। আবু উবাইদা ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আম্মার ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এটা সুন্নাত। আমি আবার তাকে পাগড়ীর উপর মাসাহ করা সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, (মাথার) চুল পানি স্পর্শ করাও। —সনদ সহীহ।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে তিনি তার খালা মাইমূনা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি সহবাসজনিত নাপাকির গোসল করলেন। তিনি বা হাত দিয়ে পানির পাত্র ডান হাতের উপর কাত করলেন, উভয় হাত কজি পর্যন্ত ধুলেন, অতঃপর পানির পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি তুলে লজ্জাস্থানে দিলেন, অতঃপর দেয়ালে অথবা মাটিতে হাত ঘষলেন, অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন, অতঃপর তিনবার মাথায় পানি ঢাললেন। অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন। অতঃপর (গোসলের) জায়গা থেকে সরে গিয়ে পা দুটো ধুলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৭৩), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ্, জাবির, আবু সাঈদ, জুবাইর ইবনু মুতাইম ও আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাপাকির জন্য গোসল করতে ইচ্ছা করতেন, তখন পানির পাত্রে হাত দেয়ার আগে উভয় হাত ধোয়ার মাধ্যমে গোসল শুরু করতেন। অতঃপর তিনি লজ্জাস্থান ধুতেন এবং নামাযের ওযুর মত ওযু করতেন। অতঃপর চুলের ভেতরে পানি পৌছাতেন এবং মাথায় তিন আজিলা পানি ঢালতেন। -সহীহ। ইরওয়া- (১৩২), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। বিদ্বানগণ নাপাকির গোসলের এ পদ্ধতিই গ্রহণ করেছেন। প্রথমে নামাযের ওযুর মত ওযু করবে, অতঃপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করবে, অতঃপর উভয় পা ধুবে। আলিমগণ এ পদ্ধতিই অনুসরণ করেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, নাপাক ব্যক্তি ওযু না করেই যদি পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে তাহলে তার গোসল হয়ে যাবে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত দিয়েছেন।
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাথার চুলে শক্ত বেনী বাঁধি। আমি কি নাপাকি গোসল করার সময় তা খুলে দেব? তিনি বললেনঃ না, তুমি তোমার মাথায় তিন আঁজল পানি ঢাল, তারপর তোমার সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত কর এবং এভাবে পবিত্র হও। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বললেনঃ এভাবে তুমি নিজেকে পবিত্র করলে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬০৩), মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে মহিলাদের নাপাকির গোসলের সময় চুলের বেণী খোলার প্রয়োজন নেই, সম্পূর্ণ মাথায় পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতিটি চুলের নীচে নাপাকি আছে। অতএব চুলগুলো ভাল করে ধৌত কর এবং শরীর ভাল করে পরিষ্কার কর। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫৯৭) এ অনুচ্ছেদে আলী ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও আছে। আবূ ঈসা বলেন, হারিস ইবনু ওয়াজীহ (রঃ)-এর হাদীসটি গারীব। কেননা রাবী হারিস ইবনুল ওয়াজীহ অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। এ বর্ণনাটি শুধু তার মাধ্যমেই আমাদের নিকটে পৌছেছে। আরো কিছু ইমাম তার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এককভাবে মালিক ইবনু দীনার হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হারিস ইবনু ওয়াজীহকে ইবনু ওয়াজবাহও বলা হয়।
হাদিস 107 — Jami At Tirmidhi 1:107
সহিহসহিহহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَتَوَضَّأُ بَعْدَ الْغُسْلِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ أَنْ لاَ يَتَوَضَّأَ بَعْدَ الْغُسْلِ .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার পর ওযু করতেন না। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৭৯)। আবু ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা এবং তাবিঈদের এটাই মত যে, গোসলের পর ওযু করার দরকার নেই।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, পুরুষাংগের খাতনার স্থান স্ত্রীর (যৌনাংগের) খাতনার স্থান অতিক্রম করলে গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। আমি (আয়িশাহ) ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছি, অতঃপর আমরা গোসল করেছি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬০৮), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে।
হাদিস 109 — Jami At Tirmidhi 1:109
সহিহ Lighairihiসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ وَجَبَ الْغُسْلُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ " إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ " . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَعَائِشَةُ وَالْفُقَهَاءِ مِنَ التَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَجَبَ الْغُسْلُ .
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক লজ্জাস্থান অপর লজ্জাস্থানে প্রবেশ করলে গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। —সহীহ। পূর্বের হাদীসের কারণে, ইরওয়া- (১/১২১)। আবু ঈসা বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি তার নিকট হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক খাতনার স্থান অন্য খাতনার স্থান অতিক্রম করলে গোসল ওয়াজিব হবে। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা যেমন, আবু বাকার, উমার, উসমান, আলী ও আয়িশাহ (রাঃ) এবং তাদের পরবর্তী কালের ফিকহবিদ যেমন, সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, (স্বামী-স্ত্রী উভয়ের) দুই যৌনাংগ একত্রে মিলে গেলেই গোসল ওয়াজিব হয়।
। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “বীর্যপাতের ফলেই গোসল ওয়াজিব হয়” এ অনুমতি ইসলামের প্রথম যুগে ছিল, অতঃপর তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬০৯)।