। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উটের গোশত খেলে আবার ওযু করতে হবে কি না এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ উটের গোশত খাওয়ার পর ওযু কর। তাকে আবার বকরীর গোশত খেলে ওযু করতে হবে কি না এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেন এতে (বকরীর গোশত খেলে) তোমরা ওযু করো না। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৯৪)। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু সামুরা ও উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরতাত তার সনদ পরম্পরায় এ হাদীসটি উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনাকৃত হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি উবাইদাহ যাববী বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল্লাহ আলরাজী হতে তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে, তিনি জিল গুররাহ জুহানী হতে। আর হাম্মাদ ইবনু সালামা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ হতে। তিনি ভুলবশতঃ বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি উসাইদ ইবনু হুদাইর হতে। সঠিক কথা হলো- আব্দুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ আলরাজী হতে তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তিনি বারাআ ইবনু আযিব হতে বর্ণনা করেছেন। ইসহাক বলেন, এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করা দু’টি সর্বাধিক সহীহ হাদীস রয়েছে। একটির রাবী বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) এবং অপরটির রাবী জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)। ইমাম ইসহাক ও আহমাদের মতে, উটের গোশত খেলে ওযু করতে হবে কিন্তু কিছু তাবেয়ী বিদ্বান, সুফিয়ান সাওরী ও কৃফাবাসী আলিমদের মতে ওযু করতে হবে না।
। বুসরা বিনতু সাফওয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (ওযু করার পর) নিজের যৌনাংগ স্পর্শ করেছে, সে যেন আবার ওযু না করা পর্যন্ত নামায না আদায় করে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৭৯)। এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীবা, আবু আইউব, আবু হুরাইরা, আরওয়া বিনতু উনাইস, আয়িশাহ্, জাবির, যাইদ ইবনু খালিদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। তিনি আরো বলেন, আরো অনেকেই এভাবে হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি বুসরা হতে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 83 — Jami At Tirmidhi 1:83
সহিহসহিহসহিহ
وَرَوَى أَبُو أُسَامَةَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَرْوَانَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، بِهَذَا .
। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে হিশাম, আবু উসামা, আবুল যিনাদ ও অন্য রাবীগণ বুসরা হতে বর্ণনা করেছেন -সহীহ। দেখুন পূর্বোক্ত হাদীস।
। আবুল যিনাদ ওরওয়ার সূত্রে বুসরা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। -সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী ও তাবিঈন এই মত দিয়েছেন যে, যৌনাংগ স্পর্শ করলে ওযু নষ্ট হবে। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এ কথাই বলেছেন। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) বলেন, এ অনুচ্ছেদে বুসরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসই বেশি সহীহ। আবু যুর'আহ বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীব (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসটি বেশি সহীহ। এর সনদসূত্রটি এরূপঃ 'আলা ইবনু হারিস-মাকহুল হতে, তিনি আনবাসা ইবনু আবু সুফিয়ান হতে, তিনি উম্মু হাবীব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, আনবাসা ইবনু আবু সুফিয়ান হতে মাকহুল কখনও কিছু অবগত হননি। মাকহুল এক ব্যক্তির সূত্রে আনবাসী হতে এটা ছাড়া অন্য হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুখারী) উম্মু হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসটি সহীহ মনে করেন না।
। কাইস ইবনু তালক ইবনু আলী আল-হানাফী হতে তার পিতার (তালকের) সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘এটা (যৌনাংগ) তার দেহের একটা অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। (অথবা রাবীর সন্দেহ) তিনি বুযুআহ (টুকরা, অংশ) শব্দ বলেছেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৮৩)। এ অনুচ্ছেদে আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে, আবু ঈসা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী ও কিছু সংখ্যক তাবিঈ যৌনাংগ স্পর্শ করলে আবার ওযু করা দরকার আছে বলে মনে করেন না। ইবনুল মুবারাক ও কৃফাবাসীদের এটাই উপস্থাপিত মত। এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি বেশি সহীহ। এ হাদীসটি অপর এক সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে দু'জন রাবী- মুহাম্মাদ ইবনু জাবির ও আইউব ইবনু উতবা সম্পর্কে কিছু হাদীস পারদর্শী ব্যক্তি বিভিন্ন কথা বলেছেন। অতএব মুলাযিম ইবনু আমরের বর্ণনাটিই বেশি সহীহ এবং উত্তম।
হাদিস 86 — Jami At Tirmidhi 1:86
সহিহসহিহদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ بَعْضَ نِسَائِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ قُلْتُ مَنْ هِيَ إِلاَّ أَنْتِ قَالَ فَضَحِكَتْ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ قَالُوا لَيْسَ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَإِنَّمَا تَرَكَ أَصْحَابُنَا حَدِيثَ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا لأَنَّهُ لاَ يَصِحُّ عِنْدَهُمْ لِحَالِ الإِسْنَادِ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الْعَطَّارَ الْبَصْرِيَّ يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ ضَعَّفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ هَذَا الْحَدِيثَ جِدًّا . وَقَالَ هُوَ شِبْهُ لاَ شَىْءَ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَهَا وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . وَهَذَا لاَ يَصِحُّ أَيْضًا . وَلاَ نَعْرِفُ لإِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ سَمَاعًا مِنْ عَائِشَةَ . وَلَيْسَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ .
