حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। ইবনু আবী উমার বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে তিনি আবু হুরাইরা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যে পর্যন্ত মসজিদে নামাযের প্রতীক্ষায় থাকে, সে যেন নামাযের মধ্যেই থাকে, আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ মসজিদে থাকে ফেরেশতারা সে পর্যন্ত তার জন্য দু’আ করতে থাকে“আল্লাহুম্মাগফিরহু আল্লাহুম্মারহামহু।” হাদাস (ওযু ছুটে) না যাওয়া পর্যন্ত তার জন্য এ দু’আ চলতে থাকে। হাযরামাওতের এক ব্যক্তি বলল, হে আবু হুরাইরা! হাদাস কাকে বলে? তিনি বললেন, নিঃশব্দে বা স্বশব্দে বায়ু বের হওয়া। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭৯৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু সাঈদ, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা’র হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 331 — Jami At Tirmidhi 2:183
হাসান Sahihহাসান Sahihহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ سُلَيْمٍ وَعَائِشَةَ وَمَيْمُونَةَ وَأُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الأَسَدِ وَلَمْ تَسْمَعْ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهِ يَقُولُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَدْ ثَبَتَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةُ عَلَى الْخُمْرَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْخُمْرَةُ هُوَ حَصِيرٌ قَصِيرٌ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাইয়ের উপর নামায আদায় করতেন। -হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ, বুখারী। এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীবা, ইবনু উমার, উম্মু সালামা, ‘আয়িশাহ, মাইমূনা ও উম্মু কুলসূম বিনতু আবু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। উম্মু কুলসুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উম্মু-সালামাহ হতে হাদীস শুনেননি। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু আলিম এ হাদীসের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, চাটাইয়ের উপর নামায আদায় করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই প্রমাণিত। আবু ঈসা বলেনঃ খুমরা অর্থ ছোট চাটাই অথবা মাদুর।
। আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদুরের উপর নামায আদায় করেছেন। -সহীহ।- ইবনু মাজাহ– (১০২৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস ও মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু সাঈদের হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। অত্যন্ত অল্প সংখ্যক বিদ্বান মাটিতে নামায আদায় করা মুস্তাহাব মনে করেছেন। রাবী আবু সুফইয়ানের নাম তালহা ইবনু নাফি।
। আবু তাইয়াহ আয-যুবাঈ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কপট লোকাচার বাদ দিয়ে) স্বাভাবিকভাবে আমাদের সাথে মিলেমিশে থাকতেন। এমনকি তিনি আমার ছোট ভাইকে বলতেনঃ হে আবু উমাইর! কোথা তোমার নুগায়ির (লাল পাখি)। রাবী বলেন, আমাদের বিছানা পানি দিয়ে ধুয়ে দেয়া হল, তিনি তার উপর নামায আদায় করলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৭২০, ৩৭৪০), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাদের উত্তরসুরিগণ বিছানা ও কার্পেটের উপর নামায আদায় করা দোষণীয় মনে করেন না। আহমাদ এবং ইসহাকও এ কথা বলেছেন। আবু তাইয়্যাহ'র নাম ইয়াযিদ ইবনু হুমাইদ।
। মূসা ইবনু তালহা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে। তিনি (তালহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নিজের সামনে হাওদার খুঁটির মত কিছু রেখে দেয়, তারপর তার দিকে নামায আদায় করে তখন খুঁটির বাইরে দিয়ে কেউ চলাচল করলে কোন ভয় নেই। -হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৪০)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, সাহল ইবনু আবু হাসমা, ইবনু উমার, সাবরা ইবনু মাবাদ, আবু জুহাইফা ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ তালহার হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, ইমামের সুতরাই (অন্তরাল) মুক্তাদীদের জন্য যথেষ্ট।
। বুসর ইবনু সাঈদ হতে বর্ণিত আছে, যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রঃ) আবু জুহাইমের নিকট লোক পাঠালেন। উদ্দেশ্য ছিল, নামায়ীর সামনে দিয়ে যাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনি যা শুনেছেন তা জিজ্ঞেস করা। আবু জুহাইম (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামায়ীর সামনে দিয়ে চলাচলকারী যদি জানত তার কত বড় গুনাহ হয়, তবে সে নামায়ীর সামনে দিয়ে চলাচল করা অপেক্ষা চল্লিশ পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকা নিজের জন্যে ভাল মনে করত। আবু নাযর বলেন, তিনি (আবৃ জুহাইম) কি চল্লিশ দিনের না চল্লিশ মাসের না চল্লিশ বছরের কথা বলেছেন তা আমার মনে নেই। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৪৫), বুখারী ও মুসলিম আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ আল-খুদরী, আবু হুরাইরা, ইবনু উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদিস বর্ণিত আছে- رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لأَنْ يَقِفَ أَحَدُكُمْ مِائَةَ عَامٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَىْ أَخِيهِ وَهُوَ يُصَلِّي নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আরো বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেনঃ “তোমাদের কোন ব্যক্তির জন্য তার নামাযরত ভাইয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে একশত বছর অপেক্ষা করা বেশি কল্যাণকর” বিদ্বানগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া মাকরূহ। তবে কেউ গেলে তাতে নামায়ীর নামায নষ্ট হবে বলে তারা মনে করেন না। আবু নাযুরের নাম সালিম। তিনি উমর ইবনু উবাইদুল্লাহ আল-মাদীনীর আযাদকৃত গোলাম।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি একটি গাধীর পিঠে ফযলের পিছনে সাওয়ার ছিলাম। আমরা মিনায় পৌছলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের নিয়ে নামাযরত অবস্থায় ছিলেন। আমরা গাধার পিঠ হতে নেমে (নামাযের) কাতারে শামিল হয়ে গেলাম। গাধীটা কাতারের সামনে দিয়ে চলে গেল। কিন্তু তাতে তাদের নামায নষ্ট হয়নি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৪৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, ফযল ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবা ও তাদের পরবর্তীদের মতে, কোন জিনিস নামায নষ্ট করতে পারে না। সুফিয়ান সাওরী এবং শাফিঈও একথা বলেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবু যার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি নামায আদায় করে তখন তার সামনে হাওদার পিছনের কাঠের মত কিছু (অন্তরাল) না থাকলে কালো কুকুর, গাধা ও স্ত্রীলোক তার নামায নষ্ট করে দিবে। আমি আবু যার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, কালো কুকুর এমন কি অপরাধ করল, অথচ লাল অথবা সাদা কুকুরও তো রয়েছে? তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমিও তোমার মত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেনঃ কালো কুকুর শাইতান সমতুল্য। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৫২), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ, হাকাম আল-গিফারী, আবু হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু যার-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু সংখ্যক বিদ্বান এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, গাধা, স্ত্রীলোক ও কালো কুকুর নামায়ীর সামনে দিয়ে গেলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। ইমাম আহমাদ বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই যে, কালো কুকুর নামায নষ্ট করে দেয়; কিন্তু গাধা এবং স্ত্রীলোকের ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। ইমাম ইসহাক বলেন, কালো কুকুর নামায নষ্ট করে দেয়। এ ছাড়া আর কোন কিছু নামায নষ্ট করতে পারে না।