। উম্মু কাইস বিনতু মিহসান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। সে তখনও শক্ত খাবার ধরেনি। বাচ্চাটি তার কোলে পেশাব করে দিল। তিনি পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তা পেশাবের জায়গায় ছিটিয়ে দিলেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫২৪), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী, আয়িশাহ, যাইনাব, লুবাবা বিনন্তে হারিস তিনি ফাযল ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মাতা, আবু সামহি, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবু লাইলা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ একাধিক সাহাবা, তাবিঈ ও তাদের পরবর্তীগণ, যেমন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের মতে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছেলে হলে পেশাবের জায়গায় পানি ছিটিয়ে দিলেই চলবে, আর কন্যা সন্তান হলে ঐ জায়গা ধুয়ে নিতে হবে। এই বিধান কার্যকর হবে যতক্ষণ পর্যন্ত শিশু শক্ত খাবার না খায়, আর যখন শক্ত খাবার খেতে শুরু করবে তখন ছেলে-মেয়ে উভয়ের পেশাবের জায়গাই ধুয়ে নিতে হবে।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উরাইনা গোত্রের লোকেরা মাদীনায় আসলো। কিন্তু এখানকার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সাদকার উটের নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ “তোমরা এর দুধ ও পেশাব পান কর।" তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাখালকে হত্যা করে উটগুলো লুণ্ঠন করে নিয়ে গেল এবং ইসলাম ত্যাগ করল (মুরতাদ হয়ে গেল) তাদেরকে গ্রেফতার করে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হল। তিনি তাদের এক দিকের হাত ও অন্যদিকের পা কাটলেন (কাটালেন), চোখ উপড়ে ফেললেন (ফেলালেন) এবং রোদের মধ্যে কাকরময় যমিনে ফেলে রাখলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে মুখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে দেখলাম। অতঃপর তারা মারা গেল। (অধঃস্তন রাবী) হাম্মাদ কখনো কখনো বলতেন, সে তার মুখ দিয়ে মাটি কামড়াচ্ছিল। পরিশেষে তারা মারা গেল। -সহীহ। ইরওয়া— (১৭৭), রাওয- (৪৩), বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের বক্তব্য হল, যে জীবের গোশত খাওয়া হালাল তার পেশাব নাপাক নয়।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন (ফেলালেন)। কেননা তারা রাখালদের চোখ উপড়ে ফেলেছিলো। —সহীহ। প্রাগুক্ত, মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা এ হাদীসটি কেবল এই শাইখ (ইয়াহইয়া ইবনু গাইলান) ব্যতীত আর কেউ রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তার এ রায় "সব ধরনের জখমের জন্য সমান দণ্ড নির্দিষ্ট" (সূরা ; আল-মাইদা- ৪৫) এই মূলনীতি অনুযায়ী ছিল। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, হদ (ফৌজদারী দণ্ড) সম্পর্কিত বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (বায়ুর) শব্দ অথবা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত পুনরায় ওযু করা ফরয নয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫১৫), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে থাকা অবস্থায় যদি তার নিতম্বের মাঝখান হতে বায়ুর আভাস পায়, তাহলে সে যেন শব্দ অথবা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত (মাসজিদ হতে) বের না হয়। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১৬৯), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ, আলী ইবনু তাল্ক আয়িশাহ, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ ও আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমদেরও অভিমত হল, (বায়ুর) শব্দ অথবা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত পুনরায় ওযু করা দরকার হয় না। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন, ওযু নষ্ট হওয়ার আশংকা হলেই ওযু করা জরুরী নয়, যতক্ষণ এরূপ বিশ্বাস না জন্মে যার ভিত্তিতে শপথ করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, মহিলাদের পেশাবের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হলে পুনরায় ওযু করা ওয়াজিব। এটা ইমাম শাফিঈ এবং ইসহাকেরও অভিমত।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তির ওযু নষ্ট হয়ে গেলে পুনরায় ওযু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তার নামায কুবুল করেন না। -সহীহ। আবু দাউদ- (৫৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিজদারত অবস্থায় ঘুমাতে দেখলেন। এমনকি তিনি নাক ডাকলেন, তারপর তিনি নামাযরত অবস্থায়ই দাড়ালেন। (নামায শেষে) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে ঘুমালেন? