حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ " الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ . قَالَ وَحَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ .
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি তার বিদায় হাজ্জের বক্তৃতায় বলতে শুনেছিঃ ধার করা বস্তু ফেরত দিতে হবে, যামিনদার, পাওনা পরিশোধ করার দায় বহন করবে এবং ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৯৮) সামুরা, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 1266 — Jami At Tirmidhi 14:68
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَ " . قَالَ قَتَادَةُ ثُمَّ نَسِيَ الْحَسَنُ فَقَالَ هُوَ أَمِينُكَ لاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ . يَعْنِي الْعَارِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا وَقَالُوا يَضْمَنُ صَاحِبُ الْعَارِيَةِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَيْسَ عَلَى صَاحِبِ الْعَارِيَةِ ضَمَانٌ إِلاَّ أَنْ يُخَالِفَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ .
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যা গ্রহণ করেছে তা ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত এর জন্য সে দায়বদ্ধ থাকবে। কাতাদা বলেন, পরবর্তীতে হাসান এ হাদীস ভুলে যান। ফলে তিনি বলেছেন, সে তোমার আমানাতদার, তার উপর এর ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হবে না অর্থাৎ তা আরিয়া। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৪০০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ এ হাদীস অনুসারে মত দিয়েছেন। অর্থাৎ কর্জ গ্রহণকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাফিঈ ও আহমাদের এই মত। অপর একদল সাহাবী ও তাবিঈ বলেছেন, কর্জ গ্রহণকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না, কিন্তু আমানাতদাতার কথার খিলাপ করলে ক্ষতিপুরণ দিতে হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের এই মত। ইসহাকও এই মত দিয়েছেন।
। মামার ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নাযলাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “শুধুমাত্র দুর্নীতিপরায়ণ মানুষই মজুতদারি করে থাকে।” আমি (মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম) সাঈদকে বললাম, হে মুহাম্মাদের পিতা! আপনিও তো মজুতদারি করে থাকেন। তিনি বললেন, মজুতদারি তো মা’মারও করতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৫৪), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি তেল, গম ও এই জাতীয় জিনিস মজুত করতেন। উমার, আলী, আবূ উমামা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মামার (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন। খাদ্যদ্রব্যের মজুতদারি করাকে তারা মাকরূহ বলেছেন। খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য কিছুর মজুতদারি করার পক্ষে কিছু সংখ্যক আলিম অনুমতি দিয়েছেন। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, তুলা, ছাগলের চামড়া বা ঐ ধরণের অন্য কিছুর মজুতদারি করাতে কোন সমস্যা নেই।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাজারের বাইরে গিয়ে পণ্যদ্রব্য আনিত বণিকদলের সাথে মিলিত হবে না, পশুর স্তনে দুধ জমিয়ে রাখবে না এবং দাম বৃদ্ধি করে একজন অন্যজনের পণ্য বিক্রয় করে দেওয়ার অপকৌশল অবলম্বন করবে না। হাসান, বেচা-কেনার হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে কয়েক দিনের দুধ পশুর স্তনে জমিয়ে স্তন ফুলিয়ে তা বিক্রয় করা মাকরুহ। এতে ক্রেতা ধোকার মধ্যে পড়ে যায়। এটাও এক ধরণের প্রতারনা ও ধোঁকাবাজি।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মিথ্যা শপথের মাধ্যমে যদি কোন লোক কোন মুসলিমের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে তবে সে এরূপ অবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট থাকবেন। আশআস ইবনু কাইস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি এ হাদীসটি আমার সম্পর্কে বলেছেন। আমার ও এক ইয়াহদীর মধ্যে একটি শরীকানা জমি ছিল। কিন্তু সে আমার অংশ দিতে অস্বীকার করে বসে। আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার সাক্ষীপ্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি ইয়াহুদীকে বললেনঃ শপথ কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো শপথ করবেই এবং আমার সম্পদ আত্মসাৎ করবে। আল্লাহ তা'আলা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রয় করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি তাকাবেন আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি" (সূরাঃ আলে-ইমরান - ৭৭)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩২৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে ওয়াইল ইবনু হুজর, আবূ মূসা, আবূ উমামা ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রয়কারী ও বিক্রয়কারীদের মধ্যে মত পার্থক্য হলে বিক্রেতার মতই বেশি প্রাধান্য পাবে, তবে ক্রয়কারীর ক্রয় বাতিলের স্বাধীনতা থাকবে। সহীহ, ইরওয়া (১৩২২, ১৩২৪), বেচা-কেনার হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা মুরসাল বলেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সাথে কখনও আওন ইবনু আবদুল্লাহর সাক্ষাৎ ঘটেনি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর এ হাদীসটি কাসিম ইবনু আবদুর রাহমানও ইবনু মাসউদ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটিও মুরসাল। ইসহাক ইবনু মানসূর বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে প্রশ্ন করলাম, ক্রয়কারী ও বিক্রয়কারী একে অপরের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে এবং কোন সাক্ষী না থাকলে কি করতে হবে? তিনি বললেন, বিক্রেতার মতই বেশি প্রাধান্য পাবে অথবা দুজনই ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করবে। ইমাম ইসহাক কিছুটা এভাবে বলেছেন, যার মতকে বিনা প্রমাণে গ্রহণ করা হবে তাকে শপথ করাতে হবে। কিছু সংখ্যক তাবিঈও একইরকম কথা বলেছেন। শুরাইহ (রাহঃ) তাদের অন্যতম।
। ইয়াস ইবনু আবদ আল-মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৭৬) জাবির, বুহাইসা (তার পিতার সূত্রে), আবূ হুরাইরা, আইশ, আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইয়াস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন। পানি বিক্রয়কে তারা মাকরূহ বলেছেন। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। পানি বিক্রয়ের পক্ষে কিছু আলিম অনুমতি প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে হাসান বাসরী অন্যতম।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঘাস হতে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে উদ্ধৃত্ত পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লোকদের কোন প্রকার বাধা দেওয়া নিষেধ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৭৮), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূল মিনহালের নাম আবদুর রাহমান, পিতা মুতঈম। তিনি কূফার অধিবাসী ছিলেন এবং তার নিকট হতে হাবীব ইবনু আবূ সাবিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে আবূল মিনহাল সাইয়্যার ইবনু সালামা বাসরার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ)-এর সহচর ছিলেন।
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, পাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষাঁড় প্রদান করে মজুরি নিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস, বুখারী আবূ হুরাইরা, আনাস ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের সমর্থনে একদল আলিম মত দিয়েছেন। পাল দেওয়ার বিনিময়ে পুরস্কার গ্রহণের পক্ষে অন্য একদল আলিম অনুমতি প্রদান করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, পাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষাঁড় প্রদান করে মজুরি নেওয়া প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিলাব গোত্রের এক লোক প্রশ্ন করলে তিনি তা নিতে বারণ করেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা পাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষাঁড় দেই এবং আমাদেরকে (দাবি ব্যতীতই) পুরস্কার স্বরূপ কিছু দেওয়া হয়। তিনি তাকে এ ধরণের পুরষ্কার নেওয়ার অনুমতি দেন। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (২৮৬৬), বেচা-কেনার হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সূত্রেই জেনেছি।