। আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বারকাতময় আল্লাহ তা'আলা যালিম-অত্যাচারীকে অবকাশ দেন অথবা সুযোগ দেন। অবশেষে তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন আর রেহাই দেন না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন (অনুবাদ): "এরূপই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি। তিনি জনপদসমূহকে শাস্তিদান করেন যখন তারা সীমালঙ্ঘন করে। নিশ্চয় তার শাস্তি মর্মস্তুদ, কঠিন"(সূরা হুদ ১০২)। সহীহঃ বুখারী (৪৬৮৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ উসামাও বুরাইদ হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইউমলী’ শব্দ বলেছেন। ইবরাহীম ইবনু সাঈদ আল-জাওহারী-আবূ উসামাহ হতে, তিনি বুরাইদ ইবনু আবদুল্লাহ হতে, তিনি তার দাদা আবূ বুরদাহ হতে, তিনি আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এতে সন্দেহমুক্তভাবে ইউমলী’ শব্দ উল্লেখ আছে।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য এবং কেউ হবে ভাগ্যবান” (সূরা হদ ১০৫), এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী। তাহলে আমরা কিসের উপর আমল করব, এমন জিনিসের উপর যে প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে অথবা এমন কোন জিনিসের উপর যে প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি? তিনি বললেনঃ হে উমার! না, বরং এমন জিনিসের উপর যা পূর্বেই চূড়ান্ত হয়ে আছে এবং যার সাথে কলম জারী হয়ে গিয়েছে। তবে প্রত্যেকের করণীয় বিষয় সহজসাধ্য করে রাখা হয়েছে, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সহীহঃ আযযিলাল (১৬১, ১৬৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি এ সূত্রে হাসান গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু আবদুল মালিক হতে জেনেছি।
হাদিস 3112 — Jami At Tirmidhi 47:164
হাসান Sahihহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي عَالَجْتُ امْرَأَةً فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَإِنِّي أَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ أَنْ أَمَسَّهَا وَأَنَا هَذَا فَاقْضِ فِيَّ مَا شِئْتَ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَقَدْ سَتَرَكَ اللَّهُ لَوْ سَتَرْتَ عَلَى نَفْسِكَ . فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ فَأَتْبَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَدَعَاهُ فَتَلاَ عَلَيْهِِمِ : ( أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ هَذَا لَهُ خَاصَّةً قَالَ " لاَ بَلْ لِلنَّاسِ كَافَّةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ وَالأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ وَرِوَايَةُ هَؤُلاَءِ أَصَحُّ مِنْ رِوَايَةِ الثَّوْرِيِّ وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَسِمَاكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَعْمَشَ وَقَدْ رَوَى سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি মাদীনার শেষ প্রান্তে এক মহিলাকে স্পর্শ করেছি এবং আমি তার সাথে সহবাস ব্যতীত সবই করেছি। আমি এখন আপনার নিকট এসেছি। আপনি যা ইচ্ছা আমার ব্যাপারে ফাঈসালা করেন। উমার (রাযিঃ) তাকে বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার অপরাধ গোপন রেখেছেন। এখন তুমিও যদি তা গোপন রাখতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো কথায় প্রতিউত্তর করলেন না। লোকটি উঠে চলে যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনেন এবং এই আয়াত পাঠ করে শুনান (অনুবাদ): “তুমি নামায কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। সৎকাজসমূহ অন্যায় কাজসমূহকে দুর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এটা এক উপদেশ"- ' (সূরা হুদ ১১৪)। উপস্থিত লোকদের মধ্যে একজন বলল, এটা কি শুধু তার বেলায় প্রযোজ্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, বরং সকলের জন্য। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৩৯৮), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এভাবেই ইসরাঈল সিমাক হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আলকামাহ ও আসওয়াদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সুফইয়ান সাওরী (রাহঃ) সিমাক হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সাওরীর রিওয়ায়াত অপেক্ষা এদের রিওয়ায়াত অনেক বেশি সহীহ। এটিকে সিমাক ইবনু হারব-ইবরাহীম হতে, তিনি আসওয়াদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে শুবাহও একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া নায়সাবুরী মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি সিমাক হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মাহমূদ ইবনু গাইলান-আল-ফাযল ইবনু মূসা হতে, তিনি রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও একই মর্মে একই রকম বর্ণনা করেছেন। উক্ত বর্ণনায় অবশ্য আ'মাশের উল্লেখ নেই। এ হাদীস সুলাইমান আত-তাইনী (রাহঃ) আবূ উসমান আন-নাহদী হতে, তিনি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি এক বেগানা নারীর সাথে যৌন মিলন ছাড়া আর সবই করেছে, তার প্রসঙ্গে আপনার কি মত? তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তুমি নামায কায়িম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। সৎ কর্মসমূহ অবশ্যই অসৎ কর্মসমূহ দূর করে দেয়। যারা হিদায়াত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটা হিদায়াত" (সূরাঃ হুদ- ১১৪)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ওযু করে এসে নামায আদায়ের হুকুম দেন। মুআয (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই সুযোগ কি শুধু তার জন্যই না সাধারণভাবে সকল মুমিনের জন্য? তিনি বললেনঃ বরং সাধারণভাবে সকল মু'মিনদের জন্য। