। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ...... উপরের হাদীসের অনুরূপ। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু সামুরা, বারাআ, সাবরা ইবনু মাবাদ, আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল, ইবনু উমার ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আমাদের সঙ্গীরা এই হাদীস অনুসারে আমল করেন। আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেন। আবু হুরাইরা হতে আবু সালিহ'র সূত্রে আবু হাসীন কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি ইসরাঈল আবু হাসীন হতে তিনি আবৃ সালিহ হতে তিনি আবু হুরাইরা হতে মাওকুফরুপে বর্ণনা করেছেন। আবু হাসীনের নাম উসমান ইবনু আসিম।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীশালায় নামায আদায় করতেন। —সহীহ। বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন এক কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখি, তিনি তার সাওয়ারীর উপর পূর্ব দিকে ফিরে নামায আদায় করছেন এবং সিজদাতে রুকু অপেক্ষা বেশি নীচু হচ্ছেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১১২), বুখারী ও মুসলিম সিজদার কথা উল্লেখ না করে; বুখারী, কাজে পাঠানো শব্দ ব্যতীত। এ অনুচ্ছেদে আনাস, ইবনু উমার, আবু সাঈদ ও আমির ইবনু রাবী'আহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবিরের হাদীসটি হাসান সহীহ। উল্লেখিত হাদীসটি জাবিরের নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সব বিশেষজ্ঞ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। আমরা তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনরূপ অমিল খুঁজে পাইনি। জন্তুযান যানবাহন যেদিকে মুখ করে থাকে আরোহী সেদিকে ফিরেই নফল নামায আদায় করতে পারে, এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, চাই জন্তুযান যানবাহন কিবলার দিকে হোক বা অন্য দিকে।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উট অথবা বাহনের দিকে (বাহন সামনে রেখে) নামায আদয় করেছেন। জন্তুযান যানবাহন তাকে নিয়ে যেদিকে চলত তিনি সেদিকে ফিরেই (ফরয ছাড়া অন্যান্য) নামায আদায় করতেন। —সহীহ। সিফাতুস সালাত- (৫৫), সহীহ আবু দাউদ- (৬৯১, ১১০৯), বুখারী ও মুসলিম, বিচ্ছিন্নভাবে। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, উটকে অন্তরাল বানিয়ে (নামায়ীর সামনে রেখে) নামায আদায় করতে কোন অপরাধ নেই।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন রাতের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং নামাযের ইকামাতও দেওয়া হয় তখন আগে খাবার খেয়ে নাও। --সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৩৩), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, ইবনু উমার, সালামা ইবনুল আকওয়া ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা যেমন, আবু বাকর, উমার ও ইবনু উমার (রাঃ) এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন। তারা উভয়ে বলেছেনঃ যদি নামাযের জামাআতও হারাবার আশংকা থাকে তবুও আগে খাবার খেয়ে নিবে। ওয়াকী (রহঃ) এ হাদীসের ব্যাপারে বলেছেন, যদি খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তবে প্রথমে খেয়ে নিবে। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবা উল্লেখিত হাদীসের এই মর্ম গ্রহণ করেছেন যে, মন যদি কোন জিনিস নিয়ে চিন্তিত থাকে তবে তখন নামায আদায় করবে না। এই মতের অনুসরণ করাই উত্তম। খাবারের ব্যাপারটাও একই রকম, সুতরাং আহারই আগে খেয়ে নিবে। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, “মনের কোন চিন্তা বা ব্যস্ততা থাকলে আমরা নামাযে দাড়াই না।”