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি শুয়ে ঘুমায় শুধু তার জন্যই ওযু করা ওয়াজিব। কেননা যখন কেউ শুয়ে ঘুমায় তখন তার শরীরের বন্ধনসমূহ শিথিল হয়ে যায়। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (২৫), মিশকাত (৩১৮) আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ খালিদের নাম ইয়াযিদ ইবনু আব্দুর রহমান। এ অনুচ্ছেদে আইশা, ইবনু মাসউদ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও আছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ (বসে বসে) ঘুমাতেন, অতঃপর দাড়াতেন এবং নামায আদায় করতেন, কিন্তু ওযু করতেন না। —সহীহ। ইরওয়া- (১১৪), সহীহ আবু দাউদ- (১৯৪), মিশকাত- (৩১৭)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমি সালিহ ইবনু ‘আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নিজ পাছায় ভর দিয়ে বসে বসে ঘুমায় আমি (সালিহ) তার সম্পর্কে ইবনুল মুবারাককে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তাকে পুনরায় ওযু করতে হবে না। আবু ঈসা বলেনঃ সাঈদ ইবনু আবু আরুবা কাতাদার সূত্রে ইবনু আব্বাসের অভিমত রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি সনদের মধ্যে আবুল আলিয়ার নামও উল্লেখ করেননি এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্যও মারফু হিসাবে বর্ণনা করেননি। ঘুমের দ্বারা ওযু নষ্ট হওয়া সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। বেশিরভাগ মত হল, যদি বসে বসে অথবা দাড়িয়ে ঘুমানো হয় তবে ওযু নষ্ট হবে না; কিন্তু শুয়ে ঘুমালে পুনরায় ওযু করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও আহমাদ এ মত ব্যক্ত করেছেন। ইসহাক বলেন, ঘুমানোর ফলে যদি বোধশক্তি লোপ পায় তবে আবার ওযু করতে হবে। শাফিঈ বলেন, যে ব্যক্তি বসে বসে ঘুমাল এবং স্বপ্ন দেখল অথবা ঘুমের ঘোরে তার উরু স্থানচ্যুত হল, তাকে ওযু করতে হবে।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আগুনে রান্না করা খাদ্য খেলে ওযু করতে হবে; তা পনিরের একটা টুকরাই হোক না কেন।” (আবু হুরাইরাকে এ কথা বর্ণনা করতে শুনে) ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলেন, আমরা কি তৈল ব্যবহার করলেও ওযু করব, আমরা কি গরম পানি পান করলেও ওযু করব? আবু হুরাইরা (রাঃ) বললেন, হে ভাইয়ের ছেলে। যখন তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন হাদীস শুনতে পাও, তার সামনে উদাহরণ পেশ কর না। —হাসান। ইবনু মাজাহ– (৪৮৫)। এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীবা, উম্মু সালামা, যাইদ ইবনু সাবিত, আবু তালহা, আবু আইউব ও আবু মূসা (রাঃ) হতেও বর্ণনা করা হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, আগুন যে জিনিসের মধ্যে পরিবর্তন এনেছে তা ব্যবহার করলে আবার ওযু করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবা, তাবিঈন ও তাদের পরবর্তীদের মতে, আগুনে স্পর্শ করা জিনিসের ব্যবহার ও পানাহারে ওযু করার প্রয়োজন নেই।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোথাও যাবার উদ্দেশ্যে) বের হলেন। আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি এক আনসার মহিলার বাড়ীতে গেলেন। সে তার জন্য একটি বকরী যাবাহ করল। তিনি তা খেলেন। অতঃপর সে তার জন্য পাত্রে করে তাজা খেজুর আনলো। তিনি তা হতে খেলেন, অতঃপর যুহরের নামাযের ওযু করলেন এবং নামায আদায় করলেন। মহিলাটি বকরীর অবশিষ্ট গোশত হতে কিছু গোশত তাকে দিলেন। তিনি তা খেলেন এবং আসরের নামায আদায় করলেন, কিন্তু ওযু করেননি। —হাসান সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১৮৫)। এ অনুচ্ছেদে আবু বাকর সিদীক, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, ইবনু নুমান ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। কিন্তু সনদের বাছবিচারে তা সহীহ নয়, বরং ইবনু আব্বাস (রাঃ) যে হাদীসটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, সেটিই সহীহ। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে ইবনু আব্বাসের নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে। সনদের দিক হতে এটা বেশি সহীহ।এ হাদিসটি আতা ইবনু ইয়াসার, ইকরিমা, মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা, আলী ইবনু আদিল্লাহ ইবনু আব্বাস আরো অনেকে ইবনু আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন। তারা আবু বকরের কথা উল্লেখ করেননি। আর এটিই অধিক সহীহ। আবু ঈসা বলেনঃ বেশিরভাগ সাহাবা, তাবিঈ ও তার পরবর্তী বিদ্বানগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। অর্থাৎ আগুনে রান্না করা জিনিস খেলে পুনরায় ওযুর দরকার নেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। তাদের মতে, এ হাদীসটির মাধ্যমে পূর্ববর্তী হাদীসের কার্যকারীতা বাতিল হয়ে গেছে।