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদসূত্র মুত্তাসিল (পরস্পর সংযুক্ত) নয়। আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রাহঃ) মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে সরাসরি কিছু শুনেননি। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) উমর (রাঃ)-এর খিলাফাত কালে ইন্তেকাল করেন। উমার (রাঃ) যখন ইন্তেকাল করেন তখন আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা ছয় বছরের বালক। তিনি উমার (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তাকে দেখেছেন। শুবা (রাহঃ) এ হাদীসটি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক এক বেগানা মহিলাকে চুমা দিল, যা তার জন্য হারাম ছিল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এর কাফফারা প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করলো। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “তুমি নামায কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। ন্যায় কাজসমূহ অন্যায় কাজসমূহকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এটা উপদেশ” (সূরা হুদ ১১৪)। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই সুযোগ কি শুধু আমার জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্যও এবং আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি এরূপ কাজ করে বসে তার জন্যও। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূল ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা খেজুর ক্রয়ের জন্য আমার নিকট এলে আমি বললাম, ঘরের ভেতর এর চাইতে আরো ভালো খেজুর আছে। অতএব সে আমার সাথে ঘরে প্রবেশ করে। আমি তার প্রতি আকৃষ্ট হলাম এবং তাকে চুমা দিলাম, অতঃপর আমি আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর নিকট এসে এ ঘটনা তাকে জানালাম। তিনি বললেন, এটা নিজের কাছেই গোপন রাখ, এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা কর এবং আর কউকে বল না। কিন্তু আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারলাম না। তাই আমি 'উমার (রাযিঃ)-এর নিকট এসে বিষয়টি তাকে জানালাম। তিনি বললেন, এটা নিজের নিকটেই গোপন রাখ, আল্লাহ তা'আলার নিকট তওবা কর এবং এটা আর কারো নিকট বল না। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরতে পারলাম না। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তার নিকট বিষয়টি প্রকাশ করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় জিহাদে গমনকারী ব্যাক্তির অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সাথে এই অপকর্ম করেছ? এ কথায় অনুতপ্ত হয়ে আবূল ইয়াসার আক্ষেপ করে বলেন যে, তিনি যদি ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণ না করে এই মুহুর্তে গ্রহণ করতেন। এমনকি তিনি নিজেকে জাহান্নামী বলে ভাবলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘক্ষণ নীরবে দৃষ্টি অবনমিত করে রইলেন। অবশেষে তার প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হলঃ “তুমি নামায কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। সৎকর্মগুলো অসৎকর্মগুলোকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য উপদেশ”— (সূরা হুদ ১১৪)। আবূল ইয়াসার (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলে তিনি আমাকে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করে শুনান। তখন তার সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তার জন্যই নির্দিষ্ট না সাধারণভাবে সকলের জন্য? তিনি বললেনঃ বরং সাধারণভাবে সকলের জন্য। হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। কাইস ইবনুর রাবী'-কে ওয়াকী প্রমুখ হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল বলেছেন। আবূল ইয়াসারের নাম কাব ইবনু আমর। শারীক (রাহঃ) উসমান ইবনু আবদুল্লাহ (রাহঃ) হতে এ হাদীস কাইস ইবনুর রাবী'র মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ উমামা, ওয়াসিলা ইবনুল আসকা ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মর্যাদাবানের পুত্র মর্যাদাবানের পুত্র মর্যাদাবানের পুত্রমর্যাদাবান ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনি ইসহাক ইবনি ইবরাহীম 'আলাইহিহমুস সালাম। তিনি বলেনঃ ইউসুফ (আঃ) যত কাল কারাগারে ছিলেন আমি যদি তত কাল কারাগারে থাকতাম এবং অতঃপর রাজদূত আমার নিকট এসে আহবান জানাতো তাহলে আমি (তার আহবানে) সাড়া