। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে রাতে আমাকে (উর্ধ্বজগতে) ভ্রমণ করানো হয় সে রাতে আমি মূসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা ("আঃ)-এর দৈহিক গঠনাকৃতির বর্ণনা দেন। (তিনি বলেনঃ) তিনি এমন এক ব্যক্তি যার দেহ মধ্যমাকৃতির, তার চুল মধ্যম গোছের, খুব কোকড়ানোও নয়, আবার একেবারে সোজাও নয়। মনে হয় তিনি শানুআহ বংশের লোক। তিনি আরো বলেনঃ ঈসা (আঃ)-এর সাথেও আমি সাক্ষাৎ করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তার চেহারারও বর্ণনা দিলেন তিনি। তার দেহের গড়ন মধ্যম, শরীরের রং লাল এবং মনে হয় তিনি এইমাত্র গোসলখানা হতে বের হয়েছেন। ইবরাহীম (আঃ)-কেও আমি দেখেছি। তার বংশধরের মধ্যে আমিই তার দৈহিক আকৃতিতে সর্বাধিক সদৃশ। আমার সামনে দুটি পানপত্র পেশ করা হয়ঃ একটি দুধের এবং অন্যটি মদের। আমাকে বলা হল, আপনি এ দু'টির মধ্যে যেটা পান করতে চান সেটা নিন। আমি দুধের পাত্রটি নিয়ে তা পান করলাম। তারপর আমাকে বলা হল, আপনাকে ফিতরাতের (ইসলামের) পথ দেখানো হয়েছে বা আপনি ফিতরাতকে পেয়ে গেছেন। আপনি যদি মদের পাত্র নিতেন তবে আপনার উন্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। সহীহঃ বুখারী (৪৭০৯), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, যে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (মিরাজে) ভ্রমণ করানো হয় সে রাতে তার সামনে জিনপোষ আটা ও লাগাম বাধা একটি বোরাক আনা হয়। বোরাক তার পিঠে সাওয়ার হওয়াটা তার জন্য অসম্ভব করে তুললে জিবরীল (আঃ) তাকে বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কেন এ রকম আচরণ করছ? অথচ আল্লাহ তা'আলার সমীপে তার চেয়ে বেশি সম্মানিত কেউ তোমার পিঠে সওয়ার হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এতে বোরাক ঘৰ্মাক্ত হয়ে যায়। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটিকে আমরা শুধুমাত্র 'আবদুর রাজ্জাকের বর্ণিত হাদীস হিসেবেই জানি।
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা যখন বাইতুল মাকদিসে পৌঁছলাম, তখন জিবরীল (আঃ) তার আঙ্গুল দিয়ে পাথর ফাটান এবং তার সাথে বোরাক বাঁধেন। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যা মনে করল (এবং বলল, আপনার মিরাজে যাওয়ার দাবি সত্য হলে বাইতুল মাকদিসের একটি বর্ণনা দিন)। আমি হাজারে (হাতীমে) দাঁড়ালাম এবং আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদিসের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরলেন। আমি তাদের সামনে এর নিদর্শনসমূহের বর্ণনা দিলাম। মনে হল আমি যেন বাইতুল মাকদিসকেই দেখছি। সহীহঃ তাখরাজু ফিকহিস সীরাহ (১৪৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মালিক ইবনু সা'সাহ, আবূ সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তোমাকে আমরা চাক্ষুষভাবে যা দেখালাম তা এই লোকদের জন্য একটি পরীক্ষার বস্তু বানিয়ে রেখেছি”— (সূরা বনী ইসরাঈল ৬০)। আয়াতে উল্লেখিত “রুইয়া” প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এটা ছিল চাক্ষুস দর্শন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতের বেলা (মিরাজের সময়) বাইতুল মাকদিসে নিয়ে গিয়ে তা (যাবতীয় নিদর্শন) দেখানো হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, "কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত গাছটি"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৬০) হল যাক্কুম গাছ। সহীহঃ বুখারী (৪৭১০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “আর ফজরে কুরআন পাঠের স্থায়ী নীতি অবলম্বন কর। কেননা ফজরের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকা হয়"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৭৮)। এ আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ সময় রাতের ফেরেশতারা এবং দিনের ফেরেশতারা উপস্থিত হয়। