। উমার ইবনু আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর ঘরে এক কাপড়ে নামায আদায় করতে দেখেছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৪৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, জাবির, সালামা ইবনু আকওয়া, আনাস, আমর ইবনু আবু উসাইদ, আবু সাঈদ, কাইসান, ইবনু আব্বাস, আইয়িশাহ, উম্মু হানী, আম্মার ইবনু ইয়াসির, তলক ইবনু আলী ও উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উমার ইবনু আবী সালামার হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ সাহাবা ও তাবিঈন এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, একই কাপড়ে নামায আদায় করা হলে তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিছু অলিম বলেছেন, দুই কাপড়ে নামায আদায় করা উচিত।
। বারআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পর হতে ষোল অথবা সতের মাস বাইতুল মুকাদ্দাসকে কিবলা করে নামায আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আন্তরিক বাসনা ছিল কাবার দিকে ফিরে নামায আদায় করা। তারপর মহান আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “তোমার বারবার আকাশের দিকে মুখ করে তাকানোকে আমরা দেখতে পাচ্ছি। তোমার আকাংখিত কিবলার দিকে আমরা তোমার মুখ ফিরিয়ে দিচ্ছি। এখন হতে মসজিদে হারামের দিকে তোমার মুখ ফিরাও" (সূরাঃ আল-বাকারা- ১৪৪)। তিনি কা'বার দিকে মুখ ফিরালেন, আর তিনি এটাই চাচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি তার সাথে আসরের নামায আদায়ের পর আনসার সম্প্রদায়ের একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন বাইতুল মুকাদ্দাসকে সামনে রেখে আসরের নামাযের রুকূর মধ্যে ছিলেন। লোকটি সাক্ষ্য দিয়ে বললেন যে, তিনি এই মাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কাবার দিকে মুখ করে নামায আদায় করে এসেছেন। রাবী বলেন, তারা রুকূর অবস্থাই ঘুরে গেলেন। —সহীহ। সিফাতুস সালাত— (৫৬), ইরওয়া- (২৯০), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস, উমারা ইবনু আওস, আমর ইবনু আওফ ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তারা তখন ফযরের নামাযের রুকূতে ছিলেন। —সহীহ। সিফাতুস সালাত- (৫৭), ইরওয়া— (২৯০), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 342 — Jami At Tirmidhi 2:194
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَعْشَرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ " .
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দিকে কিবলা অবস্থিত। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০১১)।
ইয়াহইয়া ইবনু মূসা তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবী মা’শার হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন বিশেষজ্ঞ আবু মা'শারের স্মরণশক্তি সম্পর্কে ওজর তুলেছেন। আবু মা'শারের নাম নাজীহ। মুহাম্মাদ বলেন, আমি তার নিকট হতে কিছু বর্ণনা করি না, অন্য লোকেরা তার নিকট হতে বর্ণনা করে থাকে। মুহাম্মাদ বলেন, আবু মা’শারের বর্ণনার চেয়ে আবদুল্লাহ ইবনু জাফরের বর্ণনাটি বেশি শক্তিশালী এবং সহীহ।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে কিবলা অবস্থিত। —সহীহ। দেখুন পূর্বোক্ত হাদীস। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর মাখরামী এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মিসওয়ার ইবনু মাখরামার সন্তান। এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা বর্ণনা করেছেন। উমার ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনু আবু তালিব ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ "যখন তুমি পশ্চিমকে ডান দিকে এবং পূর্বকে বাম দিকে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাড়াও তখন এই উভয় দিকের মধ্যবর্তী দিকই কিবলার দিক ৷” ইবনুল মুবারাক বলেন, পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দিকগুলো প্রাচ্যবাসীদের কিবলা। তিনি মরুবাসীদের জন্য বাঁ দিক কিবলা নির্দিষ্ট করেছেন।
‘আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রবী'আ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আমির) বলেন, আমরা এক অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম। কিবলা যে কোন দিকে তা আমরা ঠিক করতে পারলাম না। আমাদের প্রত্যেকে যার যার সামনের দিকে ফিরে নামায আদায় করল। সকাল বেলা আমরা এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম। এ প্রসংগে এই আয়াত অবতীর্ণ হল- “পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহ তা'আলার। যে দিকে তুমি মুখ ফিরাবে, সেদিকেই আল্লাহ তা'আলার চেহারা বিরাজমান"- (সূরাঃ আল-বাকারা-১১৫)। —হাসান। ইবনু মাজাহ– (১০২০)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ খুব একটা শক্তিশালী নয়। এ হাদীসের রাবী আশ'আস ইবনু সাঈদ একজন দুর্বল রাবী। আমরা শুধু তার মাধ্যমেই হাদীসটি জেনেছি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মেঘের কারণে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে নামায আদায় করা হল, তারপর নামায শেষে জানা গেল যে, কিবলার দিক ব্যতীত অন্য দিকে ফিরে নামায আদায় করা হয়েছে, এ অবস্থায় নামায নির্ভুল হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এ মতের সমর্থক।
। আলী ইবনু হুজ্বর স্বীয় সনদে ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে উপরের হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ অনুচ্ছেদে আবূ মারসাদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমারের হাদীসের সনদ খুব একটা শক্তিশালী নয়। যাইদ ইবনু জাবীরার স্মরণশক্তির সমালোচনা করা হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ যাইদ ইবনু জুবাইর আল-কুফী যাইদ ইবনু জাবীরার তুলনায় অধিক বিশ্বস্ত ও অধিক বয়স্ক। আর তিনি ইবনু উমার হতে হাদীস শুনেছেন। লাইস ইবনু সা’দ-আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল-উমারীর সনদ পরম্পরায় ইবনু উমারের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দাউদের হাদিস নাফি' হতে তিনি ইব্বনু উমার হতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাটি লাইসের বর্ণনার চেয়ে অধিক সহীহ। কিছু হাদীস বিশারদ আল-উমারীর স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, তার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল। সমালোচকদের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান অন্যতম।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ছাগলের ঘরে নামায আদায় করতে পার কিন্তু উটশালায় নামায আদায় করবে না। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭৬৮)।