। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর আবার সহবাস করতে চায় তখন সে যেন এর মাঝখানে ওযু করে নেয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৮৭), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, আবু সাঈদ (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। উমর (রাঃ)-ও দ্বিতীয় সহবাসের পূর্বে ওযু করার কথা বলেছেন। বিদ্বানগণ বলেন, কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর আবার সহবাস করতে চাইলে সে যেন দ্বিতীয়বার সহবাস করার আগে ওযু করে নেয়। আবু মোতাওয়াক্কিল এর নাম আলী ইবনু দাউদ। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর নাম সাদ ইবনু মালিক ইবনু সিনান।
। হিশাম ইবনু উরওয়া (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু আল-আরকাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি (উরওয়া) বলেন, একদা নামাযের ইকামাত হয়ে গেল। তিনি (আবদুল্লাহ) এক ব্যক্তির হাত ধরে তাকে সামনে ঠেলে দিলেন। তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম) স্বীয় গোত্রের ইমাম ছিলেন (নামায শেষে)। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “নামাযের ইকামাত হয়ে যাওয়ার পর তোমাদের কারো মলত্যাগের প্রয়োজন হলে প্রথমে সে মলত্যাগ করে নেবে।” —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬১৬)। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, আবু হুরাইরা, সাওবান ও আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর হাদীসটি মালিক ইবনু আনাস ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান আরো অনেকে হিশাম ইবনু উরওয়া হতে তিনি তার পিতা উরওয়া হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম হতে বর্ণনা করেছেন। ওহাইব এবং অন্যরা হিশাম ইবনু উরওয়া হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি জনৈক ব্যক্তি হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম হতে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকজন সাহাবা ও তাবিঈর এটাই ফাতোয়া (মলত্যাগের প্রয়োজন আগে সেরে নেবে)। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এই মত সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজন অনুভূত হলে তা না সেরে নামাযে দাড়াবে না। হ্যাঁ যদি নামায শুরু করার পর প্রাকৃতিক প্রয়োজন অনুভূত হয় তবে নামায আদায় করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত গোলমাল ও বাধাবিয়ের সৃষ্টি না হয়। কিছু আলিম বলেছেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজনের কারণে যে পর্যন্ত নামাযের মধ্যে অসুবিধা সৃষ্টি না হয়, ততক্ষণ পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে নামায আদায় করতে কোন সমস্যা নেই।
আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফের উম্মু ওয়ালাদ হতে বর্ণিত আছে, তিনি (উম্মু ওয়ালাদ) বলেন, আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে বললাম, আমি আমার কাপড়ের আচল নীচের দিকে লম্বা করে দেই এবং ময়লা-আবর্জনার স্থান দিয়ে চলাচল করি (এর বিধান কি)। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরবর্তী পবিত্র জায়গার মাটি এটাকে পবিত্র করে দেয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫৩১)। এ হাদীসটি আরো একটি সূত্রে বর্ণিত আছে, এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। তিনি বলেনঃ “আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করতাম এবং পথের ময়লা-আবর্জনা লাগার কারণে ওযু করতাম না”। আবু ঈসা বলেন, বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মত হল, যদি কোন ব্যক্তি ময়লাযুক্ত যমিনের উপর দিয়ে চলাচল করে তবে তার পা ধোয়া ওয়াজিব নয়। হ্যাঁ ময়লা যদি ভিজা হয় এবং শুকনা না হয় তাহলে ময়লা লাগার জায়গাটুকু ধুয়ে নেবে। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক মালিক ইবনু আনাস হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু উমারাহ হতে তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ইবরহীম হতে তিনি হুদ ইবনু আব্দুর রহমানের উম্মু ওয়ালাদ হতে তিনি উম্মু সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এটি বিভ্রাট। হুদ নামে আব্দুর রহমান ইবনু আউফের কোন ছেলে নেই। বরং বর্ণনাটি ইবরহীম ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আউফের উম্মু ওয়ালাদ তিনি উম্মু সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এটাই সঠিক
হাদিস 144 — Jami At Tirmidhi 1:144
সহিহসহিহহাসান Sahihহাসান
