। আবু রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ হে চাচা! আমি কি আপনার সাথে সদ্ব্যবহার করব না, আমি কি আপনাকে ভালবাসব না, আমি কি আপনার উপকার করব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ। তিনি বললেনঃ হে চাচা চার রাকাআত নামায আদায় করুন, প্রতি রাকাআতে সূরা আল-ফাতিহা ও এর সাথে একটি করে সূরা পাঠ করুন। কিরাআত পাঠ শেষ করে রুকূ করার পূর্বে পনের বার বলুন, “আল্লাহু আকবার ওয়ালু হামদু লিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।" অতঃপর রুকুতে গিয়ে দশবার, রুকু হতে মাথা তুলে দশবার, সিজদা্তে গিয়ে দশবার, সিজদা হতে মাথা তুলে দশবার, আবার সিজদা্য় গিয়ে দশবার এবং সিজদা হতে মাথা তুলে দাড়ানোর পূর্বে দশবার এটা পাঠ করুন। এভাবে প্রতি রাকাআতে পচাত্তর বার পাঠ করা হবে, চার রাকাআতে সর্বমোট তিনশো বার হবে। আপনার টিলা পরিমাণ গুনাহ হলেও আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিবেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিদিন এরকম নামায আদায় করতে কে পারবে? তিনি বললেনঃ প্রতিদিন আদায় করতে না পারলে প্রতি শুক্রবারে (সপ্তাহে একবার) আদায় করুন। যদি প্রতি জুমুআয় আদায় করতে না পারেন তবে প্রতি মাসে আদায় করুন। (রাবী বলেন,) তিনি এভাবে বলতে বলতে শেষে বললেনঃ বছরে একবার আদায় করে নিন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৮৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিভাবে সালাম করতে হবে তা আমরা জেনেছি, কিন্তু আপনার প্রতি কিভাবে দুরূদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বলো, “হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ কর যেভাবে ইবরাহীমের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত মর্যাদাবান। (হে আল্লাহ!) তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনদের বারকাত দান কর, যেভাবে তুমি ইবরাহীম ও তার পরিবার-পরিজনদের বারকাত দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।" আবদুর রহমান ইবনু আবু লাইলা বলেন, আমরা "তাদের সাথে আমাদের প্রতিও” শব্দটুকুও বলতাম। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯০৪), বুখারী ও মুসলিম এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু হুমাইদ, আবু মাসউদ, তালহা, আবু সাঈদ, বুরাইদা, যাইদ ইবনু খারিজা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ কাব ইবনু উজরার হাদীসটি হাসান সহীহ। আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলার উপনাম আবু ঈসা। আর আবু লাইলার নাম ইয়াসার।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরূদ পাঠ করেছে। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২৮০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশটি রহমত বর্ষণ করেন এবং তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখে দেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশটি রহমত বর্ষণ করেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১৩৬৯), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুর রহমান ইবনু আওফ, আমির ইবনু রবী'আ, আম্মার, আবু তালহা, আনাস ও উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফিয়ান সাওরী ও অপরাপর মনীষী বলেছেন, প্রতিপালক প্রভুর পক্ষ হতে ‘সালাত’ শব্দের অর্থ রহমত’ এবং ফেরেশতাদের পক্ষ হতে সালাতের’ অর্থ ‘ক্ষমা প্রার্থনা।’
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দুআ আকাশ যমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, তোমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যতক্ষণ তুমি দুরূদ পাঠ না কর ততক্ষণ তার কিছুই উপরে উঠে না। -হাসান। সহীহাহ– (২০৫৩)।
। আলা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (ইয়াকুব) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ যার দীন প্রসঙ্গে সঠিক জ্ঞান আছে কেবল সেই যেন আমাদের বাজারে ব্যবসা করে। -সনদ হাসান। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবু ঈসা বলেনঃ 'আলা ইবনু আবদুর রহমান তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) ও অন্যান্যদের নিকট হাদীস শুনেছেন। 'আলার পিতা আবদুর রহমানও তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবু হুরাইরা, আবু সাঈদ আল-খুদরী ও ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। আবদুর রহমানের পিতা ইয়াকুব একজন বয়বৃদ্ধ তাবিঈ। তিনি উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং তার নিকট হতেও হাদীস বর্ণনা করেছেন