Qurani·قرآني
বাংলা

পবিত্রতার অধ্যায়

148 হাদিস · #1–148

হাদিস 91 — Jami At Tirmidhi 1:91
সহিহসহিহহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ يُغْسَلُ الإِنَاءُ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ وَإِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ ‏"‏ إِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ‏.‏
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে তা সাতবার ধুতে হবে, প্রথম অথবা শেষবার মাটি দ্বারা ঘষতে হবে। বিড়াল যদি তাতে মুখ দেয় তবে একবার ধোয়াই যথেষ্ট। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৬৪-৬৬), মুসলিম অনুরূপ; কিন্তু তাতে বিড়ালের উল্লেখ নেই। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাতে এ বর্ণনাটুকু নেইঃ “বিড়াল পাত্রে মুখ দিলে একবার ধুতে হবে।” এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে।
হাদিস 92 — Jami At Tirmidhi 1:92
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، وَكَانَتْ، عِنْدَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، دَخَلَ عَلَيْهَا ‏.‏ قَالَتْ فَسَكَبْتُ لَهُ وَضُوءًا قَالَتْ فَجَاءَتْ هِرَّةٌ تَشْرَبُ فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا بِنْتَ أَخِي فَقُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ ‏"‏ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ لَمْ يَرَوْا بِسُؤْرِ الْهِرَّةِ بَأْسًا ‏.‏ وَهَذَا أَحَسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ ‏.‏ وَقَدْ جَوَّدَ مَالِكٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ وَلَمْ يَأْتِ بِهِ أَحَدٌ أَتَمَّ مِنْ مَالِكٍ ‏.‏
। কাবশা বিনতু কাব ইবনি মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবু কাতাদা (রাঃ)-এর পুত্রবধূ ছিলেন। আবু কাতাদা (শ্বশুর) তার নিকট এলেন। তিনি বলেন, আমি তার জন্য ওযুর পানি ঢাললাম। তিনি বলেনঃ একটি বিড়াল এসে তা পান করতে লাগল। তিনি পাত্রটি কাত করে ধরলেন আর বিড়ালটি পানি পান করতে থাকল। কাবশা বলেন, তিনি (শ্বশুর) দেখলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন, হে ভাইঝি! তুমি কি আশ্চর্য হচ্ছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “বিড়াল অপবিত্র নয়। এটা তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী অথবা বিচরণকারিণী।” —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৬৭)। কেউ কেউ মালিক হতে বর্ণনা করেছেন যে, কাবশা কাতাদার স্ত্রী ছিলেন। সঠিক হলো কাতাদার ছেলের স্ত্রী ছিলেন। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা, তাবিঈন ও পরবর্তীদের মতে, বিড়ালের ঝুটা নাপাক নয়। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ মত দিয়েছেন। এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি অধিকতর হাসান। ইমাম মালিকের তুলনায় আরোও উত্তম সনদে আর কেউ এ হাদীসটি বর্ণনা করতে পারেননি।
হাদিস 93 — Jami At Tirmidhi 1:93
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ بَالَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقِيلَ لَهُ أَتَفْعَلُ هَذَا قَالَ وَمَا يَمْنَعُنِي وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ ‏.‏ قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَكَانَ يُعْجِبُهُمْ حَدِيثُ جَرِيرٍ لأَنَّ إِسْلاَمَهُ كَانَ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ ‏.‏ هَذَا قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ يَعْنِي كَانَ يُعْجِبُهُمْ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَحُذَيْفَةَ وَالْمُغِيرَةِ وَبِلاَلٍ وَسَعْدٍ وَأَبِي أَيُّوبَ وَسَلْمَانَ وَبُرَيْدَةَ وَعَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَيَعْلَى بْنِ مُرَّةَ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَأُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَجَابِرٍ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَابْنِ عُبَادَةَ وَيُقَالُ ابْنُ عِمَارَةَ وَأُبَىُّ بْنُ عِمَارَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ جَرِيرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
। হাম্মাম ইবনুল হারিস (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) পেশাব করলেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং মোজার উপর মসিহ করলেন। তাকে বলা হল, আপনি এরূপ করছেন? তিনি বললেন, কোন জিনিস আমাকে বাধা দিবে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। হাম্মাম বলেন, জারীরের এ হাদীস সবারই ভাল লাগত। কেননা তিনি সূরা মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলিম হয়েছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ (৫৪৩)। এ অনুচ্ছেদে উমার, আলী, হুযাইফা, মুগীরা, বিলাল, সাদ, আবু আইউব, সালমান, বুরাইদা, আমর ইবনু উমাইয়া, আনাস, সাহল ইবনু সাদ, ইয়া'লা ইবনু মুররা, উবাদা ইবনুস সামিত, উসামা ইবনু শারীক, আবু উমামা, জাবির এবং উসামা ইবনু যাইদ, ইবনু উবাদাহ বা ইবনু উমারাহ বা উবাই ইবনু উমারাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 94 — Jami At Tirmidhi 1:94
