। মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন (অনুবাদ) “যে দিন পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে..."— (সূরা ইবরাহীম ৪৮)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে সময় মানুষ কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পুলসিরাতের উপর। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি অন্য সূত্রেও আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক পরমা সুন্দরী মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে (মহিলাদের কাতারে) নামায আদায় করত। কিছু লোক প্রথম কাতারে এগিয়ে আসত, যাতে উক্ত মহিলা দৃষ্টিগোচর না হয়। আবার কিছু লোক পেছনে সরে গিয়ে (মহিলাদের নিকটবর্তী) পেছনের কাতারে দাঁড়াত এবং রুকূতে গিয়ে বগলের নিচ দিয়ে (উক্ত মহিলার প্রতি) তাকাতো। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তোমাদের মধ্যকার সামনে অগ্রসর হয়ে যাওয়া লোকদেরও আমি জানি এবং পেছনে পিছিয়ে যাওয়া লোকদেরও আমি জানি”— (সূরা আল-হিজর ২৪)। সহীহঃ সহীহাহ (২৪৭২), আস সামার আল-মুসতাতা-ব আবূ ঈসা বলেনঃ জাফর ইবনু সুলাইমানও এ হাদীস আমর ইবনু মালিক হতে, তিনি আবূল জাওযার সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। আর এটি নূহ-এর রিওয়ায়াত অপেক্ষা সহীহ হওয়ার অনেক বেশী সামঞ্জস্য।
হাদিস 3123 — Jami At Tirmidhi 47:175
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ جُنَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِجَهَنَّمَ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ بَابٌ مِنْهَا لِمَنْ سَلَّ السَّيْفَ عَلَى أُمَّتِي أَوْ قَالَ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم - " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামের সাতটি দরজা আছে (১৫ঃ ৪৪ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত)। তার মধ্যে একটি দরজা সেইসব লোকদের জন্য যারা আমার উম্মাতের বিরুদ্ধে অথবা বলেছেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উন্মাতের বিপক্ষে তলোয়ার চালিয়েছে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৫৩০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র মালিক ইবনু মিগওয়ালের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাওরাত ও ইনজীলে আল্লাহ তা'আলা উম্মুল কুরআনের সমতুল্য কিছু অবতীর্ণ করেননি। আর তা হচ্ছে সাবাউল মাসানী (বারবার পঠিত সপ্তক; সূরা আল-হিজর ৮৭ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত)। (আল্লাহ - তা'আলা বলেন) তা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টিত। আমার বান্দার জন্য তা-ই রয়েছে যা সে চায়। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), সিফাতুস সালাত। কুতাইবা আবদুল আজীজ ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আলা ইবনু 'আবদুর রাহমান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই (রাযিঃ)-এর নিকট বের হয়ে এলেন। তখন তিনি নামাযরত ছিলেন...পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেনঃ আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদের হাদীস অনেক বেশি দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ এবং এটি আবদুল হামীদ ইবনু জাফরের হাদীস অপেক্ষা অনেক বেশি সহীহ। একাধিক বর্ণনাকারী আলা ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার বাণী “আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে প্রশ্ন করব তারা যা করে সে বিষয়ে" (সূরাঃ হিজর৯২-৯৩) প্রসঙ্গে বলেনঃ অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা প্রসঙ্গে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র লাইস ইবনু আবূ সুলাইমের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসও এ হাদীস লাইস ইবনু আবূ সুলাইম হতে তিনি বিশর হতে তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন তবে মারফুরূপে বর্ণনা করেননি।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মুমিনের দূরদৃষ্টি সম্পর্কে সজাগ থাক। কারণ সে আল্লাহ্ তা'আলার নূরের সাহায্যে দেখে। তারপর তিনি পাঠ করেনঃ “নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য" (সূরাঃ আল-হিজর— ৭৫)। যঈফ, যঈফা (১৮২১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। কোন কোন তাফসীরকার আয়াতে উদ্ধৃত “মুতাওয়াসসিমীন" শব্দের অর্থ করেছেন “মুতাফাররিসীন" (দূরদৃষ্টি বা অন্তর দৃষ্টি সম্পন্ন লোক)।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুহরের (ফরযের) পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যে চার রাকাআত নামায (আদায় করা হয়, সাওয়াবের দিক হতে) তা শেষ রাতের চার রাকাআত নামাযের মত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এমন কোন জিনিস নেই যা ঐ সময় আল্লাহ্ তা'আলার গুণগান করে না। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেনঃ “এর ছায়া ডানে ও বায়ে ঢলে পড়ে আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিনীতভাবে সিজদাবনত হয়...." (সূরাঃ আন-নাহল- ৪৮-৫০) ..... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। যঈফ, সহীহা (১৪৩১) নং হাদীসের অধীনে আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আলী ইবনু আসিমের সূত্র ব্যতীত এটি প্রসঙ্গে আমরা কিছু জানি না।
হাদিস 3129 — Jami At Tirmidhi 47:181
হাসান Sahih Isnaadহাসান Sahih IsnaadহাসানIsnaad Hasan
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে চৌষট্টিজন আনসার ও ছয়জন মুহাজির শাহাদাত বরণ করেন। তাদের মধ্যে হামযাহ (রাযিঃ)-ও ছিলেন। কাফিররা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করে লাশ বিকৃত করেছিল। আনসারগণ বলেন, আমরা যদি এসব কাফিরকে কোন দিন কাবু করতে পারি তাহলে তাদের উপর এর দ্বিগুণ বদলা নেব। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন আসলো তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “যদি তোমরা শাস্তি দাওই তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যশীলদের জন্য তাইতো উত্তম"- (সূরা আন-নাহল ১২৬)। তখন এক ব্যক্তি বলল, আজকের পর হতে কুরাইশদের নাম থাকবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ চার ব্যক্তি ব্যতীত অন্য লোকদের হত্যা করা হতে তোমরা বিরত থাক। সনদ হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব।