وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا صَغِيرًا كَانَ أَوْ كَبِيرًا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ " . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَوْلَى قَيْسٍ عَنْ زِيَادٍ النُّمَيْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সুপ্ৰসন্নতা অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি মাসজিদ তৈরী করে চাই তা ছোট হোক বা বড়, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করেন। যঈফ,তা’লীকুর রাগীব (১১১৭) এ হাদীসটি কুতাইবা তিনি নুহু ইবনু কাইস হতে তিনি আব্দুর রহমান হতে তিনি যিয়াদ আন-নুসাইরী হতে তিনি আনাস (রাঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণকারীদের এবং কবরে বাতি জ্বালানো ব্যক্তিদের অভিসম্পাত করেছেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৫৭৫) অধিক যিয়ারতকারীনী এই অর্থে এবং বাতি জ্বালানো বাদে হাদীসটি সহীহ এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান। রাবী আবূ সালিহ আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানির আযাদকৃত গোলাম, তার নাম বাযান বা বাযাম।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন কালে মসজিদে ঘুমাতাম। অথচ আমরা তখন যুবক ছিলাম। -সহীহ। বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল বিদ্বান মসজিদে ঘুমানোর পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, “মাসজিদকে দিনের বা রাতের শোয়ার জায়গায় পরিণত কর না।” বিদ্বানদের একদল ইবনু আব্বাসের মতকেই গ্রহণ করেছেন।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে কবিতা আবৃতি করতে, কেনা-বেচা করতে এবং জুমুআর দিন জুমুআর নামাযের আগে বৃত্তাকারে গোল হয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। -হাসান। ইবনু মাজাহ– (৭৪৯)। এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস-এর হাদীসটি হাসান। আমর ইবনু শু'আইব হলেন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) বলেন, আমি দেখেছি, ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও অন্যান্যরা নিজেদের মতের সপক্ষে আমর ইবনু শু'আইবের হাদীসকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) আরও বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু শু'আইব (রহঃ) তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর হাদীস শুনেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ কিছু লোক আমর ইবনু শুআইবের হাদীসের সমালোচনা করেছেন এবং তাকে যঈফ বলেছেন। তারা মনে করেন, 'আমর তার দাদার লিখিত সহীফা (সংকলিত হাদীসগ্রন্থ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। মনে হয় তারা একথাই বলতে চান যে, আমর ইবনু শুআইব তার দাদার নিকট হতে এসব হাদীস শুনেননি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, আমাদের মতে আমর ইবনু শু'আইবের হাদীসটি দুর্বল। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম মসজিদে কেনা-বেচা করা মাকরূহ বলেছেন। আহমাদ ও ইসহাক একইরকম মত পোষণ করেছেন। তাবিঈদের একদল বিদ্বান এ ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি হাদীস হতে মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করার অনুমতির কথা জানা যায়।
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খুদরা গোত্রের এক ব্যক্তি এবং আমর ইবনু আওফ গোত্রের এক ব্যক্তি তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত মাসজিদ কোনটি-তা নিয়ে সন্দেহে পতিত হল। খুদরা গোত্রের লোকটি বলল, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাসজিদ (মাদীনার মাসজিদ)। অপর ব্যক্তি বলল, এটা কুবার মাসজিদ। বিষয়টি নিয়ে তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আসল। তিনি বললেনঃ এটা এই মাসজিদ অর্থাৎ মসজিদে নাববী। এ মসজিদে অফুরন্ত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। —সহীহ। মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাদিসের রাবী ওনাইস ইবনু আবী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদকে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, তার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। তার ভাই উনাইস ইবনু আবী ইয়াহইয়া তার চাইতে অধিক সুদৃঢ়।
। উসাইদ ইবনু যুহাইর আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা ছিলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কুবার মসজিদে নামায আদায় করলে উমরা করার সমান নেকী পাওয়া যায়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৪১১)। এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উসাইদ-এর হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুল হামীদ ইবনু জাফর হতে আবু উসামা বর্ণিত এ হাদীসটি ব্যতীত উসাইদের আর কোন সহীহ হাদীস আমাদের জানা নেই। রাবী আবুল আবরাদের নাম যিয়াদ মাদীনী।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার এই মসজিদে এক রাক'আত নামায আদায় করা অন্য মসজিদে এক হাজার রাকাআত নামায আদায় করা হতেও উত্তম, কিন্তু মাসজিদুল হারাম ব্যতীত। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৪০৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসের রাবী কুতাইবা তার সনদে উবাইদুল্লাহ'র উল্লেখ করেননি। বরং তার সনদ যাইদ ইবনু রাবাহ, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-আগার তিনি আবু হুরাইরাহ হতে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আবু হুরাইরার নিকট হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আবু আব্দুল্লাহ আল-আগারের নাম সালমান। এ অনুচ্ছেদে আলী, মাইমূনা, আবু সাঈদ, জুবাইর ইবনু মুতাইম, আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর, ইবনু উমার ও আবু যার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি মাসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (সাওয়াবের আশায়) সফর করা যায় না। এ মাসজিদগুলো হল, মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৪০৯), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের জামাআত শুরু হয়ে গেলে তোমরা দৌড়ে বা তাড়াহুড়া করে এসো না, বরং ধীরেসুস্থে হেঁটে এসো। জামাআতে যতটুকু পাও আদায় করে নাও, যতটুকু ছুটে যায় তা সালামের পরে পুরা কর। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭৭৫), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু কাতাদা, উবাই ইবনু কাব, আবু সাঈদ, যাইদ ইবনু সাবিত, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ‘ঈসা বলেনঃ মসজিদে হেঁটে আসা সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। এক দলের মতে, তাকবীরে উলা (তাকবীরে তাহরীমা) ছুটে যাওয়ার আশংকা হলে তাড়াতাড়ি আসবে। তাদের কারো কারো সম্পর্কে এ পর্যন্তও বর্ণিত আছে, তারা দৌড়ে এসে নামায ধরতেন। অপর দল দৌড়ে আসাকে মাকরুহ বলেছেন। তারা ধীরেসুস্থে, শান্তভাবে আসাই পছন্দ করেছেন। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক এই মতের প্রবক্তা। তারা উভয়ে বলেছেন, এ ব্যাপারে আবু হুরাইরার হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। ইসহাক বলেছেন, তাকবীরে উলা ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে দ্রুত হেঁটে এসে জামাআত ধরাতে কোন অপরাধ নেই।
হাদিস 328 — Jami At Tirmidhi 2:180
সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِمَعْنَاهُ . هَكَذَا قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ .
। আল-হাসান ইবনু আলী বর্ণনা করেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক হতে, তিনি মামার হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ওয়াসাল্লাম হতে, আবু সালামার সূত্রে বর্ণিত আবু হুরাইরার মতোই হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি ইয়াযিদ ইবনু যুরাই-এর হাদীসের চেয়ে অধিক সহীহ।