দিতাম। তারপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পড়েন (অনুবাদ) “রাজদূত যখন তার নিকট উপস্থিত হল তখন সে বলল, তুমি তোমার মনিবের নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর- যে নারীরা নিজেদের হাত কেটেছিল তাদের অবস্থা কি"- (সূরা ইউসুফ ৫০) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লুত (আঃ)-এর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! তিনি মজবুত দুর্গে আশ্রয় গ্রহণের আকাংখা করতেন। “সে বলল, তোমাদের উপর যদি আমার জোর খাটত অথবা যদি আমি কোন সুদৃঢ় দুর্গে আশ্রয় নিতে পারতাম”— (সূরা হদ ৮০)। তার পরে আল্লাহ ঐ জাতির মর্যাদাবান গোষ্ঠীর মধ্য থেকেই নবীগণকে পাঠিয়েছেন। যিরওয়াহ শব্দের পরিবর্তে “সারওয়াহ’ শব্দে বর্ণিত হাদীসটি হাসানঃ সহীহাহ (১৬১৭, ১৮৬৭), বুখারী, মুসলিম। আবূ কুরাইব (রাহঃ) আবদাল্লাহ ও আবদুর রহীম হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রাযিঃ) সূত্রে আল-ফাযল ইবনু মূসার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনায় (যিরওয়াতুন-এর স্থলে) সারওয়াতুন শব্দ উল্লেখ আছে (অর্থ অভিন্ন)। মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রাযিঃ) বলেন, “আস-সারওয়াতু" অর্থ প্রচুর, প্রাচুর্য, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা। এটি আল-ফাযল ইবনু মূসার রিওয়ায়াত অপেক্ষা অধিকতর সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আবূল কাসিম! আমাদেরকে রা'দ (মেঘের গর্জন) প্রসঙ্গে বলুন, এটা কি? তিনি বললেনঃ মেঘমালাকে হাকিয়ে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের একজন নিয়োজিত আছে। তার সাথে রয়েছে আগুনের চাবুক। এর সাহায্যে সে মেঘমালাকে সেদিকে পরিচালনা করেন, যেদিকে আল্লাহ তা'আলা চান। তারা বলল, আমরা যে আওয়াজ শুনতে পাই তার তাৎপর্য কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হচ্ছে ফেরেশতার হাকডাক। এভাবে হাকডাক দিয়ে সে মেঘমালাকে তার নির্দেশিত স্থানে নিয়ে যায়। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন। তারা আবার বলল, আপনি আমাদের বলুন, ইসরাঈল ইয়াকুব (আঃ) কোন জিনিস নিজের জন্য হারাম করেছিলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তিনি ইরকুন নিসা (স্যায়াটিকা) রোগে আক্রান্ত ছিলেন কিন্তু উটের গোশত ও এর দুধ ছাড়া তার উপযোগী খাদ্য ছিল না। তাই তিনি তা হারাম করে নিয়েছিলেন। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১৮৭২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বাণী “এদের কতককে কতকের উপর আমি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি" (সূরা আর-রাদ ৪) প্রসঙ্গে বলেন; যেমন নিকৃষ্ট খেজুর ও উত্তম খেজুরে এবং মিষ্টি ও টকের মধ্যে পার্থক্য। হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। যাইদ ইবনু আবী উনাঈসাহ (রাহঃ) আল-আমাশের সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। সাইফ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) আম্মার ইবনু মুহাম্মাদের ভাই। তার তুলনায় আম্মার অধিক শক্তিশালী বর্ণনাকারী। ইনি সুফইয়ান সাওরীর বোনপুত্র।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে টাটকা খেজুরের ছড়া বিতরণ করা হলে তিনি বলেনঃ “সৎ বাক্যের তুলনা তা একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায় যার শিকড় সুদৃঢ় এবং যার শাখা প্রশাখা উদ্ধে উখিত। যে বৃক্ষ স্বীয় রবের আদেশে প্রত্যেক মওসুমে তার ফলদান করে। (সূরাঃ ইবরাহীম- ২৪, ২৫)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা হল খেজুর গাছ। “আর নাপাক বাক্যের দৃষ্টান্ত হল একটি মন্দ বৃক্ষ, যার মূল ভূপৃষ্ঠ হতে আলাদা, যার কোন স্থায়িত্ব নেই" (সূরাঃ ইবরাহীম২৬)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা হল (তিক্ত) মাকাল ফলের গাছ। রাবী বলেন, আমি এ প্রসঙ্গে আবূল আলিয়াকে জানালে তিনি বলেন, (তোমার উস্তাদ) সত্য বলেছেন এবং যথার্থ বলেছেন। মারফু বর্ণনাটি দুর্বল কুতাইবা-আবূ বাকর ইবনু শুআইব হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে উক্ত মর্মে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটি মারফুরূপে বর্ণনা করেননি এবং তিনি আবূল আলিয়ার বক্তব্যও উল্লেখ করেননি। হাম্মাদ ইবনু সালামার হাদীসের তুলনায় এটি অনেক বেশি সহীহ। একাধিক রাবী একই রকম মাওকুফ (আনাসের কথা) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা ছাড়া আর কেউ এটি মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মামার, হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রাহঃ) প্রমুখ এটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাদের কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এর সনদ পৌছাননি। মাওকুফ বর্ণনার সনদ সহীহ আহমাদ ইবনু আবদা (রাহঃ) হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে তিনি শুআইব ইবনুল হাবহাব হতে তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে কুতাইবার হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন এবং তিনিও মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। মাওকুফ বর্ণনাটি সহীহ