। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি ওয়াক্তের নামাযের জন্য নতুনভাবে ওযু করতেন। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন একই ওযু দিয়ে সব ওয়াক্তের নামায আদায় করলেন এবং মোজার উপর মসিহ করলেন। উমার (রাঃ) বললেনঃ আপনি এমন একটি কাজ করলেন যা ইতোপূর্বে কখনও করেননি। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি ইচ্ছা করেই এটা করলাম। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫১০), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আলী ইবনু কাদিম— সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতে এ কথাটুকুও আছে, “তিনি একবার একবার ওযু করেছেন।” সুফিয়ান সাওরী তার সনদ পরম্পরায় বুরাইদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের জন্যই নতুনভাবে ওযু করতেন। ওরাকীও তার সনদ পরম্পরায় বুরাইদার এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান ইবনুল মাহদী ও অন্যরা অপর এক সনদ পরম্পরায় এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ওয়াকীর বর্ণনার তুলনায় বেশি সহীহ। বিদ্বানদের মতামত হল ওযু যে পর্যন্ত নষ্ট না হবে, সে পর্যন্ত একই ওযুতে একাধিক ওয়াক্তের নামায আদায় করা যাবে। তাদের কেউ কেউ ফযিলত লাভের আশায় প্রত্যেক নামাযের জন্য নতুনভাবে ওযু করাটা মুস্তাহাব মনে করেছেন। আফরীকী হতে বর্ণিত আছে, তিনি গুতাইফ হতে তিনি ইবনু উমার হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "যে ব্যক্তি ওযু থাকা অবস্থায় ওযু করে আল্লাহ তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখেন।" -এর সনদ যঈফ। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদীস রয়েছেঃ “নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই ওযুতে যুহর এবং আসরের নামায আদায় করেছেন।”
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে মাইমূনা (রাঃ) জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র হতে পানি নিয়ে নাপাকির (ফরজ) গোসল করেছি। —সহীহ। বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। সকল ফিকহবিদের এটাই অভিমত, পুরুষ এবং স্ত্রীলোক (স্বামী-স্ত্রী) একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করাতে কোন অপরাধ নেই। এ অনুচ্ছেদে আলী, ‘আয়িশাহ,আনাস, উম্মু হানী, উম্মু সুবাইয়া, উম্মু সালামা, ইবনু উমার ও আবু শাসা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু শা’সার নাম জাবির ইবনু যাইদ।
। বানী গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মহিলাদের (ওযু বা গোসল হতে) বেঁচে যাওয়া পানি ব্যবহার করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পুরুষদেরকে) মানা করেছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৭৩)। এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ কোন কোন ফিকহবিদ মহিলাদের ওযু-গোসলের পর বেঁচে যাওয়া পানি ব্যবহার করাকে মাকরূহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের এই মত। কিন্তু তারা মহিলাদের ঝুটা খাদ্য-পানীয়ের ব্যবহারে কোনরূপ দোষ ধরেননি।
। হাকাম ইবনু আমর আল-গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদেরকে স্ত্রীলোকদের ওযু-গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করতে নিষেধ করেছেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি স্ত্রীলোকদের অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। সহীহ। দেখুন পূর্বোক্ত হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এটা হাসান হাদীস। বর্ণনাকারী আবু হাজিবের নাম সাওয়াদা ইবনু আসিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার তার হাদীসে বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীলোকদের ওযু-গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষদের ওযু করতে নিষেধ করেছেন। এ বর্ণনায় বাশশার সন্দেহ প্রকাশ করেননি।’
হাদিস 65 — Jami At Tirmidhi 1:65
সহিহসহিহহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي جَفْنَةٍ فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ مِنْهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا . فَقَالَ " إِنَّ الْمَاءَ لاَ يُجْنِبُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন এক স্ত্রী একটি গামলাতে গোসল করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে ওযু করতে চাইলেন। তিনি (স্ত্রী) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নাপাক ছিলাম। তিনি বললেনঃ (নাপাক ব্যক্তির ছোয়ায়) পানি নাপাক হয় না (যদি তার হাতে ময়লা না থাকে)। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৭০)। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও শাফিঈর এটাই মত (স্ত্রীলোকদের ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষেরা ওযু করতে পারে)।
। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বীরে বুযাআহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? এটা এমন একটি কূপ যাতে হয়েযের ন্যাকড়া, (মরা কুকুর) ও আবর্জনা ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “পানি পাক, কোন জিনিসই তাকে নাপাক করতে পারে না।” —সহীহ। মিশকাত— (৪৭৮), সহীহ আবু দাউদ- (৫৯)। আবু ঈসা বলেন, এটা হাসান হাদীস I আবু উসামা এটাকে উত্তম সনদে উল্লেখ করেছেন। কেউ এটাকে তার চেয়ে উত্তম সনদে বর্ণনা করেননি। হাদীসটি একাধিক সনদে আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস ও আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এমন পানির বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, যা জঙ্গল ও জনশূন্য এলাকায় জমা হয়ে থাকে এবং যা পান করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হিংস্র জীব ও বন্য জন্তু এসে থাকে। তিনি বললেনঃ পানি যখন দুই কুল্লা পরিমাণ হয় তখন তা নাপাক হয় না। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫১৭)। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক বলেন, পানির কলসী বা মটকাকে কুল্লা বলা হয়। যাতে পানি রেখে তা পান করা হয়। আবু ঈসা বলেনঃ ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত, পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হলে তা নাপাক হয় না, যে পর্যন্ত তার গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত না হয়। তারা এ কথাও বলেছেন, দুই মটকার অর্থ কম-বেশি পাঁচ মশকের সমান।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমন যেন না হয় যে, তোমাদের কেউ বদ্ধ পানিতে (কূপ, পুকুর, জলাশয়) পেশাব করে, অতঃপর তা দিয়েই ওযু করে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৪৪)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
হাদিস 69 — Jami At Tirmidhi 1:69
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، مِنْ آلِ ابْنِ الأَزْرَقِ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ، وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَالْفِرَاسِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِمَاءِ الْبَحْرِ . وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْوُضُوءَ بِمَاءِ الْبَحْرِ مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو هُوَ نَارٌ .
। মুগীরা ইবনু আবী বুরদা হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্র পথে আসা-যাওয়া করি এবং সাথে করে সামান্য মিঠা পানি নেই। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তাহলে পিপাসার্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত জীব হালাল"। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৮৬-৩৮৮)। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ফিরাসী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ ফিকহবিদ সাহাবার মতে সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করাতে কোন দোষ নেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু বাকর, উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)। সাহাবাদের অপর দল সাগরের পানি দিয়ে ওযু করা মাকরুহ বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনু উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেছেন, এটা আগুনের সমতুল্য।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ এদের উভয়কে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বড় কোন অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। এদের একজন পেশাবের সময় আড়াল (পর্দা) করত না, আর অপরজন একের কথা অন্যের নিকট বলে বেড়াত (চোগলখুরী করত)। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৪৭), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে যাইদ ইবনু সাবিত, আবু বাকরাহ, আবু হুরাইরা, আবু মূসা ও আবদুর রহমান ইবনু হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মানসূর মুজাহিদের সূত্রে ইবনু আব্বাসের নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাউসের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেনঃ আবু বাকর মুহাম্মাদ ইবনু আবানকে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ আমি ওয়াকীকে বলতে শুনেছি, আমাশ মানসূরের চাইতে অধিকতর স্মরণশক্তির অধিকারী। আমাশের বর্ণনাটিই বেশি সহীহ। কেননা তার স্মরণ শক্তি বেশি ছিল।