। ইমাম যুহরী (রহঃ) হতে এই সূত্রে উপরের হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা হয়েছে। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। বীর্যপাত হলেই শুধু গোসল ফরয হয় এ সুযোগ ইসলামের প্রথম দিকে ছিল, অতঃপর তা রহিত করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন উবাই ইবনু কা'ব ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের এটাই অভিমত যে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হলেই উভয়ের উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়, যদিও বীর্যপাত না হয়।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “বীর্যপাত হলেই গোসল ওয়াজিব” এই হুকুম ইহতিলামের (স্বপ্লদোষের) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইহতিলামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই অংশটুকুর সনদ দুর্বল। আর সেটা মাওকুফ। হাদীসের বাকী অংশ সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬০৬-৬০৭)। আবু ঈসা বলেন, আমি জারূদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি (জারূদ) ওয়াকী'কে বলতে শুনেছি, আমি শুধু শারীকের নিকট এ হাদীসটি পেয়েছি। আবুল জাহহাফের নাম দাউদ ইবনু আবু ‘আওফ। সুফইয়ান সাওরী হতে বর্ণিত তিনি বলেন, তিনি একজন অতিপরিচিত বিশ্বস্ত লোক ছিলেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উসমান ইবনু আফফান, আলী ইবনু আবী তালিব, যুবাইর, তালহা, আবু আইউব ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘বীর্যপাতের ফলেই গোসল ওয়াজিব হয়।" সহীহ। ইবনু মাজাহ
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল যে, সে ঘুম হতে জেগে ভিজা দেখতে পাচ্ছে কিন্তু স্বপ্লদোষের কথা মনে করতে পারছে না। তিনি বললেন, সে গোসল করবে। অপর এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল যে, তার স্বপ্নদোষ হয়েছে কিন্তু বীর্যপাতের কোন আলামাত দেখতে পাচ্ছে না। তিনি বললেনঃ "তাকে গোসল করতে হবে না।” উম্মু সালামা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন স্ত্রীলোক যদি এমনটি দেখতে পায় (স্বপ্লদোষ হয়) তবে তাকে কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, স্ত্রীলোকেরা পুরুষদেরই অংশ। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (২৩৪)। আবূ ঈসা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার উবাইদুল্লাহ ইবনু উমারের সূত্রে আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীসটির অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বপ্নদোষের কথা উল্লেখ করেননি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এ হাদীসের এক রাবী আবদুল্লাহকে হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা এবং তাবিঈদের মতে কোন ব্যক্তি ঘুম হতে উঠে ভিজা দেখতে পেলে তাকে গোসল করতে হবে। এটা সুফিয়ান সাওরী এবং আহমাদেরও অভিমত। কিছু বিশেষজ্ঞ তাবিঈ বলেছেন, বীর্যপাতের ফলে যদি কাপড় ভিজে থাকে তবে গোসল করতে হবে। এটা ইমাম শাফিঈ ও ইসহাকের মত। স্বপ্লদোষ হয়েছে কিন্তু বীর্যপাত হয়নি, এ অবস্থায় সকল ইমামের মতে গোসল করার দরকার নেই।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বীর্যরস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেনঃ “বীর্যরস বের হলে ওযু করতে হবে এবং বীর্যপাত হলে গোসল করতে হবে"। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫০৪)। এ অনুচ্ছেদে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ ও উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। বীর্যরসে ওযু এবং বীর্যপাতে গোসল রাসূলুল্লাহ নবী আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি আলী (রাঃ)-এর নিকট হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল বিশেষজ্ঞ সাহাবা এবং তাবিঈদের এই মত। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এই অভিমতই দিয়েছেন।
সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বীর্যরস বের হওয়ার কারণে আমি কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিলাম। কেননা এ কারণে আমাকে প্রায়ই গোসল করতে হত। আমি ব্যাপারটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করলাম এবং তার বিধান জানতে চাইলাম। তিনি বললেনঃ “এটা বের হলে তোমার জন্য ওযুই যথেষ্ট।" আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তা যদি আমার কাপড়ে লেগে যায়, তবে কি করব? তিনি বললেনঃ “এক আঁজলা পানি তোমার কাপড়ের যে অংশে বীর্যরস দেখতে পাও সেখানে ছিটিয়ে দাও, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।" -হাসান। ইবনু মাজাহ (৫০৬) আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। মযীর ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের এই হাদীসের মত অন্য কোন হাদীস আমাদের জানা নেই। কাপড়ে বীর্যরস লেগে গেলে এর হুকুম সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফিঈ ও ইসহাকের মতে কাপড় ধুতে হবে। কেউ কেউ বলেন, ময়ী লাগার জায়গায় পানি ঢেলে দেওয়াই যথেষ্ট। ইমাম আহমাদ বলেন, আমার মতে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট।
। হাম্মাম ইবনুল হারিস (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাঃ)-এর বাড়িতে একজন মেহমান এল, তিনি তার জন্য হলুদ রংয়ের একটি চাদর বিছিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। সে তাতে শুয়ে গেল। (ঘুমের মধ্যে) তার স্বপ্লদোষ হল। সে চাদরটি এ অবস্থায় ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করল। তাই সে তা পানির মধ্যে ডুবিয়ে দিল। অতঃপর আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট তা পাঠিয়ে দিল। তিনি বললেন, সে আমাদের কাপড়টি খারাপ করে দিল কেন? আঙ্গুল দিয়ে খুঁটে খুঁটে বীর্য তুলে ফেলাই তার জন্য যথেষ্ট ছিল। কখনো কখনো আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় হতে আঙ্গুল দিয়ে শুক্র খুঁটে খুঁটে তুলে ফেলতাম। --সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৩৮), মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। অনেক সাহাবা তাবেঈ এবং একাধিক ফকীহ যেমন সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, যদি কাপড়ে বীর্য লেগে যায় তবে তা খুঁটে খুঁটে তুলে ফেলাই যথেষ্ট, যদিও তা ধোয়া না হয়। মানসূর হতে তিনি ইবরহীম হতে, তিনি হাম্মাম ইবনুল হারিস হতে তিনি আয়িশাহ হতে, আমাশের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু মা’শার এই হাদীসটি ইবরহীম হতে, তিনি আসওয়াদ হতে তিনি আয়িশাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তবে আমাশের সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সবচাইতে সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় হতে বীর্য ধুয়ে ফেলেছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৩৬), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসটির বিরোধী নয়। যদিও খুঁটে খুঁটে বীর্য তুলে ফেললেই যথেষ্ট তবুও কোন ব্যক্তির কাপড়ে এর দাগ না থাকাই ভালো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, বীর্য হচ্ছে নাকের কফের মত। তোমার কাপড় হতে তা দূর করে ফেল, এমনকি ইযখির ঘাস দিয়ে হলেও।
হাদিস 118 — Jami At Tirmidhi 1:118
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنَامُ وَهُوَ جُنُبٌ وَلاَ يَمَسُّ مَاءً .
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো নাপাক অবস্থায় ঘুমিয়ে যেতেন, এমনকি পানি স্পর্শও করতেন না। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৮১)।
। ওয়াকী সুফিয়ানের বরাতে আবু ইসহাকের সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব প্রমুখের এই মত। আসওয়াদের সূত্রে আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের পূর্বে ওযু করতেন। আসওয়াদের সূত্রে বর্ণিত আবু ইসহাকের হাদীস হতে এই হাদীসটি অধিক সহীহ। আবু ইসহাক হতে এই হাদীসটি শু’বা, সাওরী আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন। তারা মনে করেন আবু ইসহাক এ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুলের শিকার হয়েছেন।
। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন, আমাদের কেউ কি নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ওযু করে নেবে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৮৫), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আম্মার, আয়িশাহ্, জাবির, আবু সাঈদ ও উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি সর্বাধিক উত্তম ও অধিকতর সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা এবং তাবিঈ যেমন, সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ ও ইসহাক বলেন, নাপাক ব্যক্তি যদি ঘুমাতে চায় তবে ঘুমানোর আগে ওযু করে নিবে।