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক স্ত্রীকে চুমু খেলেন, অতঃপর নামায আদায় করতে গেলেন, কিন্তু তিনি (নতুন করে) ওযু করেননি। উরওয়া বলেন, আমি বললাম, তা আপনি (আয়িশাহ) ছাড়া আর কেউ নয়। এতে তিনি হেসে দিলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫০২)। আবু ঈসা বলেনঃ একইভাবে একাধিক সাহাবা ও তাবিঈ এ ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ (ইমাম আবু হানীফা ও তার মতানুসারীগণ) বলেন, চুমু দিলে ওযু নষ্ট হয় না। মালিক ইবনু আনাস, আওযাঈ, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মতে চুমু দিলে ওযু নষ্ট হয়। এটা একাধিক ফিকহবিদ সাহাবা ও তাবিঈর মত। তিরমিয়ী বলেন, আমাদের সাথীরা এ প্রসঙ্গে আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি বাদ দিয়েছেন। কেননা সনদের দিক হতে হাদীসটি সহীহ নয়। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, এ হাদীস বিশ্বাস যোগ্য নয়। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলও (বুখারী) এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। কেননা হাবীব ইবনু আবু সাবিত উরওয়ার নিকট হতে কিছুই শুনেননি। ইবরাহীম তাইমী হতেও আয়িশাহ (রাঃ)-এর এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছেঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চুমু খেলেন কিন্তু ওযু করলেন না।” এ বর্ণনাটিও সহীহ নয়, কেননা ইবরাহীম তাইমী আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট হতে কিছু শুনার সুযোগ পেয়েছেন বলে আমাদের কোন তথ্য জানা নেই। মোটকথা, এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি।
। আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করলেন, ফলে তিনি ইফতার করলেন। অতঃপর ওযু করলেন। মাদান বলেন, আমি দামিশকের মসজিদে সাওবান (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাকে এ কথা বললাম। তিনি বললেন, আবু দারদা (রাঃ) ঠিকই বলেছেন, এ সময় আমি তার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযুর পানি ঢেলেছিলাম। -সহীহ। ইরওয়া- (১১১)। আবু ঈসা বলেনঃ একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈর মতে বমি করলে বা নাক দিয়ে খুন বের হলে ওযু নষ্ট হবে এবং নতুন করে ওযু করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এ মত পোষণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বমি হলে অথবা নাক দিয়ে খুন বের হলে পুনরায় ওযু করতে হবে না। ইমাম মালিক ও শাফিঈ এ মত দিয়েছেন। হুসাইন আল-মু'আল্লিম এ হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে হুসাইনের হাদীসটি অধিকতর সহীহ। অপর একটি সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি মামার ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি ভুল করে বলেছেন, ইয়া'ঈশ ইবনুল ওয়ালীদ খালিদ ইবনু মাদান হতে তিনি আবুদ দারদা হতে। তিনি এতে আওযাঈর উল্লেখ করেননি। আর তিনি বলেছেন, খালিদ ইবনু মাদান। প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন, মাদান ইবনু আবী তালহা।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমার পাত্রে কি আছে? আমি বললাম, নবীয (খেজুর দ্বারা তৈরী শরবত)। তিনি বললেনঃ খেজুর পবিত্র এবং পানিও পবিত্র। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা দিয়ে ওযু করলেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৮৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি শুধু আবূ যাইদ হতে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে। অথচ আবূ যাইদ হাদীস বিশারদদের নিকট অপরিচিত ব্যক্তি। এ বর্ণনাটি ছাড়া আর কোথাও তার বর্ণনা জানা যায়নি। কিছু বিদ্ধান বলেন, খেজুর ভিজানো পানি (নবীয) দিয়ে ওযু করা জয়িয। সুফিয়ান সাওরী ও অন্যরা এ মত দিয়েছেন। শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মতে খেজুর ভিজানো পানি দিয়ে ওযু হবে না। ইসহাক বলেন, যদি পানি পাওয়া না যায় তাহলে নবীয দিয়ে ওযু করবে, তারপর তায়াম্মুম করে নেয়াই আমার নিকট পছন্দনীয়। আবূ ঈসা বলেন, যারা বলেন নবীয দিয়ে ওযু না করা উচিৎ, তাদের এ মত কুরআনের বাণীর সাথে সামঞ্জস্যশীল কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর" -সূরা নিসাঃ ৪৩ আর নবীয তো পানি নয়, অতএব এটা দ্বারা ওযু করা জায়িয নয়।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করে পানি আনতে বললেন, অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেনঃ দুধে তৈলাক্ত পদার্থ (চর্বি) আছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৯৮)। এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সা’দ ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। কেউ কেউ দুধ পান করার পর কুলি করা মুস্তাহাব মনে করেন, আমাদের অভিমতও তাই। আবার কেউ কুলি করা দরকার মনে করেন না।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করল, তখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন। তিনি তার সালামের জবাব দেননি। —হাসান সহীহ। ইরওয়া(৫৪), সহীহ আবু দাউদ- (১২-১৩), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমাদের মতে, মলত্যাগ বা পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়া মাকরূহ। কিছু বিশেষজ্ঞ এ হাদীসের তাৎপর্য এটাই বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হাদীসসমূহের মধ্যে এ হাদীসটি সর্বাধিক হাসান। মুহাজির ইবনু কুনফুয, 'আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা, আলকামা ইবনু ফাগওয়া, জাবির ও বারাআ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।