। আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'হাতে মাথা মাসিহ করতেন। তিনি হাত দুটি সামনে আনতেন এবং পিছনে নিতেন। তিনি মাথার সামনের দিক হতে শুরু করে উভয় হাত ঘাড়ের দিকে নিতেন; অতঃপর পেছন দিক হতে আবার সামনের দিকে এনে শুরু করার জায়গায় পৌছাতেন। অতঃপর তিনি উভয় পা ধুতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৩৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে মুআবিয়া, মিকদাম ইবনু মাদিকারিব ও আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু যাইদের হাদীস সবচাইতে সহীহ ও সর্বাধিক উত্তম। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এভাবেই মাথা মাসিহ করার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন।
। রুবাই বিনতু মুআবিয ইবনি আফরাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাথা দু’বার মাসিহ করলেন। তিনি প্রথমবার ঘাড়ের দিক হতে মাসেহ শুরু করলেন এবং দ্বিতীয়বার মাথার সামনের দিক হতে শুরু করলেন। তিনি উভয় কানের ভেতর ও বাহিরও মসিহ করলেন। -হাসান। ইবনু মাজাহ– (৩৯০)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। তবে আবদুল্লাহ ইবনু যাইদের হাদীস এ হাদীসের তুলনায় অধিকতর সহীহ ও নির্ভরযোগ্য। কুফার বিভিন্ন আলিম এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। তাদের মধ্যে ওয়াকী ইবনুল জাররাহ অন্যতম।
। রুবাই বিনতু মু'আকিবয ইবনি আফরাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওযু করতে দেখলেন। তিনি বলেন, তিনি (নবী) মাথার সামনের দিক, পেছনের দিক (সমুদয় মাথা) এবং দুই কানের ভেতর ও বাহির একবার করে মাসিহ করলেন। —হাসান। এ অনুচ্ছেদে আলী (রাঃ) ও তালহা ইবনু মুসাররিফ ইবনি আমরের দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ রুবাই হতে বর্ণিত হাদীস হাসান সহীহ। একাধিক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মাথা মাসিহ করেছেন। বেশিরভাগ সাহাবা ও তাবিঈন একবারই মাথা মাসিহ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বেশিরভাগ ইমামেরও এই মত। যেমন জাফর ইবনু মুহাম্মাদ, সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক একবার মাথা মাসিহ করার কথা বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর মাক্কী বলেন, আমি সুফিয়ান ইবনু উআইনাকে বলতে শুনেছিঃ আমি জাফর ইবনু মুহাম্মাদকে প্রশ্ন করলাম, একবার মাথা মাসিহ করা যথেষ্ট কিনা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ তা'আলার শপথ! একবারই যথেষ্ট।
। আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওযু করতে দেখলেন। তিনি হাতে লেগে থাকা অতিরিক্ত পানি বাদে নতুন পানি নিয়ে মাথা মসিহ করলেন। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু লাহীআ হাব্বানের সূত্রে, তিনি ওয়াসের সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের পানি ছাড়া নতুন পানি নিয়ে মাথা মসিহ করেছেন।” হাব্বানের সূত্রে বর্ণিত আমর ইবনু হারিসের হাদীসটি অধিকতর সহীহ কেননা তিনি বিভিন্ন সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) ও অন্য সাহাবীদের নিকট হতে বর্ণনা করেছেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মাসিহ করার জন্য নতুন করে পানি নিয়েছেন।” বেশিরভাগ বিদ্বানের মতে, নতুনকরে পানি নিয়ে মাথা মসিহ করবে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মাসিহ করলেন এবং দুই কানের ভেতরে ও বাহিরে মসিহ করলেন। -হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৩৯)। এ অনুচ্ছেদে রুবাই’র সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস হাসান সহীহ। বেশিরভাগ বিদ্বান কানের ভেতর ও বাহিরে মাসিহ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
। আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন। তিনি মুখমণ্ডল ও উভয় হাত তিনবার করে ধুলেন এবং মাথা মসিহ করলেন আর বললেনঃ উভয় কান মাথারই অংশ। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৪৪) আবু ঈসা বলেনঃ কুতাইবা বলেন, হাম্মাদ বলেছেন, ‘কানদুটো মাথারই অংশ কথাটা কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের না আবু উসামার- তা আমি জানি না। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। বেশিরভাগ সাহাবা ও মনীষীর মতে, কান মাথারই অংশ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিয়ী আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত। কিছু মনীষী বলেছেন, কানের অগ্রভাগ মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত এবং গোড়ার দিক মাথার অন্তর্ভুক্ত। ইসহাক বলেন, আমি কানের অগ্রভাগ মুখমণ্ডলের সাথে এবং গোড়ার ভাগ মাথার সাথে মাসিহ করা পছন্দ করি। ইমাম শাফিঈ বলেন, কানের অবস্থান অনুসারে এটা আলাদা সুন্নাত। নতুনকরে পানি নিয়ে দুই কান মসিহ করবে।
। আসিম ইবনু লাকীত ইবনু সাবিরা হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি ওযু করবে, আঙ্গুলও খিলাল করবে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৪৮)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, মুসতাওরিদ ও আবু আইয়ূব (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। মনীষীদের মতে ওযুর সময় পায়ের আঙ্গুল খিলাল করতে হবে। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক এ মতের পক্ষপাতি। ইসহাক বলেন, হাত এবং পায়ের আঙ্গুল খিলাল করা উচিৎ। আবু হাশিমের নাম ইসমাঈল ইবনু কাসীর আল-মাক্কী।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তুমি ওযু করবে তখন দুই হাত ও দুই পায়ের আঙ্গুল খিলাল করবে। -হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৪৭)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব।
। মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ আল-ফিহরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি দেখেছি, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওযু করতেন, (বা হাতের) ছোট আঙ্গুল দিয়ে দু'পায়ের আঙ্গুলগুলো মলতেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪৪৬)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গরীব। আমি ইবনু লাহীআ ছাড়া আর কোন রাবীর নিকট এ হাদীসটি শুনিনি।