সহিহসহিহIsnaad Hasan
وَيُرْوَى عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ رَأَيْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقُلْتُ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ أَقَبْلَ الْمَائِدَةِ أَمْ بَعْدَ الْمَائِدَةِ فَقَالَ مَا أَسْلَمْتُ إِلاَّ بَعْدَ الْمَائِدَةِ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ زِيَادٍ التِّرْمِذِيُّ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ جَرِيرٍ ‏.‏ قَالَ وَرَوَى بَقِيَّةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ جَرِيرٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ مُفَسِّرٌ لأَنَّ بَعْضَ مَنْ أَنْكَرَ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ تَأَوَّلَ أَنَّ مَسْحَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْخُفَّيْنِ كَانَ قَبْلَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ وَذَكَرَ جَرِيرٌ فِي حَدِيثِهِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ ‏.‏
। শাহার ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবনু আবদুল্লাহকে ওযু করতে এবং মোজার উপর মসিহ করতে দেখলাম। আমি এ ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওযু করতে এবং মোজার উপর মাসিহ করতে দেখেছি। আমি (শাহর) তাকে (জারীরকে) প্রশ্ন করলাম, সেটা কি সূরা মাইদা অবতীর্ণ হওয়ার আগে না পরে? তিনি বললেন, আমি তো সূরা মাইদা অবতীর্ণ হওয়ার পরেই ইসলাম গ্রহণ করেছি। --সহীহ। ইরওয়া— (১/১৩৭)। এ হাদীসটি কুতাইবা বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু যিয়াদ আত-তিরমিয়ী হতে তিনি মুক্বাতিল হতে তিনি শাহর ইবনু হাওশাব হতে তিনি জারীর হতে। আর বাকিয়্যাহ্ বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনু আদহাম হতে তিনি মুক্বাতিল ইবনু হাইয়্যান হতে। তিনি শাহর ইবনু হাওশাব হতে তিনি জারীর হতে। এ হাদীস কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা পেশ করছে। কেননা একদল লোক মোজার উপর মাসিহ করা অসঙ্গত মনে করেন। তারা এ ব্যাখ্যায় বলেন, সূরা মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসিহ করেছিলেন। অথচ হাদীসের রাবী জারীর (রাঃ) উল্লেখ করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পরই মোজার উপর মসিহ করতে দেখেছেন (তাই এ হাদীস যেন ওযু সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাখ্যা)।
হাদিস 95 — Jami At Tirmidhi 1:95
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ ‏ "‏ لِلْمُسَافِرِ ثَلاَثَةٌ وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ ‏"‏ ‏.‏ وَذُكِرَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ صَحَّحَ حَدِيثَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ فِي الْمَسْحِ ‏.‏ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ بْنُ عَبْدٍ وَيُقَالُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ وَعَوْفِ بْنِ مَالِكٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَرِيرٍ ‏.‏
। খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মোজার উপর মাসাহ করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ “মুসাফিরের জন্য তিন (দিন) এবং মুকীমের জন্য এক (দিন)"। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৫৩)। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি উপরোক্ত হাদীসকে সহীহ বলেছেন। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালীর নাম ‘আবদ ইবনু আবদ, এও বলা হয়েছে যে, তার নাম আব্দুর রহমান ইবনু ‘আবদ। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু বাকার, আবু হুরাইরা, সাফওয়ান ইবনু আসসাল, আওফ ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
হাদিস 96 — Jami At Tirmidhi 1:96
হাসানহাসানহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْرًا أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ وَحَمَّادٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ وَلاَ يَصِحُّ ‏.‏ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ شُعْبَةُ لَمْ يَسْمَعْ إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ مِنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ حَدِيثَ الْمَسْحِ ‏.‏ وَقَالَ زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ كُنَّا فِي حُجْرَةِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ وَمَعَنَا إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ فَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا يَمْسَحُ الْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَالْمُسَافِرُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ لَمْ يُوَقِّتُوا فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَالتَّوْقِيتُ أَصَحُّ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ أَيْضًا مِنْ غَيْرِ حَدِيثِ عَاصِمٍ ‏.‏
