। ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি খাইবারের যুদ্ধের সময় বার দীনারে একটি মালা ক্রয় করলাম। এতে স্বর্ণ ও পুতির দানা মিশানো ছিল। আমি এগুলোকে আলাদা করে বার দীনারের বেশি পরিমাণ স্বর্ণ পেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এটা উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তা বিক্রয় করা যাবে না যতক্ষণ না তা আলাদা করা হবে। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনুল মুবারকও উল্লিখিত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে রূপার কারুকার্য খচিত তরবারি, কোমরবন্ধ, তরবারির খাপ ইত্যাদি দিরহামের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করতে হলে এর সাথে রূপা পৃথক করে নিতে হবে। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। অন্য একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম এগুলো আলাদা না করেই তা ক্রয়-বিক্রয়ের সম্মতি দিয়েছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বারীরা নামী গোলামকে কিনতে চাইলেন, কিন্তু মালিক পক্ষ ওয়ালার শর্ত আরোপ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে কিনতে পার। কেননা, যে লোক মূল্য পরিশোধ করে অথবা এর মালিক হয় সেই ওয়ালার অধিকারী হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫২১), নাসা-ঈ ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেন, যখন তোমার নিকট মানসূরের সূত্রে বর্ণনা করা হয় তখন তুমি মনে করবে যে, তুমি তোমার হাত কল্যাণে পরিপূর্ণ করলে। আমি ইবরাহীম নাখঈ ও মুজাহিদ হতে রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে মানসূরের তুলনায় বেশি আস্থাভাজন অন্য কাউকে পাইনি। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী বলেন, কূফাবাসীদের মধ্যে মানসূর সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য লোক।
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য এক দীনারে একটি কুরবানীর পশু কেনার উদ্দেশ্যে তাকে (বাজারে) পাঠান। তিনি (এক দীনারে) একটি পশু কিনে (তা আবার বিক্রয় করে) এক দীনার লাভ করেন। এর পরিবর্তে তিনি আর একটি পশু কিনেন। তারপর তিনি একটি পশু ও একটি দীনারসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে চলে আসেন। তিনি বললেনঃ বকরীটা কুরবানী কর এবং দীনারটি দান-খাইরাত কর। যঈফ, বেচা-কেনার হাদীস অধ্যায়। আবূ ঈসা বলেন, হাকীম ইবনু হিযামের হাদীসটি আমরা শুধু উল্লেখিত সূত্রেই জেনেছি। আমার মতে হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)-এর নিকট হতে হাবীব ইবনু আবূ সাবিত কিছু শুনেননি।
হাদিস 1258 — Jami At Tirmidhi 14:59
সহিহসহিহ
হাদিস 1259 — Jami At Tirmidhi 14:61
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَصَابَ الْمُكَاتَبُ حَدًّا أَوْ مِيرَاثًا وَرِثَ بِحِسَابِ مَا عَتَقَ مِنْهُ " . وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يُؤَدِّي الْمُكَاتَبُ بِحِصَّةِ مَا أَدَّى دِيَةَ حُرٍّ وَمَا بَقِيَ دِيَةَ عَبْدٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَهَكَذَا رَوَى يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَى خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَوْلَهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ . وَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ الْمُكَاتَبُ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ دِرْهَمٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুকাতাব গোলামের দিয়াত বা ওয়ারিসী স্বত্ব পাওয়ার সুযোগ এলে সে যতটুকু পরিমাণ মুক্ত হয়েছে ততটুকু অংশ পরিমাণ মালিক হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেনঃ মুকাতাব গোলামের যতটুকু অংশ মুক্ত তাকে ততটুকু মুক্তির সমান দিয়াত প্রদান করতে হবে এবং বাকীগুলোর জন্য গোলামের সমান পরিমাণ দিয়াত প্রদান করতে হবে। সহীহ, ইরওয়া (১৭২৬) উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু কাছীর ও ইকরিমা হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। ইকরামার সূত্রে আলী (রাঃ)-এর বক্তব্য হিসাবেও এটাকে খালিদ আল-হাযযা বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ বলেন, মুকাতাব গোলামের চুক্তিকৃত টাকার মধ্যে এক দিরহাম অনাদায়ী থাকলেও সে গোলামই গণ্য হবে (এবং গোলামের সমান আইনগত সুযোগ-সুবিধা পাবে)। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।
। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (দাদা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার এক বক্তৃতায় বলতে শুনেছিঃ একশত উকিয়া প্রদানের শর্তে কোন লোক তার গোলামকে মুক্তির চুক্তিপত্র প্রদান করল। সে চুক্তির মূল্য পরিশোধ করতে থাকল। কিন্তু দশ উকিয়া বা দশ দিরহাম পরিমাণ পরিশোধ করতে সে অসমর্থ হয়ে পড়ল। এরকম পরিস্থিতিতে সে গোলামই রয়ে যাবে। - হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৫১৯) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। তাদের মতে, মুকাতাব গোলাম গোলামই রয়ে যাবে চুক্তিকৃত পরিমাণ টাকার অল্প পরিমাণ বাকী থাকলেও। হাজ্জাজ ইবনু আরতাত ও আমর ইবনু শুআইব হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন মহিলার মুকাতাব ক্রীতদাসের নিকটে নিজেকে স্বাধীন করার মত সম্পদ থাকলে সে যেন তার থেকে পর্দা করে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৫২০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে এ হাদীসের মর্মার্থ হলঃ তাকওয়া ও পরহিযগারী হাসিলের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পর্দা করা কর্তব্য। তারা বলেন, মুকাতাব ক্রীতদাসের নিকটে নিজেকে মুক্ত করার মত সম্পদ থাকলে সে ক্রীতদাস হিসেবেই বিবেচিত। চুক্তি অনুযায়ী সকল দেনা মিটিয়ে দেবার পরই সে মুক্ত বলে বিবেচিত হবে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক দেউলিয়া (মুফলিস) বলে ঘোষিত হওয়ার পরেও কোন ব্যক্তি নিজের মাল পূর্বাবস্থায় তার নিকট পেয়ে গেলে সে তাতে অন্য লোকদের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৫৮), নাসা-ঈ সামুরা ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। একথা বলেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। অন্য একদল আলিম বলেছেন, দেউলিয়াত্ব লোকের নিকট কোন ব্যক্তি তার মাল পূর্বাবস্থায় পেলেও তাকে তা অন্যান্য পাওনাদারদের সাথে সমান ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। কূফাবাসী আলিমদের এই অভিমত।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট এক ইয়াতীম বালকের শারাব ছিল। সূরা মাইদা (৯০-৯১ আয়াত) অবতীর্ণ হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে বললাম, এই মদ এক ইয়াতীম বালকের। তিনি বললেনঃ এগুলো ঢেলে ফেলে দাও। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৬৪৮), পরবর্তী (১৩১৬) নং হাদীসটি এই হাদীসের সহায়ক। আবূ ঈসা বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম মত দিয়েছেন। শারাবকে সিরকাতে পরিবর্তন করাকে তারা মাকরুহ বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে মাকরূহ মনে করার কারণ হলঃ শারাব থেকে সিরকা তৈরীর উদ্দেশ্যে একজন মুসলিমের ঘরে শরাব থাকাটা আপত্তিকর মনে হয়। আল্লাহ তা'আলাই অধিক ভালো জানেন। শারাব যদি সিরকা অবস্থায় পাওয়া যায় তবে একদল আলিমের মতে এই সিরকা ব্যবহার করা জায়িয। আবূল ওয়াদাকের নাম জুবর পিতা নাওফ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার নিকট যে লোক কোন কিছু আমানাত রেখেছে তাকে তা ফিরিয়ে দাও। যে লোক তোমার খিয়ানাত করেছে তুমি তার খিয়ানাত (ক্ষতিসাধন) কর না। সহীহ, মিশকাত (২৯৩৪), সহীহা (৪২৩০), রাওযুন নায়ীর (১৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এক লোক নিজের কিছু আমানাত রাখল অন্য লোকের নিকট, কিন্তু সে তা ফিরত দিল না। ঘটনাচক্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির হাতে শেষোক্ত ব্যক্তির কোন মাল এসে পড়লো। এক্ষেত্রে সে লোক যে পরিমাণ সম্পদ প্রথমোক্ত ব্যক্তি হতে আত্মসাৎ করেছিল, সেই সম্পদ হতে প্রথমোক্ত ব্যক্তি তার পাওনা পরিমাণ কেটে রাখতে পারবে না, কিন্তু কিছু তাবিঈ কেটে রাখার সম্মতি দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরীও এই মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক লোক কিছু দিরহাম রাখল অন্য লোকের নিকট। সে তা আত্মসাৎ করল। ঘটনাচক্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির হাতে শেষোক্ত ব্যক্তির কিছু দীনার এসে পড়ল। এক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তি তার দিরহামের পরিবর্তে দীনার রাখতে পারবে না। হ্যাঁ ঐ ব্যক্তির দিরহাম যদি তার হাতে আসে তাহলে সে তার দিরহামের সমপরিমাণ দিরহাম কেটে রাখতে পারবে।