। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদের বলব না, আল্লাহ তা'আলা কি দিয়ে গুনাহ মুছে দেন এবং মর্যাদা বাড়িয়ে দেন? সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ (বলে দিন)। তিনি বললেনঃ কষ্ট থাকার পরেও ভালভাবে ওযু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি যাতায়াত করা এবং এক নামায শেষ করে পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষায় থাকা। আর এটাই হল ‘রিবাত (প্রস্তুতি)। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪২৮), মুসলিম।
। 'আলা (রহঃ) হতে এই সনদসূত্রে উপরের হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে, কুতাইবা তার সনদে বর্ণিত হাদীসে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাটা এভাবে) উল্লেখ করেছেনঃ "এটাই তোমাদের জন্য রিবাত, এটাই তোমাদের জন্য রিবাত, এটাই তোমাদের জন্য রিবাত। এ কথাটা (এ বর্ণনায়) তিনবার উল্লেখিত হয়েছে। —সহীহ। দেখুন পূর্ববর্ণিত হাদীস। আবু ঈসা বলেন ৪ এ অনুচ্ছেদে আলী, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, উবাইদা (ইবনু আমর), আয়িশাহ, আবদুর রহমান ইবনু আয়িশাহ ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীস হাসান সহীহ। আল ইবনু আবদুর রহমান, ইনি ইয়াকুব আল-জুহানীর পুত্র এবং হাদীস বিশারদদের মতে সিকাহ রাবী।
হাদিস 53 — Jami At Tirmidhi 1:53
দাঈফদাঈফ Isnaadদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ حُبَابٍ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خِرْقَةٌ يُنَشِّفُ بِهَا بَعْدَ الْوُضُوءِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ لَيْسَ بِالْقَائِمِ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ . وَأَبُو مُعَاذٍ يَقُولُونَ هُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَرْقَمَ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি বস্ত্রখণ্ড ছিল। ওযু করার পর এটা দিয়ে তিনি (ওযুর অঙ্গসমূহ) মুছে নিতেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি শক্তিশালী নয়। এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন হাদীস সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি। কেননা এ হাদীসের এক রাবী আবূ মুআয সম্পর্কে লোকেরা বলেন, ইনি হলেন সুলাইমান ইবনু আরকাম। ইনি মুহাদ্দিসদের বিচারে দুর্বল রাবী। এ অনুচ্ছেদে মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি- তিনি ওযু করে তার কাপড়ের কিনারা দিয়ে মুখমণ্ডল মুছে ফেলতেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এটা গারীব হাদীস এবং এর সনদ দুর্বল। এ হাদীসের রাবী রিশদীন ইবনু সাদ ও আবদুর রাহমান ইবনু যিয়াদ ইবনু আনউম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। কিছু সাহাবী ও তাদের পরবর্তী কালের একদল বিদ্বান ওযুর পরে রুমাল ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। যারা ওয়ূর অঙ্গ মোছা মাকরূহ মনে করেন তাদের মতে ওযুর পানি ওজন দেওয়া হয়। অতএব এটা মুছে ফেলা ঠিক নয়। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব ও যুহরী হতে এ মত বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী বলেন, ওযুর পর রুমাল ব্যবহার করা মাকরূহ। কেননা ওযুর পানিকেও ওজন করা হবে।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করার পর বলেঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তা'আলা ব্যতিত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শরীক নেই; আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দাহ ও তারই রাসূল; হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর”, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে নিজ ইচ্ছামত যে কোন দরজা দিয়েই তাতে যেতে পারবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৭০)। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আনাস ও উকুবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসে যাইদ ইবনু হুবাবের কারণে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এবং অন্যরা মুয়াবিয়াহ ইবনু সালিহ হতে তিনি রাবিয়াহ ইবনু ইয়াযিদ হতে, তিনি আবু ইদরিস হতে তিনি উক্ববা ইবনু ‘আমির হতে তিনি উমার হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং অন্য সূত্রে তিনি উমার হতে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসের সনদে অসংলগ্নতা রয়েছে। এ অনুচ্ছেদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে কোন সূত্রেই খুব একটা সহীহ হাদীস বর্ণিত নেই। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, আবু ইদরীস উমারের কাছে কোন কিছুই শুনেননি।
। সাফীনাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'এক মুদ্দ’ পানি দিয়ে ওযু করতেন এবং এক সা পানি দিয়ে গোসল করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (২৬৭)। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, জাবির ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ সাফীনার হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু রায়হানার নাম আব্দুল্লাহ ইবনু মাতার। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, ওযু এক মুদ্দ এবং গোসল এক সা পানি দিয়েই করতে হবে। কিন্তু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, হাদীসের তাৎপর্য এটা নয় যে, এক মুদ বা এক সা-এর বেশি বা কম পানি ব্যবহার করা যাবে না, বরং এটা একটা পরিমাণ যা ওযু ও গোসলের জন্য যথেষ্ট।
। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওযুর সময় (সন্দেহপ্রবণতা সৃষ্টি করার জন্যই) একটি শাইতান রয়েছে। তার নাম 'ওয়ালাহান’ বলে কথিত। অতএব ওযুর সময় পানি ব্যবহারে ওয়াসওয়াসা হতে সতর্ক থাক। সনদ দুর্বল, ইবনু মাজাহ (৪২১) এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি গারীব। হাদীস বিশারদদের মতে এর সনদ মজবুত নয়। কেননা খারিজাহ ছাড়া আর কেউ এ হাদীসকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। কিছু সূত্রে এটাকে (হাদীসটিকে) হাসান বাসরীর কথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি। হাদীস বিশারদদের নিকট খারিজাহ তত সবল রাবী নন। ইবনুল মুবারাক তাকে দুর্বল রাবী মনে করেছেন।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের জন্য নতুন ওযু করতেন, তিনি পবিত্র (ওযু) থাকলেও করতেন এবং অপবিত্র (ওযুহীন) থাকলেও করতেন। হুমাইদ বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনারা কি করেন? তিনি বললেন, আমরা একই ওযুতে কাজ সারি। যঈফ, সহীহ আবূ দাউদ (১৬৩) আবূ ঈসা বলেন, এই সূত্রে আনাসের বর্ণিত হাদীস হাসান গারীব। এ পর্যায়ে আমর ইবনু আমির হতে আনাসের সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি হাদীস বিশারদদের নিকট অতিপরিচিত। কিছু মনীষীর মতে, প্রত্যেক নামাযের জন্য নতুনকরে ওযু করা মুস্তাহাব, তবে ওয়াজিব নয়।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওযু থাকা সত্বেও ওযু করবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য ১০টি নেকী লিখবেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ
। আমর ইবনু আমির আনসারী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তে নতুন করে ওযু করতেন। আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম, আপনারা কি করেন? তিনি বললেন, আমাদের ওযু নষ্ট না হলে একই ওযুতে আমরা সব ওয়াক্তের নামায আদায় করে নেই। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫০৯), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। হুমাইদের সূত্রে আনাস থেকে বর্ণিত আরেকটি উত্তম সনদের হাদীস রয়েছে। হাদীসটি হাসান গারীব।