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلاَّسُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِالتَّيَمُّمِ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَمَّارٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَمَّارٍ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عَلِيٌّ وَعَمَّارٌ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَغَيْرِ وَاحِدٍ مِنَ التَّابِعِينَ مِنْهُمُ الشَّعْبِيُّ وَعَطَاءٌ وَمَكْحُولٌ قَالُوا التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَجَابِرٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَالْحَسَنُ قَالُوا التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَمَّارٍ فِي التَّيَمُّمِ أَنَّهُ قَالَ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَمَّارٍ أَنَّهُ قَالَ تَيَمَّمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ . فَضَعَّفَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ حَدِيثَ عَمَّارٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي التَّيَمُّمِ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ لَمَّا رُوِيَ عَنْهُ حَدِيثُ الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ الْحَنْظَلِيُّ حَدِيثُ عَمَّارٍ فِي التَّيَمُّمِ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ عَمَّارٍ تَيَمَّمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ لَيْسَ هُوَ بِمُخَالِفٍ لِحَدِيثِ الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ لأَنَّ عَمَّارًا لَمْ يَذْكُرْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُمْ بِذَلِكَ وَإِنَّمَا قَالَ فَعَلْنَا كَذَا وَكَذَا فَلَمَّا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِالْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ فَانْتَهَى إِلَى مَا عَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ مَا أَفْتَى بِهِ عَمَّارٌ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي التَّيَمُّمِ أَنَّهُ قَالَ الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ فَفِي هَذَا دَلاَلَةٌ أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى مَا عَلَّمَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَّمَهُ إِلَى الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ يَقُولُ لَمْ أَرَ بِالْبَصْرَةِ أَحْفَظَ مِنْ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَةِ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَابْنِ الشَّاذَكُونِيِّ وَعَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ الْفَلاَّسِ . قَالَ أَبُو زُرْعَةَ وَرَوَى عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ حَدِيثًا .
আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুখমণ্ডল এবং উভয় হাতের কজি পর্যন্ত তায়াম্মুম করার নির্দেশ দিয়েছেন। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ (৩৫০, ৩৫৩), বুখারী ও মুসলিম আরো পূর্ণ রূপে বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে, আবু ঈসা বলেন, আম্মার (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আম্মারের নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। একাধিক সাহাবী যেমন, ‘আলী, আম্মার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) এবং তাবিঈদের মধ্যে শা'বী, আতা ও মাকহুল বলেন, মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের জন্য একবার মাত্র (তায়াম্মুমের বস্তুর উপর) হাত মারতে হবে। আহমাদ ও ইসহাক এ মত সমর্থন করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ যেমন, ইবনু উমার (রাঃ), জাবির (রাঃ), ইবরাহীম নাখঈ ও হাসান বাসরী বলেন, মুখমণ্ডলের জন্য একবার হাত মারতে হবে এবং উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ করতে একবার হাত মারতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ এ মত সমর্থন করেছেন। আম্মার (রাঃ) হতে কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি তায়াম্মুমের ব্যাপারে মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের কথা বলেছেন। আম্মার (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কাঁধ এবং বগল পর্যন্ত তায়াম্মুম করেছি।” কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আম্মার (রাঃ) বর্ণিত তায়াম্মুম সম্পর্কিত হাদীসটিকে (যাতে চেহারা ও উভয় হাতের কজি পর্যন্ত তায়াম্মুম করতে বলা হয়েছে) য’ঈফ বলেছেন। কেননা তিনিই আবার কাধ ও বগল পর্যন্ত তায়াম্মুম করার হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেন, মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের কজি পর্যন্ত তায়াম্মুম করার হাদীসটি সহীহ। কাঁধ ও বগল পর্যন্ত তায়াম্মুম করার হাদীসটিও সাংঘর্ষিক নয়। কেননা আম্মার (রাঃ) এ হাদীসে এরূপ বলেননি যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এটা