। সাফওয়ান ইবনু 'আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা যখন সফরে থাকতাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন, আমরা যেন নাপাকির গোসল ছাড়া তিন দিন তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি; এমনকি মলত্যাগ-পেশাব ও ঘুম হতে ওঠার পর ওযু করার সময়ও (মোজা না খুলি)। —হাসান। ইবনু মাজাহ– (৪৭৮)। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। হাকাম ইবনু উতাইবা ও হাম্মাদ-ইবরাহীম নাখঈর সূত্রে, তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-জাদালীর সূত্রে, তিনি খুযাইমার সূত্রে মোজার উপর মাসিহ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনাটি সহীহ নয়। ‘আলী ইবনু মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, শু’বা বলেছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-জাদালীর নিকট হতে ইবরাহীম নাখাঈ মাসিহ সম্পর্কিত হাদীস শুনেননি। যায়িদাহ মানসূর হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা ইবরাহীম তাইমীর ঘরে বসা ছিলাম। ইবরাহীম নাখাঈও আমাদের সাথে ছিলেন। তখন ইবরাহীম তাইমী আমাদের নিকট আমর ইবনু মাইমূনের সুত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ আল জাদালীর সুত্রে, তিনি খুজাইমা ইবনু সাবিতের সূত্রে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে ‘মোজার উপর মাসিহ সম্পর্কিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) বলেন, এ অনুচ্ছেদে সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি বেশি উত্তম। আবু ঈসা বলেনঃ বিশেষজ্ঞ সাহাবা, তাবিঈ ও পরবর্তী যুগের ফিকহবিদ যেমন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মতে মুসাফির ব্যক্তি তিন দিন তিন রাত এবং মুকীম ব্যক্তি এক দিন এক রাত পর্যন্ত মোজার উপর মাসিহ করতে পারবে। আবু ঈসা বলেনঃ কিছু বিদ্বান যেমন মালিক ইবনু আনাস মোজার উপর মসিহ করার সময়সীমা নির্দিষ্ট করেননি। কিন্তু সময়সীমা নির্ধারিত করাটাই বেশি সহীহ। এই হাদীসটি সাফওয়ান ইবনু আস্‌সাল হতে আসিম ব্যতীত অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 97 — Jami At Tirmidhi 1:97
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ مَعْلُولٌ لَمْ يُسْنِدْهُ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ غَيْرُ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَأَلْتُ أَبَا زُرْعَةَ وَمُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالاَ لَيْسَ بِصَحِيحٍ لأَنَّ ابْنَ الْمُبَارَكِ رَوَى هَذَا عَنْ ثَوْرٍ عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ قَالَ حُدِّثْتُ عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ مُرْسَلٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْمُغِيرَةَ ‏.‏
। মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু হালাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপরের অংশ মাসিহ করেছেন এবং নীচের অংশও মাসিহ করেছেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫৫০) আবূ ঈসা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা এবং তাবিঈদের এটাই সিদ্ধান্ত যে, মোজার উপর ও নীচের দিক মাসিহ করতে হবে। ইমাম মালিক, শাফিঈ এবং ইসহাকেরও এই মত। এই হাদীসটি ত্রুটি যুক্ত। ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম ব্যতীত অন্য কেহই সাওর ইবনু ইয়াযীদের দিকে এর সম্পৃক্ততা বর্ণনা করেন নাই। আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ যুরআহ এবং ইসমাঈলকে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তারা বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। কেননা ইবনুল মুবারক হাদীসটি সাওর হতে রাজা ইবনু হাইওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুগীরার সচীব হতে মুরসাল ভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি উহাতে মুগীরার নাম উল্লেখ করেননি।
হাদিস 98 — Jami At Tirmidhi 1:98
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى ظَاهِرِهِمَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَهُوَ حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا يَذْكُرُ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ ‏ "‏ عَلَى ظَاهِرِهِمَا ‏"‏ ‏.‏ غَيْرَهُ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَأَحْمَدُ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَكَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يُشِيرُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ ‏.‏
। মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার মোজা দুটির উপরিভাগ মাসাহ করতে দেখেছি। হাসান সহীহ। মিশকাত— (৫২২), সহীহ আবু দাউদ- (১৫১-১৫২)। আবু ঈসা বলেনঃ মুগীরার বর্ণনা করা হাদীসটি হাসান। এই হাদিসটি আব্দুর রহমান ইবনু আবি জিনাদ হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা জিনাদ হতে তিনি উরওয়াহ হতে তিনি মুগীরা হতে বর্ণনা করেছেন। আবু জিনাদ ব্যতীত অন্য কেউ উরওয়ার সূত্রে মুগীরা হতে মুজার উপর মাসিহ করার কথা উল্লেখ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আর এটাই (মুজার উপরিভাগ মসিহ করা) অনেক বিদ্বানের অভিমত। সুফিয়ান সাওরী ও আহমাদ এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। মুহাম্মাদ বলেন, মালিক এ হাদীসের রাবী আবদুর রহমান ইবনু আবু যিনাদের দিকে ইঙ্গিত করতেন (দুর্বল বলতেন)।
