। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট ফাতিমা (রাঃ) এসে বললেন, আপনার উত্তরাধিকারী কে হবে? তিনি বললেন, আমার স্ত্রী এবং সন্তানগণ। তিনি (ফাতিমা) বললেন, তাহলে আমার পিতার উত্তরাধিকারী আমি হব না কেন? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “আমাদের (নবীদের) কোন উত্তরাধিকারী হয় না।” তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের ভরণ-পোষণের যোগার করতেন আমিও তাদের ভরণ-পোষণের যোগার করে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের খরচপাতি বহন করতেন আমিও তাদের খরচপাতি বহন করতে থাকব। সহীহ, মুখতাসার শামাঈল মুহাম্মাদীয়া (৩৩৭) উমার, তালহা, যুবাইর, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, সা’দ ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীস আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আতা হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে হাম্মাদ ইবনু সালামা বর্ণনা করেছেন। আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে হাম্মাদ ইবনু সালামা ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
হাদিস 1609 — Jami At Tirmidhi 21:72
Isnaad Hasan
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، عَلِيُّ بْنُ عِيسَى الْبَغْدَادِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ، جَاءَتْ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رضى الله عنهما تَسْأَلُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالاَ سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنِّي لاَ أُورَثُ " . قَالَتْ وَاللَّهِ لاَ أُكَلِّمُكُمَا أَبَدًا . فَمَاتَتْ وَلاَ تُكَلِّمُهُمَا . قَالَ عَلِيُّ بْنُ عِيسَى مَعْنَى لاَ أُكَلِّمُكُمَا تَعْنِي فِي هَذَا الْمِيرَاثِ أَبَدًا أَنْتُمَا صَادِقَانِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-এর কাছে ফাতিমা (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তার প্রাপ্য উত্তরাধিকারস্বত্ব দাবি করেন। তারা দু’জনেই বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা বলতে শুনেছিঃ “আমার কেউ ওয়ারিস হয় না”। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ আমি আর কোন সময় (উত্তরাধিকারস্বত্ব বিষয়ে) আপনাদের উভয়ের সাথে আলোচনা করব না। অতঃপর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আর তাদের সাথে (এ ব্যাপারে) কথা বলেননি। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আলী ইবনু ঈসা বলেন, আমি তোমাদের সাথে কথা বলবনা। এর অর্থ হল উত্তরাধিকার বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী। আবূ বাকার (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
। মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সামনে আসলাম। উসমান ইবনু আফফান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-ও তার সামনে আসলেন। তারপর আলী ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-ও আসলেন। তারা দু’জনেই তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করলেন। তাদের সবাইকে উমার (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি যার হুকুমে আকাশ এবং যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত আছে! আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমাদের (নবীদের) কোন উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যে সব (সম্পদ) রেখে যাই তা সাদকা বলে বিবেচিত"? তারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ। আবার উমার (রাঃ) বললেন, আবূ বাকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর বললেন, আমি এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছি। (উমার বলেন) তখন আপনি (আব্বাস) ও ইনি (আলী) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট এসেছিলেন। আপনার ভাইয়ের ছেলের সম্পত্তিতে আপনি নিজের উত্তরাধিকার দাবি করলেন এবং ইনি তার শ্বশুরের সম্পত্তিতে নিজের স্ত্রীর অংশ দাবি করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সাদকা বলে বিবেচিত”। আল্লাহ তা'আলা জানেন, তিনি (আবূ বাকর) সত্যবাদী, সৎকর্মশীল, সৎপথের পথিক এবং সত্য-ন্যায়ের অনুসারী ছিলেন। সহীহ, মুখতাসার শামাইল (৩৪১), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সাথে দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব এবং মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
। হারিস ইবনু মালিক ইবনু বারসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা বিজয়ের দিন বলতে শুনেছিঃ আজকের পর কিয়ামত পর্যন্ত এখানে আর যুদ্ধ করা যাবে না। সহীহ, সহীহা (২৪২৭) ইবনু আব্বাস, সুলাইমান ইবনু সুরাদ ও মুতী’ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। যাকারিয়া ইবনু আবূ যাইদা-শাবী (রহঃ)-এর সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই জেনেছি।
। নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ফজ্বর হয়ে গেলে সূর্য না উঠা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ হতে বিরত থাকতেন এবং সূর্য উঠার পর যুদ্ধ শুরু করতেন। দিনের অর্ধেক চলে যাবার পর তিনি যুদ্ধ স্থগিত করতেন এবং সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে না পড়া পর্যন্ত তা বন্ধ রাখতেন। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিনি আবার যুদ্ধ শুরু করতেন এবং আসর পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতেন। তারপর আসর নামায আদায়ের জন্য তা বন্ধ করতেন। নামায শেষে তিনি আবার যুদ্ধে নেমে যেতেন। বলা হত, এ সময় (আল্লাহ্ তা'আলার) সাহায্যের বায়ু প্রবাহিত হয় এবং মু’মিনগণ তাদের নামাযের মাঝে তাদের সেনাবাহিনীর জন্য দু'আ করতেন। যঈফ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৩৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতে আরও একের অধিক অবিচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কাতাদা (রাহঃ) নুমান ইবনু মুকাররিনের দেখা পাননি। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাত কালে নুমান (রাঃ) মারা যান।
। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হুরমুযানের বিরুদ্ধে নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। তারপর এ হাদীসের বিস্তারিত ঘটনা (অন্যত্র) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (বিভিন্ন যুদ্ধে) অংশগ্রহণ করেছি। তিনি দিনের প্রথম ভাগে যুদ্ধ আরম্ভ না করলে সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ার, বাতাস প্রবাহিত হওয়ার এবং সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করে যুদ্ধ আরম্ভ করতেন। সহীহ্, সহীহ আৰূ দাউদ (২৩৮৫), মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৩৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ (রাহঃ) বাকর ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানীর ভাই। নুমান ইবনু মুকাররিন উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মারা যান।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এমন কেউই আমাদের মধ্যে নেই যার মনে এর ধারণা আসে না। তবে আল্লাহ তা'আলা তার উপর (মু'মিন লোকের) ভরসার কারণে তা দূর করে দেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৩৮) আবু ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা, হাবিস আত তামীমী, আইশা, ইবনু উমার ও সা'দ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা শুধুমাত্র আলামা ইবনু কুহাইলের সূত্রেই এটি জেনেছি। এটি সালামা (রাহঃ) হতে শুবা (রাহঃ)-ও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস প্রসঙ্গে সুলাইমান ইবনু হারব বলতেনঃ “আমাদের মধ্যে এমন কেউই নেই যার মনে এর ধারণা আসে না তবে আল্লাহর উপর ভরসার কারণে তা দূর করে দেন।” কথাটুকু ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা নয়)।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সংক্রমণ এবং কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে আমি ফাল পছন্দ করি। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ফাল কি জিনিস? তিনি বলেনঃ পবিত্র ও উত্তম কথা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৩৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দরকারে বের হওয়ার সময় (কারো মুখে) হে সঠিক পথের পথিক’, ‘হে সফলকাম’ বাক্য শুনতে পছন্দ করতেন। সহীহ, রাওযুন নায়ীর (৮৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1617 — Jami At Tirmidhi 21:80
সহিহসহিহহাসান Sahih
। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাহিনীর অধিনায়ক মনোনীত করে কাউকে পাঠানোর এবং অধীনস্থ মুসলিম যোদ্ধাদের কল্যাণ কামনা করার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলতেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নামে যুদ্ধ শুরু কর, আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ কর, আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অবাধ্যাচরণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, গানীমাতের সম্পদ আত্মসাৎ কর না, বিশ্বাসঘাতকতা করা হতে বিরত থাক, (শত্রুসৈন্যের) মৃতব্যক্তির নাক-কান ইত্যাদি কেটে মৃতদেহ বিকৃত কর না এবং শিশুদের হত্যা কর না। তুমি মুশরিক শক্ৰদের সাথে মুখোমুখি হওয়াকালে তাদেরকে তিনটি বিকল্প প্রস্তাবের যে কোন একটি মেনে নেওয়ার আহবান জানাবে। তারা এ তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি মেনে নিলে তা গ্রহণ কর এবং তাদেরকে হামলা করা হতে বিরত থাক। তুমি তাদেরকে ইসলাম ধর্ম কবুল করার জন্য আহবান জানাবে এবং হিজরাত করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে আসতে বলবে। তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করলে তারা মুহাজিরদের সমপরিমাণ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে এবং যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য মুহাজিরদের উপর অর্পিত হবে অনুরূপ তাদের উপরও অর্পিত হবে। তারা নিজস্ব অবস্থান পরিবর্তন করতে সম্মত না হলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তারা বেদুঈনদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে। যা বেদুঈনদের বেলায় কার্যকর হবে তাদের বেলায়ও তাই প্রযোজ্য হবে। তারা জিহাদে যোগ না দিলে গানীমাত ও ফাই হতে কিছুই পাবে না। তারা ইসলাম ধর্ম কুবুল করতে রাজি না হলে তুমি তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলার সাহায্য প্রার্থনা কর এবং তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ কর। তুমি কোন দুর্গ ঘেরাও করার পর তারা তোমার নিকট আল্লাহ ও তার নবীর যিম্মাদারি (নিরাপত্তা) চাইলে তুমি তাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার যিম্মাদারিও অনুমোদন করবে না আর তার নবীর যিম্মাদারিও নয়, বরং তাদের জন্য তোমার এবং তোমার সার্থীদের যিম্মাদারি মঞ্জুর করবে। কেননা আল্লাহ ও তার রাসূলের যিম্মাদারির খেলাপ করার চেয়ে তোমার ও তোমার সার্থীদের যিম্মাদারির খেলাপ করাই তোমাদের জন্য উত্তম। তুমি কোন দুর্গবাসীদের অবরোধ করার পর তারা তোমার নিকট আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা মোতাবিক দুর্গ হতে বের হয়ে আত্মসমর্পণ করতে চাইলে তুমি তা অনুমোদন করবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের ফায়সালা মতো দুর্গ হতে বের করে আত্মসমর্পণ করাবে। কারণ তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার সঠিক ফায়সালায় পৌছাতে পেরেছ কি-না তা তোমার জানা নেই। অথবা তিনি একইরকম কোন কথা বলেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৫৮), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ আলকামা ইবনু মারসাদ (রাহঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ তারা (ইসলাম ধর্ম কুবুল করতে) অস্বীকার করলে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় কর। তারা তাও ফিরিয়ে দিলে তাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করার জন্য) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি ওয়াকী ও একাধিক বর্ণনাকারী সুফিয়ানের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদীর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীগণ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতেও জিযরার উল্লেখ আছে।