। ইবনু উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ “যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয় এবং নামাযেরও ইকামাত দেওয়া হয় তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও।” –সহীহ। বুখারী ও মুসলিম। ইমামের কিরাআতের শব্দ শুনার পরও ইবনু উমার (রাঃ) “প্রথমে খাবার খেয়ে নিতেন"। তিরমিয়ী বলেনঃ আমাদের ইহাইহা বর্ণনা করেছেন হান্নাদ, তিনি আব্দাহ হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি নাফি হতে, তিনি ইবনু উমার হতে।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযরত অবস্থায় তোমাদের কারো ঘুম আসলে সে যেন প্রথমে ঘুমিয়ে নেয়। তাতে তার ঘুমের আবেশ কেটে যাবে। কেননা সে যদি তন্দ্রা অবস্থায় নামায আদায় করে তবে এরূপ হওয়া মোটেই অসম্ভব নয় যে, সে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৭০), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু আতীয়া (রহঃ) হতে,বর্ণিত আছে, তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বলল, মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) আমাদের নামাযের জায়গায় (মসজিদে) এসে আমাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতেন। একদিন নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেল। আমরা তাকে বললাম, সামনে যান (ইমামতি করুন)। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ সামনে যাক। আমি সামনে না যাওয়ার কারণ তোমাদের বলব। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি কোন কাওমের সাথে দেখা করতে গিয়ে সে যেন তাদের ইমামতি না করে, বরং তাদের মধ্যেরই কেউ যেন ইমামতি করে। - সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৬০৯), মালিকের ঘটনা উল্লেখ ব্যতীত। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবা ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, ইমামতি করার ব্যাপারে বাড়িওয়ালাই সাক্ষাতপ্রার্থীর চেয়ে বেশি হকদার। কিছু মনীষী বলেছেন, বাড়ির মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে মেহমানের ইমাম হওয়াতে কোন অপরাধ নেই। ইমাম ইসহাক কঠোরতার সাথে বলেছেন, বাড়িওয়ালা অনুমতি দিলেও মেহমানের ইমামতি করা উচিত নয়। ঠিক তেমনিভাবে মসজিদেও ইমামতি করবে না, বরং তাদেরই কেউ ইমামতি করবে।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তির পক্ষেই তার ঘরের মধ্যে তাকানো জায়িয নয়। যদি সে তাকায়, তবে সে যেন বিনা অনুমতিতেই তার ঘরে ঢুকলো। কোন ব্যক্তির পক্ষেই এটা শোভনীয় নয় যে, সে লোকদের ইমামতি করে এবং তাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু নিজের জন্য দু'আ করে। যদি সে এমনটি করে তবে সে যেন শঠতা (বিশ্বাসভঙ্গ) করল। প্রাকৃতিক প্রয়োজনের বেগ নিয়েও কেউ যেন নামাযে না দাড়ায়। -প্রাকৃতিক প্রয়োজনের বেগ নিয়ে কেউ যেন নামাযে না দাড়ায়। হাদীসের এই অংশটুকু বাদে হাদীসটি যঈফ। যঈফ আবু দাউদ (১১-১২)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা ও আবু উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ সাওবানের হাদীসটি হাসান। উল্লেখিত হাদীসটি আলাদা আলাদাভাবে আবু উমামা ও আবু হুরাইরা (রাঃ)-ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তবে সাওবানের বর্ণনাসূত্রটি খুব বেশি মজবুত এবং বিখ্যাত।
। হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন। তারা হলঃ যে ব্যক্তি মুক্তাদীদের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে; যে নারী স্বামীর বিরাগ নিয়ে রাত কাটায় এবং যে ব্যক্তি "হাইয়্যা আলাল ফালাহ' শুনেও তাতে সাড়া দেয় না (জামা'আতে উপস্থিত হয় না)। সনদ খুবই দুর্বল এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, তালহা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি সহীহ নয়। কেননা এটি হাসানের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে মুরসাল হিসাবেও বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া ইমাম আহমাদ এ হাদীসের অধঃস্তন রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিমের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, তিনি হাদীসশাস্ত্রে যঈফ এবং তার স্মরণশক্তি মোটেই ধারালো নয়। একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লোকেরা যদি ইমামকে খারাপ জানে তবে তাদের ইমামতি করা তার জন্য মাকরূহ। কিন্তু ইমাম যদি যালিম না হয় তবে যারা তাকে খারাপ জানে তারা গুনাহগার হবে। এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, যদি এক, দুই অথবা তিনজন লোক তাকে খারাপ জানে তবে তার ইমামতি করাতে কোন অপরাধ নেই। হ্যাঁ যদি বেশীরভাগ মুক্তাদী তাকে খারাপ জানে তবে তাদের ইমামতি করা তার জন্য শ্রেয় হবে না।