। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পায়ের গোড়ালির জন্য আগুনের শাস্তি। —সহীহ, বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশাহ, জাবির ইবনু 'আবদিল্লাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস, মু'আইকীব, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ, শুরাহবীল ইবনু হাসানা, আমর ইবনুল আস ও ইয়াযীদ ইবনু আবী সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেনঃ “পায়ের গোড়ালি ও পায়ের পাতার জন্য ধ্বংস রয়েছে”। ইমাম তিরমিয়ী বলেন, এ হাদীসের সার কথা হল, পায়ে যদি মোজা না থাকে তবে (ধোয়ার পরিবর্তে) পা মসিহ করা জায়িয নেই।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর প্রতিটি অংগ একবার করে ধুয়েছেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪১১), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উমার, জাবির, বুরাইদা, আবু রাফি ও ইবনুল ফাকিহি (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাসের হাদীস বেশি সহীহ ও উত্তম। ইমাম তিরমিয়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি অপর একটি সূত্রে উমর (রাঃ)-এর নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বর্ণনা সূত্রটি তেমন সহীহ নয়। বরং ইবনু আজলান, হিশাম ইবনু সাদ, সুফিয়ান সাওরী এবং আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমূখ যাইদ ইবনু আসলামের দুত্রে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসারের সুত্রে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা-ই বেশি সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ওয়ূর সময়) প্রতিটি অঙ্গ দু’বার করে ধুয়েছেন। —হাসান সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২৫)। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আমি এটা শুধু ইবনু সাওবানের নিকট হতে জেনেছি, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ফাযলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাম্মাম, আমির আল-আহওয়াল হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা হতে বর্ণনা করেনঃ “নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুয়েছেন।”
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার করে ধুয়েছেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০০)। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উসমান, রুবাই, ইবনু উমার, আয়িশাহ, আবু উমামা, আবু রাফি’, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর, মু'আবিয়া, আবু হুরাইরা, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ও উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ‘আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি বেশি সহীহ ও অধিক উত্তম। কেননা হাদীসটি আলী (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মনীষীদের মতামত হল, ওযুর অঙ্গগুলো একবার ধুলেও ওযু হবে, কিন্তু দু’বার করে ধোয়া ভাল এবং তিনবার করে ধোয়া অধিকতর উত্তম। এর বেশি ধোয়াতে কোন উপকার নেই। ইবনুল মুবারাক বলেনঃ যে ব্যক্তি তিনবারের বেশি ধোয়, আমার ধারণামতে তার গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আহমাদ ও ইসহাক বলেনঃ যে ব্যক্তি অনিশ্চয়তায় পরে যায় সে তিনবারের বেশি ধুতে পারে।
হাদিস 45 — Jami At Tirmidhi 1:45
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَكَ جَابِرٌ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَثَلاَثًا ثَلاَثًا قَالَ نَعَمْ .
