে এ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। তাদের অন্তর্ভুক্ত আছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। “লা সামরা" অর্থঃ ‘গম ব্যতীত অন্য কিছু।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনি একটি উট বিক্রয় করেন এবং শর্ত রাখেন এর পিঠে আরোহণ করে বাড়ী পর্যন্ত পৌছানোর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০৫), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। জাবির (রাঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। তাদের মতে, একটিমাত্র শর্ত ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলে তা জায়িয। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। অন্য একদল আলিম বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে শর্তারোপ করা জায়িয নয়। শর্ত আরোপ করলে এ ধরণের ক্রয়-বিক্রয় জায়িয হবে না।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাহনের পশুকে বন্ধক রাখা হলে তার পিঠে আরোহণ করা যাবে। দুগ্ধবতী পশুকে বন্ধক রাখা হলে তার দুধ পান করা যাবে। যে লোক আরোহণ করবে এবং দুধ পান করবে তাকে পশুর খরচও প্রদান করতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৪০), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীসটিকে কেবল আমিরের সূত্রেই আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে মারফুভাবে জেনেছি। এটিকে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী আবৃ সালিহ (রাহঃ) হতে মাওকৃফভাবে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। অপর একদল আলিমের মতে, বন্ধক রাখা জিনিস ব্যবহার করা জায়িয নয়।