করতে বলেছেন। বরং তিনি নিজের পক্ষ হতে বলেছেন, 'আমরা এরূপ করেছি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তায়াম্মুম সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের কজি পর্যন্ত তায়াম্মুম করার জন্য তাকে নির্দেশ দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা অনুযায়ী তার ইন্তিকালের পর তিনি মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের কজি পর্যন্ত’ তায়াম্মুম করার ফাতোয়াই দিতেন। আর এই ফাতোয়া একথারই প্রমাণ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যেভাবে তায়াম্মুমের শিক্ষা দিয়েছেন ইন্তিকালের পূর্বেও তিনি তাই অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আবু যুরআ উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল হাকামকে বলতে শুনেছি বাসরাতে আমি তিন ব্যক্তির চাইতে অধিক হাফিজ ব্যক্তি দেখিনি। আল-ফাললাস। আবু যুরআ বলেন, আফফান ইবনু মুসলিম আমর ইবনু আলী হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাকে তায়াম্মুম প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওযুর বিধান উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা তার মহান গ্রন্থে বলেছেনঃ “তোমাদের মুখমণ্ডল ও দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর" (সূরা মাইদাঃ ৬)। তিনি তায়াম্মুম প্রসঙ্গে বলেছেনঃ “(মাটির ওপর হাত মেরে তা দিয়ে) নিজেদের মুখমণ্ডল ও হাত মসিহ করে নাও” (সূরা মাইদাঃ ৬)। তিনি (চোরের শাস্তি প্রসঙ্গে) বলেছেনঃ “চোর পুরুষ হোক আর নারী- উভয়ের হাত কেটে দাও" (সূরা মাইদাঃ ৩৮)। আর চোরের হাত কাটার সুন্নাত তরীকা হল হাতের কজি পর্যন্ত কাটা। এ হতে জানা গেল হাত বলতে হাতের কজি পর্যন্তই বুঝায়। এজন্য তায়াম্মুমে মুখমণ্ডল ও উভয় হাতের কজি পর্যন্ত মাসিহ করতে হবে। সনদ দুর্বল। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, শরীর নাপাক না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাতেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫৯৪) ইরওয়া (১৯২, ৪৮৫) আবূ ঈসা বলেন, আলী (রাঃ)-এর এই হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈনের মতে কোন লোক বিনা ওযুতে মুখস্থ কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে; কিন্তু কুরআন স্পর্শ করে তিলাওয়াত করতে হলে ওযু করা প্রয়োজন। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক।
হাদিস 147 — Jami At Tirmidhi 1:147
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ الْمَسْجِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فَصَلَّى فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلاَ تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا . فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَقَدْ تَحَجَّرْتَ وَاسِعًا " . فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ بَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَأَسْرَعَ إِلَيْهِ النَّاسُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَهْرِيقُوا عَلَيْ��ِ سَجْلاً مِنْ مَاءٍ أَوْ دَلْوًا مِنْ مَاءٍ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ " .
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক বিদুইন এসে মসজিদে (নাবাবীতে) প্রবেশ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (ঐ স্থানে) বসা ছিলেন। লোকটি নামায আদায় করল। তারপর সে নামায শেষে বলল, “হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর ও মুহাম্মাদের উপর অনুগ্রহ কর; আমাদের সাথে আর কাউকে রহম কর না।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “তুমি প্রশস্ত রহমতকে সংকীর্ণ করে দিলে।” লোকটি কিছুক্ষণের মধ্যে মসজিদে পেশাব করে দিল। লোকেরা দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গেল (আক্রমণ করার জন্য)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তিনি আবার বললেনঃ তোমাদেরকে সহজ পথ অবলম্বনকারী বা দয়াশীল করে পাঠানো হয়েছে; কঠোরতা করার জন্য পাঠানো হয়নি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫২৯), বুখারী।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-ও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৪০৫)। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, ইবনু আব্বাস ও ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) হতেও বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কোন কোন মনীষীর মতে, পেশাবের জায়গাতে পানি ঢেলে দিলে তা পবিত্র হয়ে যায়। আহমাদ এবং ইসহাকও এই অভিমত দিয়েছেন। এ হাদীসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে অপর একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।