হাদিস 99 — Jami At Tirmidhi 1:99
সহিহসহিহহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ نَعْلَيْنِ إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ مُحَمَّدٍ التِّرْمِذِيَّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُقَاتِلٍ السَّمَرْقَنْدِيَّ يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ جَوْرَبَانِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا ثُمَّ قَالَ فَعَلْتُ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ أَكُنْ أَفْعَلُهُ مَسَحْتُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَهُمَا غَيْرُ مُنَعَّلَيْنِ ‏.‏
। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং জাওরাব ও জুতার উপর মাসাহ করলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৫৯)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক বিশেষজ্ঞ যেমন, সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, জাওরাবের উপর মাসিহ করা যাবে, তার সাথে জুতা না পরা হলেও। এটা যখন মোটা বস্ত্রের হবে। এ অনুচ্ছেদে আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আমি সালিহ ইবনু মুহাম্মাদ আত-তিরমিয়ীর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু মুকাতিল সামার কান্দীকে বলতে শুনেছি, আমি ইমাম আবু হানীফার নিকট ঐ অসুখের সময় উপস্থিত হলাম যে অসুখে তিনি ইনতিকাল করেছেন। তিনি পানি আনতে বললেন, অতঃপর ওযু করলেন তার পায়ে জাওরাবা ছিল, তিনি তার উপর মাসাহ করলেন আর বললেন, আজ আমি এমন একটি কাজ করলাম, যা আমি পূর্বে করিনি। আমি জাওরাবার উপর মাসাহ করেছি অথচ তার সাথে জুতা ছিল না।
হাদিস 100 — Jami At Tirmidhi 1:100
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْعِمَامَةِ ‏.‏ قَالَ بَكْرٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مِنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ ‏.‏ قَالَ وَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ وَعِمَامَتِهِ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ذَكَرَ بَعْضُهُمُ الْمَسْحَ عَلَى النَّاصِيَةِ وَالْعِمَامَةِ وَلَمْ يَذْكُرْ بَعْضُهُمُ النَّاصِيَةَ ‏.‏ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ بِعَيْنِي مِثْلَ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَسَلْمَانَ وَثَوْبَانَ وَأَبِي أُمَامَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَسٌ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْعِمَامَةِ ‏.‏ وَقَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ لاَ يَمْسَحُ عَلَى الْعِمَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ مَعَ الْعِمَامَةِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ بْنَ مُعَاذٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعَ بْنَ الْجَرَّاحِ يَقُولُ إِنْ مَسَحَ عَلَى الْعِمَامَةِ يُجْزِئُهُ لِلأَثَرِ ‏.‏
। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং মোজা ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। - —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১৩৭-১৩৮), মুসলিম। বাকর বলেন, আমি এ হাদীসটি ইবনু মুগীরার নিকট শুনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার অন্য এক স্থানে এ হাদীসে বলেছেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথার সম্মুখভাগ এবং পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। এ হাদীসটি মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ)-এর নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু রাবী বর্ণনা করেছেন, “তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথার সম্মুখভাগ ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করেছেন।” আর কিছু রাবী শুধু পাগড়ীর কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু মাথার সম্মুখ ভাগের কথা উল্লেখ করেননি। আবু ঈসা বলেনঃ আমি আহমাদ ইবনু হাসানকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেছেন, আমি স্বচক্ষে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের মত ভালো লোক দেখিনি। এ অনুচ্ছেদে আমর ইবনু উমাইয়া, সালমান, সাওবান ও আবু উমামা (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, মুগীরার হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী যেমন, আবু বাকর, উমার ও আনাস (রাঃ) পাগড়ীর উপর মাসাহ করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈগণ বলেছেন, শুধু পাগড়ীর উপর মাসাহ করা যাবে না, এর সাথে মাথাও মাসাহ করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ এ মত ব্যক্ত করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ আমি জারুদ ইবনু মুআযকে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ আমি ওয়াকী ইবনুল জাররাহকে বলতে শুনেছি, কোন ব্যক্তি যদি শুধু পাগড়ীর উপর মাসাহ করে তবে তার জন্য তাই যথেষ্ট হবে সাহাবা হতে বর্ণিত আসারের কারণে
সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।