। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বলেন, আমরা একে অপরের সাথে বলাবলি করতাম যে, বদরের যুদ্ধে বাদরী বাহিনীতে সাহাবীগণের পরিমাণ ছিল তালুত বাহিনীর মত তিন শত তেরজন। সহীহ, বুখারী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আবূ ইসহাকের সূত্রে সুফিয়ান সাওর এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 1599 — Jami At Tirmidhi 21:61
সহিহসহিহহাসান Sahih
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুল কাইস বংশের প্রতিনিধি দলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি, তোমরা গানীমাতের যে সম্পদ লাভ করবে তার মধ্য হতে এক-পঞ্চমাংশ (বাইতুল মালে) দিয়ে দেবে। সহীহ্, সংক্ষিপ্ত বুখারী (৪০), আল ঈমান, আবৃউবাইদ(৫৯/১),নাসা-ঈ এ হাদীসের সাথে একটি ঘটনা আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের মত অন্য একটি সূত্রেও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক (যুদ্ধের) ভ্রমণে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। কয়েকটি দ্রুতগামী লোক আগে চলে গেল। তারা দ্রুততার সাথে গানীমাতের সম্পদ হতে কিছু নিয়ে তা রান্না করা শুরু করে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দলের সাথে ছিলেন। এই হাড়িগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নির্দেশ দিলেন এবং সে অনুযায়ী সেগুলো উলটিয়ে দেওয়া হল। তারপর তিনি গানীমাতের সম্পদ বণ্টন করলেন এবং দশ দশটি বকরীর সমান ধরলেন এক একটি উটকে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩৭), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, সুফিয়ান সাওরী-তার পিতা হতে, তিনি আবাইয়া হতে, তিনি তার দাদা রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন, এতে আবাইয়ার পরে তার পিতা রিফাআর কোন উল্লেখ নেই। মাহমূদ ইবনু গাইলান-ওয়াকী হতে, তিনি সুফিয়ানের সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি অনেক বেশি সহীহ। সালাবা ইবনুল হাকাম, আনাস, আবূ রাইহানা, আবূদ দারদা, আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা, যাইদ ইবনু খালিদ, জাবির, আবূ হুরাইরা ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে অধিক সহীহ বলেছেন। আর আবাইয়া ইবনু রিফাআ সরাসরিভাবে তার দাদা রাফি (রাঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্টনের পূর্বে যে ব্যক্তি গানীমাতের সম্পদ হতে কিছু গ্রহণ করে সে আমাদের দল ভুক্ত নয়। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (২৯৪৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং আনাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের প্রথমে সালাম প্রদান করো না। তোমরা রাস্তায় চলাচলের সময় তাদের কারো সাথে দেখা হলে তাকে রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিও। সহীহ, সহীহা (৭০৪), ইরওয়া (১২৭১), মুসলিম, বুখারী আদাবুল মুফরাদ, ২৮৫৫ নং হাদীসটির আলোচনা আসবে। ইবনু উমার, আনাস ও আবূ বাসরা আল-গিফারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদেরকে কোন ইয়াহুদী সালাম করে তখন বলে, 'আসসামু আলাইকুম’ (তোমার মৃত্যু হোক)। তুমি উত্তরে বল, 'আলাইকা' (তোমার হোক)। সহীহ, ইরওয়া (৫/১১২), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1604 — Jami At Tirmidhi 21:67
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً إِلَى خَثْعَمٍ فَاعْتَصَمَ نَاسٌ بِالسُّجُودِ فَأَسْرَعَ فِيهِمُ الْقَتْلُ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ لَهُمْ بِنِصْفِ الْعَقْلِ وَقَالَ " أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِمَ قَالَ " لاَ تَرَايَا نَارَاهُمَا " .
। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, খাসআমদের অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন। সিজদার মাধ্যমে সেখানকার জনগণ আত্মরক্ষা করতে চাইল। কিন্তু দ্রুততার সাথে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলে তিনি তাদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। তিনি আরো বলেন, মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলিম বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বললেনঃ এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়। “অর্ধেক দিয়াত দেওয়ার হুকুম দেন” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ, ইরওয়া (১২০৭), সহীহ আবূ দাউদ
। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হান্নাদ-আবদাহ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবৃ খালিদ হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তবে এই সূত্রে জারীর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এটিই অনেক বেশি সহীহ। সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইসমাঈলের বেশিরভাগ সঙ্গী তার হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিমের সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী পাঠান। এ সূত্রেও জারীরের উল্লেখ নেই। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হাম্মাদ ইবনু সালামা-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ হতে, তিনি কাইস হতে, তিনি জারীর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, সঠিক কথা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কাইসের বর্ণনাটি মুরসাল। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেও না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে।”
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইনশাআল্লাহ আমি জীবিত থাকলে ইয়াহুদী-নাসারাদের অবশ্যই আরব উপদ্বীপ হতে বের করে দিব। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমি ইহুদী ও নাসারাদের আরব উপদ্বীপ হতে অবশ্যই বহিষ্কার করব। মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে সেখানে বসবাস করতে দিব না। সহীহ, সহীহা (১১৩৪), সহীহ আবূ দাউদ, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।