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আলী ইবনু মুসহির আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে তিনি আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি ‘আলী ইবনু হুজুর আলী ইবনু মুসহির হতে, তিনি আমাশ হতে ...... . অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “সেদিন আমরা সব মানুষকে তাদের নেতাসহ আহবান করব।” (সূরা বনী ইসরাঈল- ৭১), এ আয়াত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (মুসলিম নেতাদের) একজনকে ডাকা হবে। তার কিতাব (আমলনামা বা কার্যবিবরণী) তার ডান হাতে দেয়া হবে। তার দেহ ষাট গজ লম্বা করা হবে। তার মুখমণ্ডল সাদা (আকর্ষণীয়) করা হবে। তার মাথায় মনিমুক্তার টুপি পরানো হবে এবং তা ঝিলকাতে থাকবে। সে তার সঙ্গীদের কাছে আসবে। তারা দূর হতেই তাকে দেখতে পাবে। তারা বলবে, "হে আল্লাহ! আমাদেরকেও এরূপ দান কর এবং এর মাধ্যমে বারকাত দান কর।” ইতিমধ্যে সে তাদের নিকটে পৌছে যাবে এবং তাদেরকে বলবে, তোমাদের জন্য সুসংবাদ। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য এরূপ পুরস্কার আছে। অপর দিকে কাফিরদের নেতার শরীরের রং কালো হবে। তার দেহ আদম আলাইহিস সালাম-এর মতই ষাট গজ লম্বা করা হবে। তাকেও একটি টুপি পরানো হবে। তার সঙ্গীরা দূর হতে তাকে দেখে বলবে, “আমরা এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিও না। এমতাবস্থায় সে তাদের নিকট এসে যাবে, আর তারা বলতে থাকবে, তুমি তাকে লাঞ্ছিত কর।” তারপর সে বলবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে অপমান করুন। কেননা তোমাদের প্রত্যেককে এভাবেই লাঞ্ছিত করা হবে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। সুদ্দীর নাম ইসমাঈল ইবনু আবদুর রহমান।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহ তা'আলার বাণী (অনুবাদ) “আশা করা যায় যে, তোমার প্রতিপালক তোমাকে মাকামে মাহমুদে পৌছে দিবেন”— (সূরা বনী ইসরাঈল ৭৯) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ এটা শাফা’আত। সহীহঃ সহীহাহ (২৬৩৯, ২৩৭০), আয যিলা-ল (৭৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। দাউদ আয-যাআফির হলেন দাউদ আল-আওদী, ইবনু ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসের চাচা।
হাদিস 3138 — Jami At Tirmidhi 47:190
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَحَوْلَ الْكَعْبَةِ ثَلاَثُمِائَةٍ وَسِتُّونَ نُصُبًا فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَطْعَنُهَا بِمِخْصَرَةٍ فِي يَدِهِ وَرُبَّمَا قَالَ بِعُودٍ وَيَقُولُ : (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا ) : (جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ ) . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَفِيهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ .
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় প্রবেশ করলেন। তখন কা'বার চারপাশে তিন শত ষাটটি মূর্তি স্থাপিত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের লাঠি বা কাঠ দিয়ে মূর্তিগুলোর গায়ে আঘাত করে সেগুলোকে ভূপাতিত করছিলেন আর বলছিলেনঃ সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। আর বাতিলের বিলুপ্তি অবশ্যম্ভাবী"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৮১)। "সত্য সমাগত এবং অসত্য কিছুই সৃজন করতে পারে না এবং তা পুনরাবৃত্তিও করতে পারে না”— (সূরা সাবা ৪৯)। সহীহঃ বুখারী (৪৭২০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তারপর তাকে (মাদীনায়) হিজরাতের হুকুম দেয়া হয়। তখন তার উপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “আর বলুনঃ হে আমার রব! আমাকে দাখিল করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার পক্ষ হতে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি" (সূরাঃ বাণী ইসরাঈল- ৮০) সনদ দুর্বল। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