। সাবিত ইবনু আবূ সাফিয়্যা (রাহঃ) বলেন, আমি আবূ জাফরকে বললাম, জাবির (রাঃ) কি আপনাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর অঙ্গগুলো একবার, দুইবার বা তিনবার করে ধুয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যঈফ, ইবনু মাজাহ
। সাবিত ইবনু আবু সাফিয়্যা (রাহঃ) বলেন, আমি আবৃ জাফরকে বললাম, জাবির (রাঃ) কি আপনাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর অঙ্গগুলো একবার করে ধুয়েছেন? তিনি বলেন, হ্যা। হাদীসটি হান্নাদ ও কুতাইবা বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই বলেন, ওয়াকী সাবিত ইবনু সাফিয়্যা হতে বর্ণনা করেছেন। —সহীহ। এই হাদীসটি ইবনু আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত ৪২ নং এর অনুরূপ তাই সহীহ। আবু ঈসা বলেনঃ এ বর্ণনাটি শরীকের বর্ণনাটির চেয়ে বেশি সহীহ। কেননা এটি বিভিন্ন সূত্রে সাবিত হতে বর্ণিত হয়েছে। আর শরীক অনেক ত্রুটির শিকার হন। সাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা তিনি হলেন আবু হামযা আস-সুমালী।
। আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ওযু করলেন। তিনি তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন, দুই হাত দু’বার করে ধুলেন, মাথা মাসিহ করলেন এবং উভয় পা দু’বার ধুলেন। সহীহ, তবে পা দু’বার ধুলেন, অংশটি শাজ। -সহীহ। আবু দাউদ- (১০৯)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ ছাড়াও কয়েকটি হাদীসে উল্লেখ আছেঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন অঙ্গ একবার এবং কোন অঙ্গ তিনবার ধুয়েছেন।” - এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু আলিম অনুমতি দিয়েছেন যে, কেউ যদি ওযুর সময় কোন অঙ্গ দু’বার, কোন অঙ্গ তিনবার এবং কোন অঙ্গ একবার ধোয় তবে তাতে কোন অপরাধ নেই।
। আবু হাইআ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে ওযু করতে দেখেছি। তিনি উভয় হাতের কজি পর্যন্ত ধুলেন এবং ভাল ভাবে পরিষ্কার করলেন; তিনবার কুলি করলেন, তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন, তিনবার করে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন, একবার মাথা মাসিহ করলেন এবং উভয় পা গোছা পর্যন্ত ধুলেন। এরপর তিনি দাড়ালেন এবং ওযুর অবশিষ্ট পানি তুলে নিয়ে তা দাড়ানো অবস্থায় পান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযু কিরূপ ছিল তা তোমাদের দেখানোর জন্যই আমি এরূপ করা পছন্দ করলাম। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০১-১০৫), বুখারী সংক্ষেপিত। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উসমান, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ, ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশাহ, রুবাই’ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে।
। আবদি খাইর আলী (রাঃ)-এর সূত্রে আবু হাইআ হতে বর্ণিত হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবদি খাইরের বর্ণিত হাদীসের শেষের অংশ নিম্নরূপঃ তিনি যখন ওযু শেষ করতেন তখন অবশিষ্ট পানি হাতের আঁজলে নিয়ে পান করতেন। —সহীহ। দেখুন পূর্ববতী হাদীস। আবু ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি আবু ইসহাক হামদানী বর্ণনা করেছেন আবু হাইআ হতে, তিনি আবদু খাইর ও হারিস হতে, তিনি আলী হতে। যায়িদাহ ইবনু কুদামাহ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু "আলক্বামাহ হতে, তিনি আবদুখাইর হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে ওযুর হাদীস বিস্তারিতভাবে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শুবা এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু আলক্বামা হতে, তিনি ভুলক্রমে তার নাম ও তার পিতার নাম বলেছেন এভাবে মালিক ইবনু উরফুতাহ তিনি আবদু খাইর হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে। আবু আওয়ানাহ হতে বর্ণিত হয়েছে খালিদ ইবনু আল-ক্বামাহ হতে, তিনি আবদু খাইর হতে। তিনি আলী (রাঃ) হতে। এবং তার কাছ থেকে এভাবেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মালিক ইবনু উরফুতাহ হতে শুবা’র বর্ণনার মতো। অথচ সঠিক হচ্ছে খালিদ ইবনু আলক্বামাহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ যখন আপনি ওযু করেন, (পরিধেয় বস্ত্রে) পানি ছিটিয়ে দিন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪৬৩) আবূ ঈসা বলেন, এটা গরীব হাদীস। আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, হাসান ইবনু আলী একজন প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) রাবী। এ অনুচ্ছেদে আবুল হাকাম ইবনু সুফিয়ান, ইবনু আব্বাস, যাইদ ইবনু হারিসা ও আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসও আছে। কিছু হাদীস বিশারদ বলেছেন, সুফিয়ান ইবনু হাকাম অথবা হাকাম ইবনু সুফিয়ান এ হাদীসের সনদে গরমিল (ইযতিরাব) করেছেন।