। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুবাবাসীদের সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) “তথায় এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে আল্লাহ তা’আলা ভালোবাসেন”- (সূরা আত-তওবা্ঃ ১০৮)। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এসব লোক পানি দিয়ে ইস্তিনজা করত। তাই তাদের ব্যাপারে উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৫৭) আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে হাদীসটি গারীব। আবূ আইয়ুব, আনাস ইবনু মালিক ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে তার (মৃত) মুশরিক পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনলাম। আমি তাকে বললাম, তোমার মৃত পিতা-মাতার জন্য কি তুমি ক্ষমা প্রার্থনার দুআ করছ, অথচ তারা ছিল মুশরিক? সে বলল, ইবরাহীম (আঃ) কি তার বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি, অথচ তার বাবা ছিল মুশরিক? আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “নবী ও ঈমানদার লোকদের পক্ষে শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনই হােক না কেন....."— (সূরা আত-তওবা ১১৩)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৫২৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতগুলো যুদ্ধ করেছেন, একমাত্র বদরের যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধেই আমি অনুপস্থিত ছিলাম না। এভাবে তাবুকের যুদ্ধ সমুপস্থিত হয়। যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাউকে কোনরূপ ভর্ৎসনা করেননি। কারণ তিনি বের হয়েছিলেন কাফিলা অবরোধের উদ্দেশেই। ওদিকে কুরাইশরাও তাদের কাফিলার সাহায্যার্থে বের হয়েছিল। প্রতিশ্রুত স্থান ব্যতীত উভয় পক্ষ পরস্পর মুকবিলায় অবতীর্ণ হয়, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন। আমার জীবনের শপথ মানুষদের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতির সর্বোৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বদরই কিন্তু আমি আক্বাবার রাতে আমার বাই’আতের উপর মর্যাদা দিয়ে তাতে (বদরে) অংশগ্রহণ করাকে পছন্দ করিনি। কারণ সেই লাইলাতুল আকাবাতেই আমি বাই’আত করেছি এবং আমরা এখানেই ইসলামের উপর সুদৃঢ় হয়ে গিয়েছি। তারপর আমি কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন অভিযান হতে পেছনে ছিলাম না। এভাবে তাবুকের যুদ্ধের পালা আসে। আর তাবুক যুদ্ধই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ। যোদ্ধাদের যাত্রা শুরুর জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন। তারপর বর্ণনাকারী দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন মসজিদে বসা ছিলেন। তার আশেপাশে মুসলিমগণ সমবেত ছিল। তার মুখমণ্ডল চাঁদের ন্যায় চমকাচ্ছিল। তিনি কোন বিষয়ে আনন্দিত হলে তার চেহারা মুবারাক দীপ্তিমান হয়ে উঠত। আমি উপস্থিত হয়ে তার সামনে বসে পড়লাম। তিনি বললেনঃ “হে কাব ইবনু মালিক! তোমার মা তোমাকে প্রসব করার পর হতে যতগুলো দিন তোমার নিকট এসেছে তার মধ্যে একটি সর্বোৎকৃষ্ট দিনের সুসংবাদ তোমার জন্য। আমি বললাম, “হে আল্লাহর নবী। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে না আপনার পক্ষ হতে? তিনি বললেনঃ বরং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে। তারপর তিনি এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেনঃ (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা বড় দুঃসময়ে তার অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের মধ্যকার এক দলের হৃদয়-বক্র হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাদের মাফ করলেন। তিনি তো তাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পিছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দুৰ্বিসহ হয়ে উঠল, তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই, অতঃপর তিনি তাদের প্রতি সদয় হলেন যাতে তারা ফিরে আসে। অবশ্যই আল্লাহ তওবা কুবুলকারী দয়াময়।" (সূরা আত-তওবা ১১৭-১১৮)। বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতগুলোও আমাদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) “হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও”— (সূরা আত-তওবা ১১৯)। কাব (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার তাওবার মধ্যে এও অন্তর্ভুক্ত যে, আমি সর্বদা সত্য কথাই বলব এবং আমি আমার সমস্ত মাল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশে দান করে দিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কিছু মাল তোমার নিজের জন্য রাখ। এটাই তোমার জন্য ভালো। আমি বললাম, আমি আমার নিজের জন্য খাইবারের অংশটুকু রেখে দিচ্ছি। কাব (রাযিঃ) বলেন, ইসলাম কুবুল করার পর হতে আল্লাহ তা'আলা আমাকে যত নি’আমাতে ধন্য করেছেন আমার মতে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নি’আমাত হচ্ছে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আমার ও আমার সঙ্গীদ্বয়ের সত্য কথা বলা এবং আমাদের মিথ্যাবাদী না হওয়া। অন্যথায় তারা যেভাৰে ধ্বংস হয়েছে আমরাও তদ্রুপ ধ্বংস হতাম। আমি আশা করি সত্য বলার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা যেন আমার ন্যায় এতো বড় পরীক্ষায় আর কাউকে না ফেলেন। আমি আর কখনো মিথ্যা বলিনি। আমি আরো আশা করি অবশিষ্ট দিনগুলোও যেন আল্লাহ তা'আলা আমাকে হিফাযাত করেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৯১২), বুখারী (৪৬৭৬), মুসলিম। এ হাদীস উপরোক্ত সনদের বিপরীত সনদে যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। কথিত আছে যে, সনদটি 'আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কা'ব ইবনু মালিক-তার চাচা উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি কাব (রাযিঃ) হতে। আবার কেউ কেউ এ ব্যতীত অন্য সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। অনন্তর এ হাদীস যুহরী হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কাব ইবনু মালিক হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের শাহাদাতের যমানায় আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমাকে ডেকে পাঠান। আমি গিয়ে দেখলাম, 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও তার নিকট উপস্থিত। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, "উমার আমার নিকট এসে বললেন, অসংখ্য কুরআনের কারী (হাফিয) ইয়ামামার যুদ্ধের দিন শহীদ হয়েছেন। আমার আশংকা হচ্ছে, সর্বত্র এভাবে কারীগণ শহীদ হয়ে গেলে কুরআনের অনেক অংশই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। আবূ বাকর (রাযিঃ) উমার (রাযিঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যে কাজ করে যাননি আমি কিভাবে তা করতে পারি? উমর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা খুবই ভালো কাজ। তিনি আমার নিকট বারবার তার কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। অবশেষে সেই কাজের জন্য আল্লাহ তা'আলা আমার বক্ষও উন্মুক্ত করে দিলেন, যার জন্য তিনি (আগেই) উমারের বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমিও উক্ত কাজে সেই কল্যাণ লক্ষ্য করলাম যা তিনি (আমার আগেই) লক্ষ্য করেছিলেন। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বলেন, আবূ বকর (রাযিঃ) বললেন, তুমি একজন জ্ঞানবান যুবক। আমি তোমাকে কোন বিষয়ে দোষারোপ করিনি। আর তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কুরআন লিপিবদ্ধ করতে। অতএব তুমি কুরআনের (বিভিন্ন অংশ) সন্ধানে লেগে যাও। যাইদ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ। তারা যদি আমাকে পর্বতমালার মধ্য হতে কোন পাহাড় স্থানান্তরের কষ্টে নিক্ষেপ করতেন তবে তাও আমার জন্য এ মহা দায়িত্বের তুলনায় এত বেশী ভারবহ হত না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যে কাজ করেননি আপনারা তা কিভাবে করতে পারেন? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা খুবই ভালো কাজ। আবূ বকর ও উমর (রাযিঃ) উভয়ে ঐ কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আবূ বাকর ও উমারের ন্যায় আমার বক্ষও উন্মুক্ত করে দিলেন। অতএব আমি চামড়ার টুকরাসমূহ, খেজুরপত্র, মসৃণ পাথর ও লোকদের অন্তকরণ হতে খুঁজে খুঁজে সম্পূর্ণ কুরআন একত্র করলাম। সূরা বারাআতের শেষ অংশটুকু আমি খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট পেলাম। তা হল (অনুবাদ) “অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তার জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও অত্যন্ত করুণাসক্ত। এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলঃ আল্লাহ তা'আলাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তার উপরই নির্ভর করি এবং তিনিই মহান আরশের মালিক”— (সূরা আত-তওবা ১২৮, ১২৯)। সহীহ, বুখারী (৪৬৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিতি হলেন। হুযইফা (রাযিঃ) আর্মেনিয়া ও আযারবাইজানের বিজয় অভিযানে ইরাকীদের সঙ্গী হয়ে সিরীয়দের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। তখন হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) তাদের মধ্যে কুরআন নিয়ে মতের অমিল লক্ষ্য করেন। তিনি (ফিরে এসে) উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-কে বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! যেভাবে ইয়াহুদী-নাসারাগণ তাদের কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, সেরূপ এই উম্মাতের লোকদের নিজেদের কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে তাদের খবর নিন। এরপর উসমান (রাযিঃ) এই কথা বলে হাফসাহ (রাযিঃ)-এর নিকট লোক পাঠান যে, আপনার নিকট রক্ষিত কুরআনের সহীফাখানি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা সেটি হতে কপি করার পর তা আপনাকে আবার ফেরত দিব। উন্মুল মুমিনীন হাফসা (রাযিঃ) তার কপি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। উসমান (রাযিঃ) যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ), সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ), 'আবদুর রাহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম (রাযিঃ), 'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) প্রমুখের নিকট উক্ত সহীফাখানি পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, আপনারা এ সহীফাখানি হতে অনেকগুলো কপি করে নিন। তিনি উক্ত কমিটির তিন কুরাইশ সদস্যকে বললেন, কোন ক্ষেত্রে তোমাদের ও যাইদ ইবনু সাবিতের মধ্যে মতের অমিল হলে তা তোমরা কুরাইশের বাকরীতি মতো লিখবে। কেননা কুরআন তাদের বাকরীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। অবশেষে তারা পূর্ণ কুরআনের কয়েকটি কপি করেন। উসমান (রাযিঃ) সেগুলোর এক একটি কপি রাজ্যের এক এক এলাকায় পাঠিয়ে দিলেন। যুহরী (রাহঃ) বলেন, খারিজা ইবনু যাইদ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বলেছেন, আমি সূরা আল-আহযাবের একটি আয়াত পেলাম না, যেটি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিলাওয়াত করতে শুনাতাম। আয়াতটি এই (অনুবাদ) “মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি” (সূরা আল-আহযাব ২৩)। আমি আয়াতটির খোঁজ করছিলাম। অবশেষে তা খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বা আবূ খুযাইমাহ (রাযিঃ)-এর নিকট পেলাম। আমি সূরার যথাস্থানে আয়াতটি স্থাপন করলাম। যুহরী (রাহঃ) বলেন, তারা ঐ দিন তাবুত ও তাবূহ শব্দ নিয়ে মতের অমিল করেন। কুরাইশীরা বলেনঃ তাবত, আর যাইদ (রাযিঃ) বলেন, তাবহ। তাদের মতের অমিলের বিষয়টি উসমান (রাযিঃ)-এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি বললেন, তোমরা তাবত লিখ। কেননা কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। যুহরী (রাহঃ) বলেন, আমাকে উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ খবর দিয়েছেন যে, যাইদ ইবনু সাবিতের কুরআন লিপিবদ্ধ করাকে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন, হে মুসলিমগণ! কুরআন লিপিবদ্ধ করা হতে আমি বরখাস্ত হবো আর তার দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে এমন ব্যক্তি, আল্লাহর শপথ! যে আমার ইসলাম গ্রহণের সময় এক কাফির ব্যক্তির পৃষ্ঠদেশে অন্তৰ্হিত ছিল। এ কথা দ্বারা তিনি যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেনঃ হে ইরাকবাসী! তোমাদের নিকট রক্ষিত কুরআনের লিপিবদ্ধ সংকলন লুকিয়ে রাখ এবং তালাবদ্ধ করে রাখ। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন, (অনুবাদ) “এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু আত্মসাৎ করলে, যা সে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে উপস্থিত হবে”— (সূরা আল-ইমরান ১৬১)। অতএব তোমরা তোমাদের সংকলনগুলোসহ আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হবে। যুহরী (রাহঃ) বলেন, আমি জেনেছি যে, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর এ উক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু প্রবীণ সাহাবী অপছন্দ করেছেন। সহীহঃ বুখারী (৪৯৮৭, ৪৯৮৮) সহীহ মাকতু’। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি যুহরীর রিওয়ায়াত। আমরা এই হাদীস শুধু তার সূত্রেই জেনেছি।
। সুহাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বাণী “যারা উত্তম কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরও বেশি”— (সূরা ইউনুস ২৬) প্রসঙ্গে বলেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর একজন আহবানকারী ডেকে বলবে, আল্লাহ তা'আলার কাছে তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তিনি সেটা পূর্ণ করতে চান। তারা বলবে, আল্লাহ তা'আলা কি আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করেননি এবং আমাদেরকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে দাখিল করেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এমন সময় পর্দা উন্মোচিত হবে (এবং তারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাবে)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভের চাইতে বেশী প্রিয় ও কাঙ্খিত কোন বস্তুই তিনি তাদেরকে দান করেননি। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাম্মাদ ইবনু সালামার হাদীস। একাধিক বর্ণনাকারী এটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) হতে মারফু’ ভাবে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনুল মুগীরাহ এ হাদীস সাবিত আল-বুনানী-হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তার বক্তব্যরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে সুহাইব (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ রকম উল্লেখ নেই।
। আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে জনৈক মিসরবাসীর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূদ দারদা (রাযিঃ)-কে আল্লাহ তা'আলার বাণী “পার্থিব জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ”— (সূরা ইউনুস ৬৪) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার পর হতে আজ পর্যন্ত আর কেউ এ প্রসঙ্গে আমার নিকট জানতে চায়নি। আমিও এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেনঃ এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়া অবধি তুমি ব্যতীত আর কেউ আমাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেনি। এটা (বুশরা) হচ্ছে সত্য স্বপ্ন, যা মুসলিম ব্যক্তি দেখে বা তাকে দেখানো হয়। সহীহঃ মুসলিম। ইবনু আবী উমার-সুফিয়ান হতে, তিনি আব্দুল আযিয ইবনু রুফাই হতে তিনি আবু সালিহ আস সাম্মান হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি মিসরীয় ব্যক্তি হতে, তিনি আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তাতে আতা ইবনু ইয়াসার-এর উল্লেখ নেই। উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ফিরআউনকে যখন পানিতে ডুবিয়ে দিলেন তখন সে বললো, “আমি ঈমান আনলাম বনী ইসরাঈল যার উপর ঈমান এনেছে তার প্রতি। নিশ্চয় তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই”- (সূরা ইউনুস ৯০)। জিবরীল (আঃ) বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি আমাকে ঐ সময় দেখতেন যখন আমি সমুদ্র হতে কালো কাঁদামাটি তুলে তার মুখে ঢালছিলাম যাতে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ তাকে পরিবেষ্টন না করে। সহীহঃ পরবর্তী হাদীসের সহায়তায়। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস 3108 — Jami At Tirmidhi 47:160
সহিহ Isnaadসহিহ Isnaadহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، وَعَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ذَكَرَ أَحَدُهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ " أَنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ يَدُسُّ فِي فِي فِرْعَوْنَ الطِّينَ خَشْيَةَ أَنْ يَقُولَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَيَرْحَمَهُ اللَّهُ أَوْ خَشْيَةَ أَنْ يَرْحَمَهُ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেন যে, জিবরীল (আঃ) এই আশংকায় ফিরআউনের মুখে কাঁদামাটি ঠেসে দিচ্ছিল যে, সে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু” বলবে, ফলে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন। অথবা তিনি বলেছেন “এই আশংকায় যে, আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন"। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, অত্র সূত্রে গারীব।
। আবূ রাযীন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! জীব সৃষ্টি করার আগে আমাদের প্রতিপালক কোথায় ছিলেন? তিনি বলেনঃ তিনি আমা’ (হালকা মেঘমালা)-এর মধ্যে ছিলেন। এর নিচেও বাতাস ছিল না এবং উপরেও বাতাস ছিল না। তিনি পানির উপর তার আরশ তৈরী করেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৭১) আহমাদ (রহঃ) বলেনঃ ইয়াযীদ (রাহঃ) বলেছেন, ‘আমা’ শব্দের অর্থ তার সাথে কিছুই ছিল না। হাম্মাদ ইবনু সালামা ও ওয়াকী ইবনু হুদুস এরকমই বলেন। শুবা, আবূ আওয়ানা ও হুশাইম (রাবীর নামের উচ্চারণ) ওয়াকী ইবনু উদুস বলেছেন। আবূ রাযীন এর নাম লাকীত ইবনু আমির। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।